বর্ষা আসতেই কাঠের আসবাবে ছত্রাক ধরছে? জানুন ঘরোয়া উপায়ে ৭টি স্থায়ী সমাধান

অনেকেই বাজারচলতি রাসায়নিক ব্যবহার করে কাঠের ফার্নিচার চিরতরে নষ্ট করে ফেলেন। অথচ খুব সাধারণ কিছু সতর্কতা এবং ঘরোয়া উপকরণের সঠিক ব্যবহারে বরষায় কাঠের আসবাবকে রাখতে পারেন একদম নতুন, শুকনো ও ছত্রাকমুক্ত।

Published on: Aug 12, 2026, 15:18:48 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বর্ষাকাল আবহাওয়ায় দারুণ স্বস্তি আনলেও আমাদের ঘরের মূল্যবান আসবাবপত্রের জন্য নিয়ে আসে এক নীরব দুর্যোগ। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় কাঠের আলমারি, ড্রেসিং টেবিল, চেয়ার কিংবা খাট ইত্যাদিতে অতি দ্রুত সাদা বা ধূসর রঙের ছাতা বা ছত্রাক (Fungus/Mold) ধরে যায়। কেবল আসবাবপত্রের নন্দনকানন সৌন্দর্য নষ্ট হওয়াই নয়, এই ছত্রাকের স্পোর বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে ঘরে অ্যালার্জি, সর্দি-কাশি এবং শ্বাসকষ্টের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি করে।

বর্ষা আসতেই কাঠের আসবাবে ছত্রাক ধরছে? জানুন ঘরোয়া উপায়ে ৭টি স্থায়ী সমাধান
বর্ষা আসতেই কাঠের আসবাবে ছত্রাক ধরছে? জানুন ঘরোয়া উপায়ে ৭টি স্থায়ী সমাধান

অনেকেই বাজারচলতি রাসায়নিক ব্যবহার করে কাঠের ফার্নিচার চিরতরে নষ্ট করে ফেলেন। অথচ খুব সাধারণ কিছু সতর্কতা এবং ঘরোয়া উপকরণের সঠিক ব্যবহারে বরষায় কাঠের আসবাবকে রাখতে পারেন একদম নতুন, শুকনো ও ছত্রাকমুক্ত। কাঠের আসবাবে ছত্রাক ধরার মূল কারণ এবং তা প্রতিরোধের ৭টি সেরা সহজ উপায় নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

১. বর্ষায় কাঠের আসবাবে ছত্রাক রোধের ৭টি জাদুকরী ঘরোয়া উপায়

ক) ভিনেগার ও জলের ম্যাজিক স্প্রে:

হোয়াইট ভিনেগার হলো প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ফাঙ্গাল উপাদান। সমপরিমাণ জল ও হোয়াইট ভিনেগার মিশিয়ে একটি স্প্রে বোতলে ভরে নিন। ছত্রাক আক্রান্ত স্থানে এটি স্প্রে করে ৫-১০ মিনিট রেখে দিন, তারপর একটি নরম সুতির কাপড় দিয়ে আলতো করে মুছে নিন। এতে ছত্রাকের জ্যান্ত স্পোরগুলো একেবারে ধ্বংস হয়ে যায়।

খ) নিম তেল বা টি ট্রি অয়েল প্রয়োগ:

ভিনেগার দিয়ে মোছার পর কাপড়ে কয়েক ফোঁটা নিম তেল বা টি ট্রি অয়েল নিয়ে কাঠের ওপর পাতলা করে বুলিয়ে দিন। প্রাকৃতিক এই তেলগুলো কাঠের ওপর একটি প্রতিরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে, যা বর্ষার ভেজা বাতাসে নতুন করে ফাঙ্গাস জন্মাতে বাধা দেয়।

গ) আসবাবপত্র দেওয়াল থেকে দূরে রাখা:

বর্ষাকালে ঘরের দেওয়ালে স্যাঁতসেঁতে ভাব তৈরি হয়। কাঠের আসবাবপত্র দেওয়ালের সাথে একদম ঠেসে রাখলে ভেজা ভাব কাঠে প্রবেশ করে দ্রুত ছত্রাক তৈরি করে। তাই সব সময় আসবাবপত্র দেওয়াল থেকে অন্তত ৩-৪ ইঞ্চি দূরে সরিয়ে রাখুন।

ঘ) সিলিকা জেল ও কর্পূরের জাদু:

কাঠের আলমারি, ড্রয়ার বা ট্রাঙ্কের ভেতরের স্যাঁতসেঁতে ভাব দূর করতে সিলিকা জেলের (Silica Gel) ছোট প্যাকেট রেখে দিন। এ ছাড়া পাতলা কাপড়ে কর্পূর, লবঙ্গ ও নিমপাতা বেঁধে ড্রয়ারের কোনায় রাখলে অতিরিক্ত আর্দ্রতা শোষিত হয় এবং পোকা ও ছত্রাকের উপদ্রব বন্ধ হয়।

ঙ) পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ও ক্রস ভেন্টিলেশন:

যেসব ঘরে পর্যাপ্ত রোদ বা আলো-বাতাস ঢোকে না, সেখানেই ছত্রাকের তাণ্ডব সবচেয়ে বেশি হয়। বৃষ্টি থামলেই ঘরের জানালা-দরজা খুলে ক্রস ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা করুন। সম্ভব হলে ফ্যান চালিয়ে বা টেবিল ফ্যান আসবাবের দিকে দিয়ে ভেজা বাতাস শুকিয়ে নিন।

চ) চক বা বেকিং সোডা ব্যবহার:

অতিরিক্ত আর্দ্রতা শুষে নিতে বেকিং সোডা বা স্কুলের লেখার সাধারণ চক দারুণ কাজ করে। ছোট বাটিতে বেকিং সোডা বা কয়েক টুকরো চক আলমারির কোণে রেখে দিলে তা ভেজা আবহাওয়া শুষে নিয়ে পরিবেশ শুষ্ক রাখে।

ছ) কাঁচা জলে ভেজা কাপড় দিয়ে না মোছা:

বর্ষায় ধুলোবালি পরিষ্কার করতে ভুলেও অতিরিক্ত ভিজা কাপড় ব্যবহার করবেন না। শুকনো সুতির কাপড় অথবা সামান্য তারপিন তেল/উড পলিশ স্প্রে দিয়ে আসবাব পরিষ্কার করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

২. ছত্রাক পরিষ্কার করার সময় প্রয়োজনীয় সতর্কতা

  • মাস্ক ও গ্লাভস পরা: ছত্রাক পরিষ্কার করার সময় মুখে মাস্ক এবং হাতে গ্লাভস পরুন, যাতে ফাঙ্গাসের ক্ষতিকর স্পোর শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করতে না পারে।
  • খোলা জায়গায় পরিষ্কার: সম্ভব হলে ঘরের জানালা খোলা রেখে আলো-বাতাসের মধ্যে পরিষ্কারের কাজ সম্পন্ন করুন।

দামী কাঠের আসবাব আমাদের ঘরের সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যের স্মারক। বর্ষার শুরুতেই এই সাধারণ ঘরোয়া নিয়মগুলো মেনে চললে কোনো প্রকার বাড়তি খরচ ছাড়াই আপনার সাধের কাঠের ফার্নিচার থাকবে সারাবছর ঝকঝকে ও ফাঙ্গাসমুক্ত।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More