আকাশছোঁয়া গ্যাসের দাম! রান্নায় আনুন এই সামান্য বদল, মাসের শেষে বাঁচবে বিপুল টাকা

রান্নার ধরনে সামান্য বদল। তাতেই বাঁচতে পারে অনেকটা টাকা। কীভাবে এই মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে সংসার খরচ বাঁচাবেন, জেনে নিন। 

Published on: Mar 12, 2026 9:36 AM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইজরায়েল এবং ইরানের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সংঘাতের প্রভাব বিশ্ববাজারে স্পষ্ট। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতের মধ্যবিত্তের রান্নাঘরেও। রান্নার গ্যাসের (LPG) দাম প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়ছে। এই অবস্থায় সাশ্রয় করাই হলো বুদ্ধিমত্তার পরিচয়। রান্নার ধরণ এবং কিছু ছোটখাটো কৌশলে পরিবর্তন আনলে খুব সহজেই গ্যাস সিলিন্ডারের খরচ ২০% থেকে ৩০% পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব।

আকাশছোঁয়া গ্যাসের দাম! রান্নায় আনুন এই সামান্য বদল, মাসের শেষে বাঁচবে বিপুল টাকা
আকাশছোঁয়া গ্যাসের দাম! রান্নায় আনুন এই সামান্য বদল, মাসের শেষে বাঁচবে বিপুল টাকা

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা আর বিশ্ববাজারের মূল্যবৃদ্ধির জেরে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। রান্নার গ্যাসের দাম যে হারে বাড়ছে, তাতে রান্নার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা এখন বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজন। সঠিক উপায়ে রান্না করলে আপনার সাধের গ্যাস সিলিন্ডারটি বর্তমানের চেয়ে অনেক বেশি দিন চলবে।

১. রান্নার আগে প্রস্তুতি নিন

গ্যাস সাশ্রয় করার প্রথম ধাপ হলো 'মিস-এন-প্লেস' (Mise en place) বা রান্নার সমস্ত উপকরণ আগে থেকে গুছিয়ে রাখা। অনেক সময় আমরা উনুন জ্বালিয়ে দিয়ে সবজি কাটতে বসি বা মশলা খুঁজি। এতে প্রচুর গ্যাস অপচয় হয়। উনুন জ্বালানোর আগেই সবজি কাটা, ধোয়া এবং মশলা বাটা সেরে ফেলুন। কড়াই গরম হওয়ার সাথে সাথেই যেন রান্না শুরু করা যায়, তা নিশ্চিত করুন।

২. ঢাকা দিয়ে রান্নার অভ্যাস করুন

রান্না করার সময় কড়াই বা পাত্র সর্বদা ঢাকা দিয়ে রাখুন। পাত্র খোলা রেখে রান্না করলে বাষ্পের সাথে তাপ বেরিয়ে যায়, ফলে রান্না হতে দেরি হয় এবং গ্যাস বেশি খরচ হয়। ঢাকা দিয়ে রান্না করলে বাষ্প পাত্রের ভেতরেই আটকে থাকে, যা খাবার দ্রুত সেদ্ধ করতে সাহায্য করে। এটি কেবল গ্যাসই বাঁচায় না, খাবারের পুষ্টিগুণও বজায় রাখে।

৩. প্রেসার কুকারের সঠিক ব্যবহার

ডাল, মাংস বা সেদ্ধ হওয়ার মতো সবজিগুলো সাধারণ পাত্রের বদলে প্রেসার কুকারে রান্না করুন। এটি সাধারণ কড়াইয়ের চেয়ে অন্তত ৭০% দ্রুত রান্না করতে পারে। চাল বা ডাল রান্নার অন্তত আধা ঘণ্টা আগে ভিজিয়ে রাখুন। ভেজানো চাল-ডাল দ্রুত সেদ্ধ হয়, ফলে জ্বালানি কম লাগে।

৪. ছোট বার্নারের ব্যবহার

অনেকেই তাড়াহুড়ো করে সবসময় বড় বার্নারে রান্না করেন। কিন্তু ছোট পাত্রের জন্য বড় বার্নার ব্যবহার করলে তাপ পাত্রের বাইরে বেরিয়ে যায়। পাত্রের তলার আয়তন অনুযায়ী বার্নার নির্বাচন করুন। রান্নার শিখা যেন পাত্রের বাইরে না বেরোয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। মনে রাখবেন, সবসময় 'সিম' বা মাঝারি আঁচে রান্না করলে গ্যাস সবচেয়ে কম খরচ হয়।

৫. ফ্রিজের খাবার সরাসরি উনুনে দেবেন না

বর্তমান যুগে আমরা অনেক খাবার ফ্রিজে রাখি। ফ্রিজ থেকে বের করা কনকনে ঠান্ডা দুধ বা সবজি সরাসরি ওভেনে গরম করতে দেবেন না। এতে খাবারটি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আসতে এবং গরম হতে দ্বিগুণ জ্বালানি খরচ করে। রান্নার অন্তত এক ঘণ্টা আগে ফ্রিজ থেকে খাবার বের করে রাখুন।

৬. বার্নার পরিষ্কার রাখুন

গ্যাস স্টোভের বার্নার নোংরা থাকলে শিখা নীল না হয়ে কমলা বা হলুদ রঙের হয়। এটি অসম্পূর্ণ দহনের প্রতীক, যার ফলে গ্যাস অপচয় হয় বেশি অথচ তাপ পাওয়া যায় কম। নিয়মিত বার্নার পরিষ্কার করুন। নীল শিখা মানেই আপনার ওভেনটি সঠিকভাবে কাজ করছে।

৭. পরিমিত জলের ব্যবহার

রান্নায় অতিরিক্ত জল ব্যবহার করবেন না। জল যত বেশি হবে, তা শুকাতে তত বেশি গ্যাস খরচ হবে। রান্নায় আন্দাজমতো জল দিলে সময় ও জ্বালানি দুই-ই বাঁচবে।

ইজরায়েল-ইরান যুদ্ধের মতো আন্তর্জাতিক বিষয়গুলো আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই, কিন্তু আমাদের ঘরের খরচ নিয়ন্ত্রণ করা অবশ্যই সম্ভব। সামান্য সচেতনতা আর রান্নার অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনলে বর্ধিত মূল্যের বাজারেও আপনি আপনার সংসারকে স্বস্তি দিতে পারেন। আজই এই পদ্ধতিগুলো প্রয়োগ করে দেখুন, তফাতটা আপনার মাসের খরচেই বুঝতে পারবেন।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More