Howrah Durga Puja 2026: হাওড়ার গঙ্গাধরপুর নেতাজী বাণী সংঘের দুর্গাপুজোর থিম নতুন ধানের উৎসব ‘নবান্ন’। নতুন প্রজন্মকে তাদের বার্তা, শুধু নব আনন্দে নয়, বরং 'নব অন্নে জাগো আজি নবরবিকিরণে'।
দুর্গোৎসবের ঢের আগে থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় কাউন্টডাউন কমবেশি আমাদের সকলেরই চোখে পড়ে। 'পুজোর বাকি ১০০ দিন', 'আর মাত্র ৩০ দিনের অপেক্ষা', এজাতীয় পোস্টে কার্যত ভরে যায় ফেসবুক, ইনস্টা, হোয়াটসঅ্যাপ স্টেটাস। আসলে 'পুজো আসছে' এই অনুভূতিটাই বাঙালির মনকে অনাবিল আনন্দে ভরিয়ে দেয়। এই অপেক্ষাটা খুবই মধুর। দুর্গাপুজোর অপেক্ষা বাঙালি আজও করে, ভবিষ্যতেও করবে এবং আগেও করত। সময় বিশেষে সেই মধুর অনুভূতির প্রকাশভঙ্গিটা বদলেছে মাত্র।
কালের সরণি বেয়ে ক্রমশ পিছোতে থাকলে সামাজিক চাকচিক্য জৌলুস হারাবে বলে মনে হতে পারে, তবে নিয়ন আলোয় মোড়া উৎসব প্রতিযোগিতায় কোথাও একটা পিছিয়ে পড়বে অকৃত্রিম আবেগের কাছে। আবেগের ঘরে খিল দিয়ে বাঙালি কখনো দুর্গোৎসবে মাতেনি। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে পরিবর্তনকে আপন করতে হয়। তাই বলে কি শিকড় ভুলব আমরা? ভুলিনি।
ধনধান্য পুষ্প ভরা রাঙা মাটিতেই গাঁথা বাঙালি সংস্কৃতির মূল। সুজলাং সুফলাং শস্যশ্যামলাং মায়ের সেই কোলেই বেড়ে উঠছে কৃষিপ্রধান বাংলার আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট ও কৃষ্টি। দুর্গোৎসব যদি হয় বাঙালি সংস্কৃতির প্রধান ধারক, এই সংস্কৃতির বাহক নিঃসন্দেহে নবান্ন। আশ্বিনেই অঘ্রাণের ঘ্রাণ গ্রাম বাংলার রন্ধে রন্ধে বাহিত হতো চিরকাল। নতুন ধানের সাথে প্রাণের গান অনুরণিত হতো আকাশে বাতাসে। পিঠেপুলি-পাটিসাপটার সরস গন্ধ আর বাউল সুর মিলেমিশে তৈরি করত এক অকল্পনীয় সম্মোহন।
সময়ের স্রোত এমনই, ভাসতে থাকলে ফেরার উপায় নেই। তবে সেই স্মৃতিটুকু তো ফেরানো যায়! জেন আলফা মাটির প্রলেপে ধানের গোলা চোখে দেখবে কেবল ছবির বইয়ে। জেন জি-র অনেকেই নবান্ন বলতে বোঝে বাংলার প্রশাসনিক সচিবালয়। সেই নামের প্রেক্ষিত এবার হাওড়ার গঙ্গাধরপুর নেতাজী বাণী সংঘ তুলে ধরল তাদের দুর্গোৎসবে। ২২তম বর্ষে তাদের দুর্গাপুজোর থিম নতুন ধানের উৎসব ‘নবান্ন’। নতুন প্রজন্মকে তাদের বার্তা, শুধু নব আনন্দে নয়, বরং 'নব অন্নে জাগো আজি নবরবিকিরণে'।এ বছর পঞ্চমীর সন্ধ্যায় গ্রামীণ হাওড়ার এই ঐতিহ্যশালী দুর্গাপুজোর সুদৃশ্য মণ্ডপের দ্বারোদ্ঘাটন করলেন প্রাক্তন ভারতীয় ফুটবলার প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়।