HT Bangla Exclusive: দুবার কিডনি প্রতিস্থাপনের পরও দুবার মা হলেন তরুণী! বিরল সাফল্য কলকাতার হাসপাতালে
Successful Pregnancy After Kidney Transplant: দুবার কিডনি প্রতিস্থাপন হয়েছিল লালিয়ানের। কিন্তু তারপরেও সফলভাবে মা হন তিনি। ২০২৩ সালের পর ২০২৫ সালে ফের মা হলেন লালিয়ান। তাঁর দ্বিতীয় মাতৃত্ব চিকিৎসাবিজ্ঞানেরও বিরল সাফল্য বটে!
আধুনিক চিকিৎসার এক অনন্য উদাহরণ তৈরি হল কলকাতায়। নেপথ্যে দুই চিকিৎসক ও মিজোরামের আইজলের ৩৭ বছর বয়সী মহিলা লালিয়ান পুই। দীর্ঘদিন কিডনি রোগের সঙ্গে লড়াই করার পর তাঁকে কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হয়। একবার নয়, দুবার হয় প্রতিস্থাপন। তার পরেও স্বাভাবিকভাবে মা হন ২০২৩ সালে। এবার প্রায় রেকর্ড গড়ে ৩৭ বছর বয়সে দ্বিতীয়বার মাতৃত্বের স্বাদ অনুভব করলেন লালিয়ান। নেপথ্যে যে দুজন চিকিৎসকের অবদানের কথা না বললেই নয়, তাঁরা হলেন ডক্টর রোহিত রুংটা ও ডক্টর শিল্পীতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চূড়ান্ত ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থার মধ্যেও সফলভাবে মা হতে লালিয়ানকে সাহায্য করেছেন কলকাতার এই দুই চিকিৎসক ।

শারীরিক-মানসিক দিক থেকে ছিল নানা চ্যালেঞ্জ
ডক্টর রোহিত রুংটা (সিনিয়র কনসালট্যান্ট, নেফ্রোলজি ও মণিপাল হাসপাতাল, ইএম বাইপাস) ও ডক্টর শিল্পীতা বন্দ্যোপাধ্যায় (কনসালট্যান্ট, প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগ, মণিপাল হাসপাতাল, ইএম বাইপাস) প্রথম থেকেই লালিয়ান পুইয়ের লড়াইয়ের সাক্ষী থেকেছেন। ক্রনিক কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর ২০১২ সালে প্রথম কিডনি প্রতিস্থাপন করান লালিয়ান। কিডনি দিয়েছিলেন তাঁর মা। পরে গ্রাফট রিজেকশন হওয়ায় ২০২০ সালে তাঁকে দ্বিতীয়বার কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হয়। সে বার কিডনি দেন তাঁর ভাই। তখন থেকেই ইমিউনোস্যাপ্রেসিভ ওষুধ খেতে হত তাঁকে। শরীর যাতে প্রতিস্থাপিত অঙ্গটিকে প্রত্যাখ্যান না করে, তার জন্য ইমিউনোস্যাপ্রেসেন্ট খেতে হয়। কিন্তু এই ওষুধ গর্ভাবস্থায় নানা সমস্যা তৈরি করতে পারে। শারীরিক ও মানসিক সেইসব চ্যালেঞ্জ জয় করে ২০২৩ সালে মা হয়েছিলেন লালিয়ান। এবার ২০২৫ সালেও গর্ভধারণ করে মা হলেন তিনি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে যা অত্যন্ত বিরল ও অনন্য।
প্রথমে কন্যা এবারে পুত্র
প্রথম গর্ভাবস্থায় ২০২৩ সালে এক সুস্থ কন্যাসন্তানের জন্ম দেন লালিয়ান। এর দুই বছর পর ২০২৫ সালে আবারও স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণ করেন তিনি। ৩৬ সপ্তাহ ৬ দিনে সিজারিয়ান পদ্ধতিতে জন্ম হল এক সুস্থ পুত্রসন্তানের। অস্ত্রোপচার করার সময় কোনও বড় জটিলতা দেখা দেয়নি। এমনকি তাঁর কিডনিরও গোটা সময় জুড়ে সুস্থ ছিল।
কী বলছেন চিকিৎসকরা?
ডা. রোহিত রুংটার কথায়, ‘কিডনি প্রতিস্থাপন হওয়া রোগীর ক্ষেত্রে গর্ভধারণ খুবই বিরল ও জটিল। কারণ এই রোগীদের সারাজীবন ইমিউনোস্যাপ্রেসিভ ওষুধ নিতে হয়। লাললিয়ান পুইয়ের ক্ষেত্রে বিশেষত্ব, তিনি একবার নয়, দু’বার স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণ করেছেন, তাও আবার দুবার কিডনি প্রতিস্থাপনের পর। গর্ভাবস্থায় তাঁর কিডনি ফাংশন ও শিশুর বৃদ্ধির দিকে নজরে রেখেছিলাম আমরা। দুক্ষেত্রেই অসামান্য সাফল্য পেয়েছি।’
‘পরপর দুইবার গর্ভধারণ অত্যন্ত বিরল’
ডক্টর শিল্পীতা ব্যানার্জি বলেন, ‘একজন রেনাল ট্রান্সপ্লান্ট রোগীর পরপর দুইবার গর্ভধারণ অত্যন্ত বিরল। এই ক্ষেত্রে প্রতিটি পদক্ষেপ খুব সতর্কভাবে নিতে হয়—ওষুধের ডোজ, কিডনির সুরক্ষা, শিশুর বৃদ্ধি—সব কিছু নিয়মিত পর্যবেক্ষণে ছিল। রোগীর সাহস এবং আমাদের টিমের সবার মিলিত পরিশ্রমেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে।’
কী বললেন লালিয়ান?
সদ্য দ্বিতীয়বার মা হওয়া লাললিয়ান পুইয়ের কথায়, ‘দীর্ঘদিন কিডনি রোগে ভুগে এবং দুইবার ট্রান্সপ্লান্ট করানোর পর আমি কখনও ভাবিনি মা হতে পারব। কিন্তু ডক্টর রোহিত রুংটা ও ডক্টর শিল্পীতা ব্যানার্জি অবিরাম যত্ন ও উৎসাহের জন্য আমি আজ দুই সন্তানের মা। তাঁরা আমাকে শুধু চিকিৎসা দেননি, নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহসও দিয়েছেন।’












