HT Bangla Exclusive: প্রাণসংশয় ছিল শ্রেয়সের? প্লীহার আঘাত কতটা গুরুতর? HT বাংলাকে জানালেন চিকিৎসক
HT Bangla Exclusive Shreyas Iyer Injury: প্রাণসংশয় হতে পারত শ্রেয়স আইয়ারের? প্লীহায় আঘাত কতটা গুরুতর? কতদিন লাগবে সুস্থ হয়ে উঠতে? সবটা নিয়ে HT বাংলার সঙ্গে কথা বললেন চিকিৎসক।
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে শেষ ওয়ান ডে ম্যাচ খেলতে গিয়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন শ্রেয়স আইয়ার। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্লীহা থেকে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয় তাঁর। এর জন্য তাকে প্রথমে আইসিইউ-তে রাখা হয়েছিল। তারপর সেখান থেকে বের করাও হয়েছে। কিন্তু এই মুহূর্তে চিকিৎসকদের নজরদারিতেই থাকতে হচ্ছে তাঁকে। বিসিসিআই সূত্রের খবর, পরিবারের কোনও এক ব্যক্তি সিডনিতে উড়ে যাবেন তাঁর পাশে থাকার জন্য।

প্লীহাতে গুরুতর আঘাত ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের জেরে প্রাণসংশয় হতে পারত শ্রেয়সের। কিন্তু আদতে কী এই অঙ্গ? বাম পাঁজরের আঘাত কেন গুরুতর? এই প্রসঙ্গেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে কথা বললেন চিকিৎসক প্রদীপ্ত শেট্টি (ডাইরেক্টর, গ্যাস্ট্রোএনটেরোলজি, মণিপাল হাসপাতাল, ইএম বাইপাস ও মুকুন্দপুর)
HT বাংলা: প্লীহাতে আঘাত কেন এমন প্রাণঘাতী হতে পারে? আদতে এই অঙ্গের কাজ কী?
চিকিৎসক: প্লীহা বাম পাঁজরের ঠিক নিচে পেটের উপরের বাম দিকে অবস্থিত একটি নরম, হাতের মুঠোর সাইজের অঙ্গ। এটি পুরনো বা ক্ষতিগ্রস্ত লোহিত রক্তকণিকা অপসারণ করে রক্তকে পরিস্রুত করে। প্লেটলেট সংরক্ষণ করে এবং শ্বেত রক্তকণিকা তৈরি করে শরীরকে সংক্রমণ মোকাবিলায় সহায়তা করে। এটি রক্ত ভাণ্ডার হিসাবেও কাজ করে, আঘাত বা শক-এর মতো জরুরি পরিস্থিতিতে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দেয়। প্লীহা ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে, তবে এটি না থাকলে শরীর সংক্রমণের হার আরও বেড়ে যায়।
HT বাংলা: এই ধরনের সমস্যায় ক্ষত শুকাতে কতক্ষণ সময় লাগে?
চিকিৎসক: ক্ষত নিরাময়ের সময় প্লীহায় কতটা আঘাত লেগেছে, তার উপর নির্ভর করে। সামান্য প্লীহার আঘাত (গ্রেড I বা II) সঠিক বিশ্রাম এবং ডাক্তারি পর্যবেক্ষণ ঠিক থাকলে ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে সেরে ওঠে। মাঝারি থেকে গুরুতর আঘাত (গ্রেড III বা IV) সম্পূর্ণ নিরাময়ের জন্য ২ থেকে ৩ মাস বা তার বেশি সময় নিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে যথেষ্ট রক্তপাত হলে, অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে। শ্রেয়সের মতো অভ্যন্তরীণ রক্তপাত বা জটিলতা হলে হাসপাতালে ভর্তি এবং কড়া নজরদারি জরুরি।
HT বাংলা: সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে চলাফেরা শুরু করতে কতক্ষণ সময় লাগবে?
চিকিৎসক: রোগীদের প্রথম কয়েক সপ্তাহ সম্পূর্ণ বিশ্রাম নিতে বলা হয়। সাধারণত ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ পর হালকা চলাফেরা শুরু করা যেতে পারে। তবে কঠোর কার্যকলাপ, খেলাধুলা বা ভারী জিনিস তোলা অন্তত ৮ থেকে ১২ সপ্তাহের জন্য বা ডাক্তার অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত এড়িয়ে চলতে হবে। আঘাতের গভীরতা এবং রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উপর নির্ভর করে সুস্থ হয়ে উঠতে ৩ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। শারীরিক কার্যকলাপ আবার শুরু করার আগে ফলো-আপ স্ক্যান করা গুরুত্বপূর্ণ।
HT বাংলা: বুকের নিচের অংশে আঘাত লাগার পর কি চলাফেরায় সমস্যা হতে পারে?
চিকিৎসক: হ্যাঁ, পারে। বুক বা পেটের উপরের অংশে সরাসরি আঘাত প্লীহা বা কাছাকাছি অঙ্গ যেমন যকৃতে আঘাত করতে পারে। এই ধরনের আঘাতের ফলে প্রায়শই অভ্যন্তরীণ রক্তপাত, ব্যথা হয়। এর ফলে চলাফেরা সীমিত হয়ে যায়। গভীরভাবে শ্বাস নেওয়া, ঝুঁকে হাঁটা বা মোচড় দিলে অস্বস্তি হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে, রক্তের ক্ষতির কারণে রোগীর মাথা ঘোরা বা জ্ঞান হারানোর মতো ঘটনা ঘটতে পারে। যা চলাফেরাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য সঠিক বিশ্রাম এবং ডাক্তারী তত্ত্বাবধান অত্যন্ত জরুরি।
HT বাংলা: এই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে আমাদের কীভাবে চলাফেরা করা উচিত?
চিকিৎসক: প্লীহায় আঘাত লাগার পর ধীরে ধীরে এবং সাবধানে চলাফেরা করা গুরুত্বপূর্ণ। হঠাৎ ঝাঁকুনি, ঝুঁকে পড়া বা কোমর মোচড়ানো এড়িয়ে চলুন। বিছানা থেকে ওঠার সময় প্রথমে একপাশে গড়িয়ে তারপর ধীরে ধীরে উঠুন। ভারী বস্তু তোলা বা পেটের উপর চাপ দেওয়া এড়িয়ে চলুন। শুধুমাত্র ডাক্তার বললে পরই হালকা কার্যকলাপ শুরু করুন। সুস্থতার সময় চাপ কমাতে এবং আঘাতপ্রাপ্ত স্থান রক্ষা করার জন্য কখনও কখনও একটি সহায়ক অ্যাবডোমিনাল বাইন্ডার পরার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।
HT বাংলা: প্লীহার আঘাতের সাথে কী কী লক্ষণ দেখা যায়?
চিকিৎসক: প্লীহার আঘাতের সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে:
১. পেটের উপরের বাম অংশে বা বাম কাঁধে ব্যথা বা যন্ত্রণা (যা Kehr's sign*নামে পরিচিত)
২. বমি বমি ভাব, বমি, বা মাথা ঘোরা
৩. নিম্ন রক্তচাপ এবং দ্রুত হৃদস্পন্দন (অভ্যন্তরীণ রক্তপাতের লক্ষণ)
৪. রক্ত ক্ষতির কারণে ক্লান্তি বা বিভ্রান্তি
৫. পেটের চারপাশে ফোলা বা কালশিটে পড়া
পাঠকদের প্রতি: প্রতিবেদনটি চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে তাঁর মতামতের ভিত্তিতে লেখা হয়েছে। এটি সমস্যাটি সম্পর্কে সাধারণ ধারণার উপর আলোকপাত করা মাত্র। ব্যক্তিবিশেষে প্রতিটি সমস্যার চিকিৎসা এবং নিরাময়ের পদ্ধতি পৃথক।
E-Paper

