ইনস্ট্যান্ট কফি নাকি ফিল্টার কফি, কোনটি আপনার জন্য ভালো? জেনে নিয়ে তবেই পান করুন

ঝটপট বানিয়ে নেওয়া 'ইনস্ট্যান্ট কফি' নাকি সময় নিয়ে তৈরি করা 'ফিল্টার কফি'? স্বাদে, গন্ধে এবং পুষ্টিগুণে এই দুই ধরনের কফির মধ্যে রয়েছে আকাশ-পাতাল পার্থক্য।

Published on: Jan 12, 2026, 11:19:09 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

সকালবেলার এক কাপ ধোঁয়া ওঠা কফি আমাদের পুরো দিনের ক্লান্তি নিমেষে দূর করে দেয়। তবে কফি প্রেমীদের মধ্যে চিরকালীন এক বিতর্ক রয়েছে— কোনটি সেরা? ঝটপট বানিয়ে নেওয়া 'ইনস্ট্যান্ট কফি' নাকি সময় নিয়ে তৈরি করা 'ফিল্টার কফি'? স্বাদে, গন্ধে এবং পুষ্টিগুণে এই দুই ধরনের কফির মধ্যে রয়েছে আকাশ-পাতাল পার্থক্য।

ইনস্ট্যান্ট কফি নাকি ফিল্টার কফি, কোনটি আপনার জন্য ভালো? জেনে নিয়ে তবেই পান করুন
ইনস্ট্যান্ট কফি নাকি ফিল্টার কফি, কোনটি আপনার জন্য ভালো? জেনে নিয়ে তবেই পান করুন

এখন কফি কালচার ভারতে তুঙ্গে, তখন আপনার শরীরের জন্য কোনটি বেছে নেওয়া উচিত? জেনে নিন বিস্তারিত।

ইনস্ট্যান্ট কফি বনাম ফিল্টার কফি: মূল পার্থক্যগুলি কী কী?

অনেকেই মনে করেন সব কফিই একই বীজ থেকে আসে, তাই গুণাগুণও এক। কিন্তু এদের তৈরির প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ আলাদা:

১. তৈরির প্রক্রিয়া

  • ইনস্ট্যান্ট কফি (Instant Coffee): এটি আগে থেকেই তৈরি করে রাখা কফির নির্যাস, যা 'স্প্রে ড্রায়িং' বা 'ফ্রিজ ড্রায়িং' পদ্ধতিতে শুকিয়ে গুঁড়ো বা দানা করা হয়। এতে আলাদা করে ছেঁকার ঝামেলা নেই; গরম জল বা দুধে মেশালেই তৈরি।
  • ফিল্টার কফি (Filter Coffee): এটি কফি বিন বা বীজ গুঁড়ো করে সরাসরি তৈরি করা হয়। কফি মেকার বা ফিল্টারের সাহায্যে গরম জল ধীরে ধীরে কফি গুঁড়োর মধ্য দিয়ে গিয়ে আসল নির্যাসটি বের করে আনে। এতে সময় বেশি লাগে।

২. স্বাদ ও সুগন্ধ

  • ফিল্টার কফি: স্বাদে অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং এর সুগন্ধ অনেকক্ষণ স্থায়ী হয়। এতে কফির আসল তেল বা এসেনশিয়াল অয়েল বজায় থাকে।
  • ইনস্ট্যান্ট কফি: এর স্বাদ কিছুটা হালকা এবং একঘেয়ে হতে পারে। প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় কফির প্রাকৃতিক সুগন্ধ অনেকটাই হারিয়ে যায়।

৩. ক্যাফেইনের মাত্রা

  • ফিল্টার কফিতে ক্যাফেইনের পরিমাণ সাধারণত ইনস্ট্যান্ট কফির তুলনায় বেশি থাকে। এক কাপ ফিল্টার কফিতে প্রায় ৮০-১২০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকে, যেখানে ইনস্ট্যান্ট কফিতে থাকে ৪০-৭০ মিলিগ্রাম।

স্বাস্থ্যের বিচারে কোনটি সেরা?

পুষ্টিবিদদের মতে, আপনি যদি কফির আসল গুণাগুণ পেতে চান, তবে ফিল্টার কফি বেছে নেওয়া বেশি বুদ্ধিমানের কাজ। এর কারণগুলি হলো:

  • অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট: ফিল্টার কফিতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের মাত্রা অনেক বেশি থাকে, যা শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। ইনস্ট্যান্ট কফি প্রক্রিয়াজাত করার সময় এই গুনাগুণ কিছুটা কমে যায়।
  • রাসায়নিক উপাদান: ইনস্ট্যান্ট কফিতে 'অ্যাক্রিলামাইড' (Acrylamide) নামক একটি রাসায়নিক উপাদান ফিল্টার কফির তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ থাকে। এটি উচ্চ তাপমাত্রায় কফি বীজ ভাজার সময় তৈরি হয়, যা শরীরের জন্য খুব একটা ভালো নয়।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণ: চিনি ছাড়া ব্ল্যাক ফিল্টার কফি মেটাবলিজম বাড়াতে এবং মেদ ঝরাতে ইনস্ট্যান্ট কফির চেয়ে দ্রুত কাজ করে।

কাদের কোনটি খাওয়া উচিত?

  • যাঁরা ব্যস্ত: সকালে অফিসে যাওয়ার আগে সময় কম থাকলে ইনস্ট্যান্ট কফি আপনার সেরা বন্ধু। এটি সস্তা এবং বহনযোগ্য।
  • কফি প্রেমী ও স্বাস্থ্য সচেতন: আপনি যদি কফির আসল ফ্লেভার উপভোগ করতে চান এবং শরীরকে বিষমুক্ত রাখতে চান, তবে ফিল্টার কফিই আপনার জন্য সেরা। এটি আপনার হৃদপিণ্ড ও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারি।
  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More