ইস্ত্রি কাজ করছে না? অন্যভাবেও সোজা করতে পারেন জামাকাপড়, জেনে নিন কীভাবে
ইস্ত্রির ব্যবহার ছাড়াই জামাকাপড়কে সহজে এবং দ্রুত সোজা করার বেশ কিছু ঘরোয়া ও কার্যকরী কৌশল রয়েছে। এই কৌশলগুলি জানলে আর কখনওই ভাঁজ পড়া পোশাক পরে বাইরে যেতে হবে না।
সকালে তাড়াহুড়োর সময় দেখলেন আপনার পছন্দের পোশাকে অজস্র ভাঁজ! কিন্তু হাতে সময় নেই ইস্ত্রি করার, কিংবা ভ্রমণে ইস্ত্রি সঙ্গে নেওয়া সম্ভব হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে ইস্ত্রির ব্যবহার ছাড়াই জামাকাপড়কে সহজে এবং দ্রুত সোজা করার বেশ কিছু ঘরোয়া ও কার্যকরী কৌশল রয়েছে। এই কৌশলগুলি জানলে আর কখনওই ভাঁজ পড়া পোশাক পরে বাইরে যেতে হবে না।

১. বাষ্পের মাধ্যমে ভাঁজ দূর (The Shower Steam Method)
ইস্ত্রি করার সবচেয়ে সহজ এবং পরিচিত বিকল্প হলো বাষ্প বা স্টিম ব্যবহার করা।
- পদ্ধতি: প্রথমে আপনার বাথরুমের দরজা ও জানালা বন্ধ করে দিন। এবার জামাকাপড়টি এমনভাবে হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে দিন যেন তা জলের ঝাপটা থেকে দূরে থাকে। এরপর গরম জলে স্নান করুন বা শাওয়ার চালু রাখুন। প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট ধরে গরম জলের বাষ্প বাষ্প পোশাকে লাগতে দিন।
- কারণ: গরম বাষ্প কাপড়ের তন্তু বা ফাইবারগুলিকে শিথিল করে দেয়, যার ফলে ভাঁজগুলি আপনাআপনিই কমে আসে। স্নান শেষে পোশাকটি বাতাসে ভালোভাবে শুকিয়ে নিন।
২. স্প্রে ও টেনে সোজা করা (Spray and Smooth)
ক্ষুদ্র বা মাঝারি ভাঁজ দূর করার জন্য এই পদ্ধতিটি অত্যন্ত উপযোগী।
- পদ্ধতি: একটি স্প্রে বোতলে সামান্য পরিষ্কার জল নিন। ভাঁজ পড়া অংশের ওপর হালকাভাবে জল স্প্রে করুন, যেন কাপড়টি কেবল সামান্য ভিজে যায়, পুরোপুরি ভিজে না যায়। এবার হাত দিয়ে ভাঁজ বরাবর জোরে চেপে টেনে দিন।
- কারণ: জল কাপড়ের ফাইবারকে নরম করে এবং হাত দিয়ে টেনে দিলে তা সহজেই সোজা হয়ে যায়। পোশাকটি পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে ভাঁজ চলে যাবে।
৩. হেয়ার ড্রায়ার (Hair Dryer) ব্যবহার
যদি পোশাক দ্রুত শুকিয়ে ভাঁজ দূর করতে চান, তবে হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করতে পারেন।
- পদ্ধতি: স্প্রে বোতলে জল ভরে পোশাকে হালকা স্প্রে করুন। এবার হেয়ার ড্রায়ারটিকে মিডিয়াম হিটে সেট করুন এবং পোশাক থেকে কয়েক ইঞ্চি দূরে রেখে ড্রায়ার চালান। এক জায়গায় বেশিক্ষণ ধরে ড্রায়ার রাখবেন না।
- সতর্কতা: সিনথেটিক কাপড়ে (যেমন নাইলন, পলিয়েস্টার) খুব বেশি গরম ব্যবহার করবেন না, এতে কাপড় পুড়ে যেতে পারে।
৪. হেয়ার স্ট্রেটনার (Hair Straightener) বা ফ্ল্যাট আয়রন
শার্টের কলার, কাফ বা প্যান্টের পকেটের মতো ছোট, সূক্ষ্ম জায়গাগুলিতে ভাঁজ দূর করার জন্য এটি চমৎকার বিকল্প।
- পদ্ধতি: হেয়ার স্ট্রেটনার বা ফ্ল্যাট আয়রনটিকে সবচেয়ে কম বা মিডিয়াম হিটে সেট করুন। নিশ্চিত করুন যে স্ট্রেটনারটি সম্পূর্ণ পরিষ্কার এবং শুষ্ক। এবার ভাঁজ পড়া অংশে আলতো করে চাপ দিন, ঠিক যেমন ইস্ত্রি ব্যবহার করেন।
- সতর্কতা: স্ট্রেটনারে যেন কোনো তেল বা ময়লা লেগে না থাকে। সিল্ক বা নাইলনের মতো সংবেদনশীল কাপড়ে খুব কম তাপ ব্যবহার করুন।
৫. ম্যাট্রেসের নিচে চাপা দেওয়া (The Mattress Method)
এটি একটি পুরানো কিন্তু কার্যকর পদ্ধতি।
- পদ্ধতি: ভাঁজ পড়া পোশাকটি মসৃণভাবে মুড়িয়ে নিন (রোল করে)। এবার এটিকে তোয়ালে বা অন্য কোনো কাপড়ে মুড়িয়ে আপনার বিছানার ম্যাট্রেসের নিচে রেখে দিন। প্রায় ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর বের করুন।
- কারণ: ম্যাট্রেসের নিচে রাখার ফলে কাপড়ের ওপর চাপ বা প্রেসার সৃষ্টি হয়, যা ভাঁজগুলোকে মসৃণ করে দেয়।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


