কলকাতার এই জায়গাগুলি নিয়ে আছে গা ছমছমে গল্প! ভূতের ভয়ে রাতে অনেকেই এড়িয়ে যান জায়গাগুলি
রাতের নিস্তব্ধতায় এই জায়গাগুলো যেন পুরোনো ভৌতিক কাহিনিদের নতুন করে মনে করিয়ে দেয়। কালীপুজোর এই সময়ে কলকাতার সবচেয়ে প্রচলিত কিছু ভৌতিক স্থান নিয়ে একটি প্রতিবেদন রইল।
কালীপুজোর রাত মানেই আলো, উৎসব আর শক্তির আরাধনা। কিন্তু এই সময় যখন চারিদিকে উৎসবের মেজাজ, তখনই কলকাতার কিছু স্থান যেন আরও বেশি রহস্যময় আর গা ছমছমে হয়ে ওঠে। রাতের নিস্তব্ধতায় এই জায়গাগুলো যেন পুরোনো ভৌতিক কাহিনিদের নতুন করে মনে করিয়ে দেয়। কালীপুজোর এই সময়ে কলকাতার সবচেয়ে প্রচলিত কিছু ভৌতিক স্থান নিয়ে একটি প্রতিবেদন রইল:

১. ন্যাশনাল লাইব্রেরি (National Library)
কলকাতা এবং পুরো দেশের অন্যতম ভৌতিক স্থান হিসেবে পরিচিত এই গ্রন্থাগার। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই ভবনে একসময় গভর্নর জেনারেলের পত্নী লেডি কার্জনের আত্মা ঘুরে বেড়ান। যারা গ্রন্থাগারের পুরোনো বা পরিত্যক্ত অংশে কাজ করতে গেছেন, তারা নাকি তার উপস্থিতির কথা অনুভব করেছেন। রাতে কোনো বই বা জিনিসপত্র হঠাৎ পড়ে যাওয়ার শব্দ শোনা যায় বলেও অনেকে দাবি করেন।
২. সাউথ পার্ক স্ট্রিট সিমেট্রি (South Park Street Cemetery)
১৭০০ সালের এই প্রাচীন সমাধিক্ষেত্রটি কলকাতার সবচেয়ে বিখ্যাত ভৌতিক স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম। উঁচু স্তম্ভ, পুরোনো নকশার সমাধি এবং লতানো গাছপালা এই স্থানটিকে এক রহস্যময় আবহ দেয়। অনেকেই দাবি করেন, এখানে প্রবেশ করলে এক ধরনের অসুস্থতা বা শ্বাসকষ্ট হয়। বিশেষ করে সূর্যাস্তের পরে এখানে এক অশুভ শক্তি অনুভব করার কথা শোনা যায়।
৩. রয়্যাল ক্যালকাটা টার্ফ ক্লাব (Royal Calcutta Turf Club)
এই রেসকোর্সটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক ব্রিটিশ ঘোড়সওয়ার এবং তার সাদা ঘোড়া 'জর্জিনা'-র আত্মা। কথিত আছে, জর্জিনা তার শেষ রেসে হেরে যাওয়ার পর মালিকের হাতেই মারা যায়। এরপর থেকে চাঁদনি রাতে জর্জিনার আত্মা ঘোড়সওয়ার নিয়ে রেসকোর্সের চারপাশে ছুটে বেড়ায় বলে প্রচলিত আছে।
৪. নিমতলা ঘাট (Nimtala Ghat)
কলকাতার এই শ্মশানটি কালীপুজোর রাতে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। শ্মশানকে কেন্দ্র করে অনেক পুরোনো এবং ভয়ানক তন্ত্রসাধনার কাহিনি প্রচলিত আছে। অনেকে দাবি করেন, অমাবস্যার রাতে এই ঘাটে অদ্ভুত ছায়ামূর্তি এবং অলৌকিক শব্দ শোনা যায়।
৫. ভূত বাংলো, হেয়ার স্ট্রিট (Ghost Bungalow, Hare Street)
এই পরিত্যক্ত বাংলোটিকে ঘিরেও নানা ভৌতিক কাহিনি প্রচলিত আছে। এটি একসময় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পুরোনো বাড়ি ছিল। এখানে অনেক ব্রিটিশ সাহেবের আত্মা ঘোরাফেরা করে বলে মনে করা হয়। রাতে এই বাড়ির আশেপাশে গেলেই এক অজানা ভয় এবং অস্থিরতা অনুভব করার কথা শোনা যায়।
কালীপুজোর রাতে যখন অন্ধকার ঘনিয়ে আসে, এই স্থানগুলো তখন তাদের পুরোনো কাহিনি নিয়ে আরও জীবন্ত হয়ে ওঠে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


