পিঠের নীচে ধার ঘেঁষে দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা? পেশি-স্নায়ুর নাকি কিডনির সমস্যা, চিনবেন কীভাবে

কিডনি আমাদের পিঠের দিকে, পাঁজরের ঠিক নিচে মেরুদণ্ডের দুই পাশে অবস্থিত। তাই কিডনিতে কোনো ইনফেকশন বা পাথর হলে সেই ব্যথা পিঠের নিচের দিকেই অনুভূত হয়।

Published on: Aug 12, 2026, 12:13:05 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

পিঠের নীচের দিকে বা কোমরের দুই ধারের তীব্র ব্যথা আমাদের অত্যন্ত পরিচিত একটি শারীরিক সমস্যা। আধুনিক জীবনযাত্রায় দীর্ঘক্ষণ অফিসে ডেস্কে বসে কাজ করা, কায়িক পরিশ্রমের অভাব কিংবা শোয়ার ভুল অভ্যাসের কারণে ব্যাক পেইন বা পিঠে ব্যথা ঘরে ঘরে দেখা যায়। তবে এই ব্যথায় ভুগতে থাকা অনেকেই একটি বড় দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েন—এই ব্যথা কি শুধুই মেরুদণ্ড, পেশি বা স্নায়ুর টান, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে কিডনির কোনো মারাত্মক সমস্যা?

পিঠের নীচে ধার ঘেঁষে দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা? পেশি-স্নায়ুর নাকি কিডনির সমস্যা
পিঠের নীচে ধার ঘেঁষে দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা? পেশি-স্নায়ুর নাকি কিডনির সমস্যা

কিডনি আমাদের পিঠের দিকে, পাঁজরের ঠিক নিচে মেরুদণ্ডের দুই পাশে অবস্থিত। তাই কিডনিতে কোনো ইনফেকশন বা পাথর হলে সেই ব্যথা পিঠের নিচের দিকেই অনুভূত হয়। পেশি বা স্নায়ুর ব্যথা আর কিডনির ব্যথার লক্ষণ ও প্রকৃতি সম্পূর্ণ আলাদা। সঠিক সময়ে এই দুই ব্যথার পার্থক্য চিনতে না পারলে বড় বিপদ ঘটতে পারে। লক্ষণ দেখে দুই ধরণের ব্যথা চেনার সহজ উপায় ও ডাক্তারি পরামর্শ জেনে নিন।

১. পেশি বা স্নায়ুজনিত ব্যথার প্রধান লক্ষণ (Muscle or Nerve Pain)

মেরুদণ্ডের হাড়ের ক্ষয়, স্পন্ডিলাইটিস, ডিস্ক প্রোল্যাপ্স কিংবা পেশিতে টান পড়ার কারণে এই ধরণের ব্যথা তৈরি হয়।

  • ব্যথার ধরন ও স্থান: এই ব্যথা সাধারণত পিঠের ঠিক মাঝে, কোমর বা নিতম্বের পেশিতে অনুভূত হয়। ব্যথাটি একটানা ভোঁতা অনুভূতি (Dull ache) বা হঠাৎ তীব্র টান লাগার মতো হতে পারে।
  • নড়াচড়ায় ব্যথার পরিবর্তন: হাঁটাচলা করলে, উবু হয়ে বসলে, ঝুকলে বা ভারী জিনিস তুললে পেশি ও স্নায়ুর ব্যথা অনেকটা বেড়ে যায়। আবার বিশ্রাম নিলে বা গরম শেঁক দিলে ব্যথা সাময়িকভাবে কমে।
  • অবশ ভাব বা ঝিনঝিন করা: যদি স্নায়ু বা নার্ভে চাপ পড়ে (যেমন—সাইয়াটিকা), তবে ব্যথা কোমর থেকে সোজা পায়ের দিকে নেমে যায় এবং পা ঝিনঝিন করা বা অবশ ভাব দেখা দিতে পারে।

২. কিডনির সমস্যার ব্যথার প্রধান লক্ষণ (Kidney Pain)

কিডনিতে পাথর (Kidney Stones) বা ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন (Pyelonephritis) হলে মূলত কিডনিতে ব্যথা অনুভব হয়।

  • ব্যথার ধরন ও স্থান: কিডনির ব্যথা হয় পিঠের একদম নীচের অংশে, পাঁজরের ঠিক নিচে একপাশে বা দুই পাশে (Flank Pain)। এই ব্যথা অত্যন্ত তীব্র, গভীর ও মোচড় দেওয়া স্বভাবের হয় এবং হুটহাট তরঙ্গের মতো আসে-যায়।
  • ব্যথা ছড়িয়ে পড়া: কিডনির ব্যথা সাধারণত স্থান পরিবর্তন করে। পিঠের নিচের ধার থেকে শুরু হয়ে এই ব্যথা তলপেট এবং কুঁচকির দিকে ছড়িয়ে পড়ে।
  • শরীরের ভঙ্গি বদলালে কাজ হয় না: শোয়া, বসা বা চলাফেরার ভঙ্গি বদলালেও কিডনির ব্যথার তীব্রতা কমে না। বিশ্রাম নিলেও ব্যথার উপশম হয় না।
  • অন্যান্য আনুষঙ্গিক লক্ষণ: কিডনির ব্যথার সাথে প্রায়শই প্রস্রাবে তীব্র জ্বালাভাব, প্রস্রাবের রঙ লাল বা ঘোলাটে হওয়া, ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ, তীব্র জ্বর, কাঁপুনি এবং গা গোলানো বা বমির লক্ষণ দেখা দেয়।

৩. লক্ষণ দেখে একনজরে পার্থক্য চেনার উপায়

  • স্থান: পেশির ব্যথা কোমরের মাঝে ও পেশিতে থাকে; কিডনির ব্যথা পিঠের ধারের গভীর ভেতরে পাঁজরের নিচে হয়।
  • ছড়িয়ে পড়া: পেশির ব্যথা পা পর্যন্ত নামতে পারে; কিডনির ব্যথা তলপেট ও কুঁচকিতে ছড়ায়।
  • উপশম: পেশির ব্যথা বিশ্রামে বা শেঁকে কমে; কিডনির ব্যথা কমার জন্য চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।
  • প্রস্রাবের পরিবর্তন: পেশির ব্যথায় প্রস্রাবে কোনো সমস্যা থাকে না; কিডনির ব্যথায় প্রস্রাবে তীব্র জ্বালা বা রক্তের উপস্থিতি দেখা যায়।

কখন দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাবেন?

যদি পিঠের ব্যথার সাথে তীব্র জ্বর আসে, প্রস্রাবের রঙ বদলে যায় বা প্রস্রাব বন্ধ হয়ে আসে এবং গা গোলানো ও বমি হতে থাকে, তবে বিন্দুমাত্র দেরি না করে অবিলম্বে নেফ্রোলজিস্ট বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More