Quote of the Day: ‘যা দেখেছি, তার অর্ধেকও লিখতে পারিনি’, কোথায় আটকে গিয়েছিলেন মার্কো পোলো
Quote of the Day: মার্কো পোলো যখন চীন থেকে ভেনিসে ফিরে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেন, তখন ইউরোপীয়দের কাছে তা ছিল রূপকথার মতো। কী হল তার পরে?
Quote of the Day: আজ থেকে কয়েক শতাব্দী আগে, যখন পৃথিবী ছিল অজানা রহস্যে ঘেরা, তখন এক তরুণ ভেনিসীয় বণিক সাহসের ওপর ভর করে পাড়ি জমিয়েছিলেন সুদূর প্রাচ্যে। তিনি মার্কো পোলো। তাঁর চোখ দিয়েই ইউরোপ প্রথমবার দেখেছিল রেশম পথ (Silk Road), চীনের ঐশ্বর্য এবং মঙ্গোল সাম্রাজ্যের বিশালতা। তাঁর ভ্রমণ কাহিনী কেবল গল্প নয়, বরং তা ছিল বিশ্ব ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এক দলিল।

আজকের অমোঘ বাণী (Quote of the Day)
"আমি যা দেখেছি তার অর্ধেকও লিখে যেতে পারিনি; কারণ আমি জানতাম যে তা কেউ বিশ্বাস করবে না।" (I did not write half of what I saw, for I knew I would not be believed)
ব্যাখ্যা: মার্কো পোলো যখন চীন থেকে ভেনিসে ফিরে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেন, তখন ইউরোপীয়দের কাছে তা ছিল রূপকথার মতো। কাগজের নোটের মাধ্যমে লেনদেন, কয়লা পুড়িয়ে তাপ উৎপন্ন করা কিংবা কুবলাই খানের বিশাল সাম্রাজ্যের ব্যবস্থাপনা—এসবই ছিল তখনকার ইউরোপের কল্পনার বাইরে। তাই তিনি সত্য গোপন করেননি, বরং সত্যের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে তিনি সবটুকু লিখতে সাহস পাননি।
জীবনের কিছু রোমাঞ্চকর অ্যানেকডোট (Anecdotes)
মার্কো পোলোর জীবন ছিল রূপালি পর্দার চেয়েও বেশি চমকপ্রদ। তাঁর জীবনের কিছু কাহিনী আজও আমাদের অবাক করে:
১. কারাগারে জন্ম নেওয়া অমর সাহিত্য: আশ্চর্যের বিষয় হলো, মার্কো পোলো তাঁর বিখ্যাত বই 'দ্য ট্রাভেলস অফ মার্কো পোলো' কোনো লাইব্রেরিতে বসে লেখেননি। ভেনিস ও জেনোয়ার যুদ্ধে বন্দী হয়ে তিনি যখন কারাগারে ছিলেন, তখন তাঁর সহবন্দী রুস্টিচেলো দা পিসা-কে তিনি তাঁর ভ্রমণের গল্প শোনাতেন। রুস্টিচেলো সেই কাহিনীগুলো লিখে রাখেন, যা পরবর্তীকালে বিশ্ব সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভ্রমণ কাহিনীতে পরিণত হয়।
২. কুবলাই খানের বিশ্বস্ত দূত: মার্কো কেবল একজন পর্যটক ছিলেন না, তিনি মঙ্গোল সম্রাট কুবলাই খানের অত্যন্ত প্রিয়পাত্র ও বিশ্বস্ত কূটনৈতিক হয়ে উঠেছিলেন। সম্রাট তাঁর বুদ্ধিমত্তায় মুগ্ধ হয়ে তাঁকে নিজের ব্যক্তিগত দূত হিসেবে নিয়োগ করেন এবং দীর্ঘ ১৭ বছর মার্কো চীনের বিভিন্ন প্রান্তে সম্রাটের হয়ে কাজ করেন। এমনকি তিনি চীনের একটি শহরের গভর্নর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলে জানা যায়।
৩. ফিরে আসার পর অবিশ্বাস্য অভ্যর্থনা: ২৪ বছর পর যখন মার্কো, তাঁর বাবা এবং কাকা ভেনিসে ফিরে আসেন, তখন তাঁদের কেউ চিনতে পারেনি। তাঁদের পোশাক ছিল নোংরা আর ছেঁড়া। কিন্তু যখন তাঁরা সেই পোশাকের সেলাই খুলে ভেতর থেকে হিরে, জহরত আর মণি-মুক্তো বের করে দেখালেন, তখন গোটা ভেনিস শহর তাজ্জব হয়ে গিয়েছিল।
সংক্ষিপ্ত জীবনী (Short Biography)
- জন্ম ও যাত্রা শুরু: ১২৫৪ সালে ইতালির ভেনিস শহরে এক বণিক পরিবারে মার্কো পোলো জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি তাঁর বাবা নিকোলো এবং কাকা মাফিও-র সঙ্গে এশিয়া ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন।
- চীন ও রেশম পথ: দীর্ঘ তিন বছরের কঠিন পথ অতিক্রম করে তাঁরা মঙ্গোলিয়ায় কুবলাই খানের দরবারে পৌঁছান। সেখানে মার্কো কেবল ভাষা নয়, বরং প্রাচ্যের সংস্কৃতি ও রাজনীতি গভীরভাবে রপ্ত করেন। তাঁর মাধ্যমেই ইউরোপীয়রা প্রথমবার জানতে পারে যে চীনের সভ্যতা তাঁদের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত।
- ফিরে আসা ও শেষ জীবন: ১২৯৫ সালে তিনি ভেনিসে ফিরে আসেন। তাঁর ভ্রমণ কাহিনী ক্রিস্টোফার কলম্বাসের মতো অনেক পরবর্তী পর্যটককে অনুপ্রাণিত করেছিল। ১৩২৪ সালে ৭০ বছর বয়সে এই মহান পর্যটক মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর ঠিক আগে যখন তাঁকে বলা হয়েছিল তাঁর বইয়ের 'অতিরঞ্জিত' তথ্যগুলো সংশোধন করতে, তখন তিনি তাঁর সেই বিখ্যাত উক্তিটি করেছিলেন যে, তিনি যা দেখেছেন তার অর্ধেকও বলেননি।
মার্কো পোলো আমাদের শিখিয়েছেন যে জগতকে জানতে হলে গণ্ডির বাইরে বের হতে হয়। তাঁর অদম্য কৌতূহল এবং অজানাকে জানার নেশা আজও প্রত্যেক ভ্রমণপিপাসু মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছে। তিনি কেবল এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে যাননি, বরং দুই ভিন্ন সভ্যতার মধ্যে জ্ঞানের আলো আদান-প্রদান করেছিলেন।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


