দুধ আর মাছ এক সঙ্গে খেলে কি শ্বেতী রোগ হতে পারে? সত্যিটা জানলে চমকে যাবেন

বহু মানুষ বিশ্বাস করেন যে দুধ ও মাছ একসঙ্গে খেলে ত্বকে সাদা দাগ বা শ্বেতী রোগ (ভিটিলিগো) হয়। এর পিছনে কারণটি কী? কী বলছে বিজ্ঞান?

Published on: Nov 4, 2025, 10:32:33 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

দুধ এবং মাছ একসঙ্গে খাওয়া উচিত নয়—এই ধারণাটি ভারতীয় সমাজে বহু যুগ ধরে প্রচলিত। অনেকেই মনে করেন, এই সংমিশ্রণটি খেলে হজমের সমস্যা হয়, ত্বকে সাদা দাগ (ভিটিলিগো বা শ্বেতী) হতে পারে বা ফুড পয়জনিং হতে পারে। কিন্তু এই প্রচলিত বিশ্বাসটির পেছনে বিজ্ঞান কী বলে, তা জানা প্রয়োজন।

দুধ আর মাছ এক সঙ্গে খেলে কি শ্বেতী রোগ হতে পারে?
দুধ আর মাছ এক সঙ্গে খেলে কি শ্বেতী রোগ হতে পারে?

প্রচলিত বিশ্বাস কী?

ভারতীয় উপমহাদেশে বহু মানুষ বিশ্বাস করেন যে দুধ ও মাছ একসঙ্গে খেলে ত্বকে সাদা দাগ (ভিটিলিগো) হয়। এই ধারণাটি সম্ভবত আয়ুর্বেদিক রীতিনীতি বা লোককথার উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে, যেখানে দুধ এবং কিছু আমিষ খাবারকে 'বিপজ্জনক সংমিশ্রণ' হিসেবে দেখা হয়।

বিজ্ঞান কী বলছে?

আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং ডায়েটেটিক্স (Dietetics) বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দুধ ও মাছ একসঙ্গে খাওয়ার ফলে ত্বকে সাদা দাগ বা শ্বেতী রোগ হয়—এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

ভিটিলিগো (শ্বেতী): শ্বেতী একটি অটোইমিউন রোগ। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ত্রুটির কারণে হয় এবং এর সঙ্গে খাদ্যাভ্যাসের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।

ফুড পয়জনিং: ফুড পয়জনিং বা পেটের সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে তার কারণ দুধ ও মাছের সংমিশ্রণ নয়, বরং দুটির মধ্যে যেকোনো একটি বা উভয়টি খারাপভাবে সংরক্ষিত থাকলে বা সঠিকভাবে রান্না না হলে।

হজমের সমস্যা: কিছু মানুষের ক্ষেত্রে দুধ ও মাছ একসঙ্গে খেলে হজমের সমস্যা হতে পারে। এর মূল কারণ হলো:

  • প্রোটিন এবং ফ্যাটের পার্থক্য: মাছ ও দুধ উভয়ই প্রোটিন এবং ফ্যাটের ভালো উৎস। এই দুটি ভিন্ন ধরনের প্রোটিন ও ফ্যাট একসঙ্গে শরীরে প্রবেশ করলে হজম প্রক্রিয়া কিছুটা ধীর হতে পারে বা সংবেদনশীল পাকস্থলীর অধিকারীদের অস্বস্তি হতে পারে।
  • ল্যাক্টোজ অসহিষ্ণুতা: যারা ল্যাক্টোজ সহ্য করতে পারেন না, তাদের ক্ষেত্রে মাছের সঙ্গে দুধ খেলে সমস্যাটি আরও বাড়তে পারে।

ব্যতিক্রম: কিছু মাছের রেসিপি

লক্ষ্যণীয় যে, বিশ্বের অনেক রান্নায় (বিশেষ করে ভূমধ্যসাগরীয় এবং কেরালা, গোয়ার মতো ভারতীয় উপকূলীয় অঞ্চলের রান্নায়) মাছ ও দুগ্ধজাত পণ্য (যেমন দই, চিজ বা ক্রিম) একসঙ্গে ব্যবহার করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, ফিশ চাউডার বা বাটার ফিশ কারি। এসব ক্ষেত্রে কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা হয় না।

দুধ ও মাছের সংমিশ্রণ স্বাস্থ্যকর এবং এটি ক্ষতিকারক নয়, যদি উভয় খাবারই টাটকা এবং ভালোভাবে রান্না করা হয়। তবে হজমে সংবেদনশীল হলে একসাথে এড়িয়ে চলাই ভালো।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More