সকালে দুধ চা নাকি লিকার চা? জানুন খালি পেটে কোনটা সবচেয়ে বেশি নিরাপদ

অনেকে গাঢ় দুধ-চিনির চা পছন্দ করেন, আবার অনেকে সুস্থ থাকতে লিকার চা বা লাল চা বেছে নেন। কিন্তু খালি পেটে বা সকালে কোনটা পান করা বেশি নিরাপদ এবং কোনটা শরীরের ক্ষতি করতে পারে, জেনে নিন। 

Published on: Aug 10, 2026, 17:16:01 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

সকালের এক কাপ গরম চা ছাড়া বাঙালির ঘুম ভাঙা যেন অসম্ভব। ঘুম থেকে উঠেই ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে দিন শুরু করা আমাদের দীর্ঘদিনের চেনা ঐতিহ্য ও অভ্যাস। তবে সকালে ঠিক কোন চা-টি পেটের জন্য বেশি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর—দুধ চা (Milk Tea) নাকি লিকার চা (Black Tea/Red Tea)? এই নিয়ে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ থেকে শুরু করে পুষ্টিবিদদের মধ্যে আলোচনার শেষ নেই।

সকালে দুধ চা নাকি লিকার চা? জানুন খালি পেটে কোনটা সবচেয়ে বেশি নিরাপদ
সকালে দুধ চা নাকি লিকার চা? জানুন খালি পেটে কোনটা সবচেয়ে বেশি নিরাপদ

অনেকে গাঢ় দুধ-চিনির চা পছন্দ করেন, আবার অনেকে সুস্থ থাকতে লিকার চা বা লাল চা বেছে নেন। কিন্তু খালি পেটে বা সকালে কোনটা পান করা বেশি নিরাপদ এবং কোনটা শরীরের ক্ষতি করতে পারে, তা নিয়ে একটি বিশদ বিশ্লেষণাত্মক পুষ্টি ও স্বাস্থ্য প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো।

১. সকালে দুধ চা পানের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও ক্ষতিকর দিক

ক) তীব্র অ্যাসিডিটি ও গ্যাস (Acid Reflux and Bloating):

চায়ের পাতায় প্রাকৃতিকভাবে ‘ক্যাফেইন’ (Caffeine) ও ‘ট্যানিন’ (Tannin) থাকে, যা পাকস্থলীতে অ্যাসিডের ক্ষরণ বাড়ায়। খালি পেটে চায়ে দুধ ও চিনি মেশালে তা পেটের ভেতর গিয়ে আরও ভারী হয়ে পড়ে এবং দুধের প্রোটিন (ক্যাসিন) পরিপাকতন্ত্রে চাপ ফেলে। এর ফলে মুহূর্তের মধ্যে তীব্র বুক জ্বালা, পেটে গ্যাস, অম্লতা বা অ্যাসিডিটি এবং পেট ফাঁপার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

খ) অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের কার্যকারিতা নষ্ট:

চা পাতা হলো শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের (যেমন—ক্যাটেচিন ও ফ্ল্যাভোনয়েড) অন্যতম প্রধান উৎস, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। কিন্তু চায়ে গরুর দুধ বা গুঁড়ো দুধ মেশালে দুধের প্রোটিন চায়ের অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের সাথে আবদ্ধ হয়ে যায়, যার ফলে চায়ের সমস্ত পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা একধাক্কায় নষ্ট হয়ে যায়।

গ) কোষ্ঠকাঠিন্য ও পরিপাকে বাধা:

চায়ে থাকা ‘থিয়োফিলিন’ (Theophylline) এবং দুধের ফ্যাট সকালে একসাথে পেটে গেলে হজমপ্রক্রিয়া ধীর করে দেয়। এর ফলে মলত্যাগে সমস্যা বা কোষ্ঠকাঠিন্য (Constipation) দেখা দিতে পারে।

২. লিকার চা পানের উপকারিতা ও নিরাপত্তা

ক) হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস ও মেটাবলিজম বৃদ্ধি:

লিকার চা বা ব্ল্যাক টি অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর। এটি শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক হার বাড়াতে সাহায্য করে এবং রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের (LDL) মাত্রা কমিয়ে হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখে।

খ) শক্তি বৃদ্ধি ও ব্রেন ফোকাস:

লিকার চায়ে থাকা ক্যাফেইন এবং ‘এল-থিয়ানিন’ (L-theanine) নামক অ্যামিনো অ্যাসিড সকালে আলস্য কাটিয়ে মনকে সতেজ রাখে এবং মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।

গ) লিকার চায়ের কিছু সতর্কতা:

লিকার চা দুধ চায়ের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ হলেও খালি পেটে অতিরিক্ত কড়া বা গাঢ় লিকার চা পান করা উচিত নয়। লিকার চায়ে থাকা ট্যানিন খাদ্য থেকে আয়রন বা লোহা শোষণে বাধা দেয়। তাই সকালে হালকা লিকার চা পান করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

৩. সকালে চা পানের সঠিক ও নিরাপদ নিয়ম

  • খালি পেটে জল পান করা: সকালে ঘুম থেকে উঠেই সোজা চায়ের কাপে চুমুক না দিয়ে প্রথমে অন্তত ১ গ্লাস ইষদুষ্ণ জল পান করুন।
  • কিছু হালকা খাওয়ার পর চা পান: সকালে খালি পেটে চা না খেয়ে বিস্কুট, ভেজানো কাঠবাদাম (Almond) বা হালকা কোনো জলখাবার খাওয়ার ১০-১৫ মিনিট পর চা পান করুন।
  • দুধ ও চিনি কমানো: যদি দুধ চা খেতেই হয়, তবে তাতে চিনির পরিমাণ ন্যূনতম রাখুন এবং কড়া লিকারের দুধ চা এড়িয়ে চলুন।

সব দিক বিবেচনা করে পুষ্টিবিদদের স্পষ্ট মত হলো—সকালের লিকার চা বা লাল চা, দুধ চায়ের তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ, হালকা এবং স্বাস্থ্যকর। তবে খালি পেটে যেকোনো কড়া চা এড়িয়ে কিছু হালকা খাবারের পর লিকার চা পান করাই সুস্থ থাকার আসল চাবিকাঠি।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More