রক্তপরীক্ষা করানোর সময়ে সূচের ভয় পান? এই ভয় কাটানোর রাস্তা কী

ট্রাইপানোফোবিয়া (Trypanophobia) বা নিডল ফোবিয়া (Needle Phobia) এতটাই গুরুতর হতে পারে যে, তা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা চিকিৎসা থেকেও একজনকে দূরে সরিয়ে রাখে। তবে কিছু প্রমাণিত কৌশল অবলম্বন করে এই ভয়কে সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

Published on: Nov 14, 2025, 12:25:28 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

রক্তপরীক্ষা বা ইনজেকশন নেওয়ার সময় সূচ দেখে ভয় পাওয়া একটি অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা। কিন্তু কিছু মানুষের মধ্যে এই ভয় চরম পর্যায়ে পৌঁছায়, যাকে চিকিৎসা পরিভাষায় ট্রাইপানোফোবিয়া (Trypanophobia) বা নিডল ফোবিয়া (Needle Phobia) বলা হয়। এই ফোবিয়া এতটাই গুরুতর হতে পারে যে, তা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা চিকিৎসা থেকেও একজনকে দূরে সরিয়ে রাখে। তবে কিছু প্রমাণিত কৌশল অবলম্বন করে এই ভয়কে সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

রক্তপরীক্ষা করানোর সময়ে সূচের ভয় পান? এই ভয় নিয়ন্ত্রণ করার রাস্তা কী
রক্তপরীক্ষা করানোর সময়ে সূচের ভয় পান? এই ভয় নিয়ন্ত্রণ করার রাস্তা কী

নিডল ফোবিয়ার লক্ষণ ও কারণ?

১. শারীরিক লক্ষণ: সূচ দেখার বা ভাবার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত হৃদস্পন্দন, ঘাম হওয়া, বমি বমি ভাব, কাঁপুনি, মাথা ঘোরা এবং অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো অনুভূতি (Vaso-vagal Syncope)।

২. মানসিক কারণ: শৈশবের কোনো আঘাত বা খারাপ অভিজ্ঞতা থেকে এই ভয়ের জন্ম হতে পারে। এছাড়াও, অনেকেই সূচ ঢোকার সময়কার তীব্র ব্যথা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ভয় পান।

সূচের ভয় নিয়ন্ত্রণের কার্যকরী কৌশল:

সূচের ভয় কমানোর জন্য মনস্তাত্ত্বিক এবং শারীরিক—উভয় ধরনের কৌশল কাজে লাগানো যেতে পারে:

১. জ্ঞানীয় আচরণগত থেরাপি (Cognitive Behavioral Therapy - CBT):

  • পদ্ধতি: একজন থেরাপিস্টের সাহায্যে এই ফোবিয়ার ভিত্তি বা মূল কারণগুলি চিহ্নিত করা হয় এবং ভুল ধারণাগুলি পরিবর্তন করা হয়। সূচ সম্পর্কিত চিন্তা বা দৃশ্যের প্রতি মস্তিষ্কের প্রতিক্রিয়া পরিবর্তন করতে সাহায্য করে CBT।

২. ডিস্ট্র্যাকশন পদ্ধতি (Distraction Technique):

  • পদ্ধতি: রক্ত দেওয়ার সময় অন্য কোনো দিকে মনোযোগ দিন।
  • উপায়: আপনি পছন্দের গান শুনতে পারেন, পছন্দের কোনো দৃশ্য বা মজার কোনো ঘটনার কথা মনে করার চেষ্টা করতে পারেন, বা মোবাইলে কোনো ভিডিও দেখতে পারেন। লক্ষ্য হলো মনকে সূচ এবং প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখা।

৩. নিয়ন্ত্রিত শ্বাস-প্রশ্বাস (Controlled Breathing):

  • পদ্ধতি: রক্ত দেওয়ার ঠিক আগে এবং প্রক্রিয়া চলাকালীন ধীরে ধীরে এবং গভীরভাবে শ্বাস নিন ও ছাড়ুন।
  • উপকারিতা: এটি হৃৎপিণ্ডের গতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়িয়ে মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার প্রবণতা কমাতে সাহায্য করে।

৪. টেনশন প্রয়োগ কৌশল (Applied Tension Technique):

  • পদ্ধতি: এই কৌশলটি মূলত অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার (Vaso-vagal Syncope) প্রবণতা কমাতে সাহায্য করে। রক্ত দেওয়ার ঠিক আগে ৩০ সেকেন্ডের জন্য শরীরের পেশিগুলিকে (বিশেষ করে হাত ও পা) শক্ত করুন এবং তারপর ছেড়ে দিন।
  • উপকারিতা: এটি রক্তচাপকে কিছুটা বাড়িয়ে তোলে, যা মস্তিষ্ককে রক্ত সরবরাহ বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং অজ্ঞান হওয়া রোধ করে।

৫. আগের রাতে প্রস্তুতি:

  • রক্ত পরীক্ষার আগের রাতে পর্যাপ্ত ঘুমান এবং পরীক্ষা করতে যাওয়ার আগে ভালোভাবে জল পান করে যান। ডিহাইড্রেশন বা ক্লান্তি অনেক সময় ভয়ের প্রতিক্রিয়াকে বাড়িয়ে তোলে।

৬. স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে কথা বলা:

  • রক্ত দেওয়ার আগে স্বাস্থ্যকর্মীকে আপনার ভয়ের কথা স্পষ্ট করে জানান। তাঁরা তখন দ্রুত এবং শান্তভাবে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে পারেন এবং আপনাকে মানসিকভাবে সহায়তা করতে পারেন।
  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More