Supplements with tea or coffee: সাবধান! ভুলেও এই সাধারণ সাপ্লিমেন্টগুলো চা বা কফির সাথে খাবেন না, জানালেন NHS চিকিৎসক
Supplements with tea or coffee: সকাল বা বিকেলের এক কাপ গরম চা বা কফি আমাদের ক্লান্তি দূর করে চনমনে করে তোলে। আবার অন্যদিকে, শরীরের পুষ্টির ঘাটতি মেটাতে অনেকেই নিয়মিত বিভিন্ন ভিটামিন বা খনিজ উপাদানের সাপ্লিমেন্ট খেয়ে থাকেন।
Supplements with tea or coffee: ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা (NHS)-এর এক চিকিৎসক আমাদের প্রতিদিনের একটি সাধারণ অভ্যাস নিয়ে বড়সড় সতর্কবার্তা দিয়েছেন। আমরা শরীর সুস্থ রাখতে যে সমস্ত সাপ্লিমেন্ট বা ভিটামিন খাই, তা চা বা কফির সাথে গ্রহণ করলে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে বা সাপ্লিমেন্টগুলোর কার্যকারিতা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

সকাল বা বিকেলের এক কাপ গরম চা বা কফি আমাদের ক্লান্তি দূর করে চনমনে করে তোলে। আবার অন্যদিকে, শরীরের পুষ্টির ঘাটতি মেটাতে অনেকেই নিয়মিত বিভিন্ন ভিটামিন বা খনিজ উপাদানের সাপ্লিমেন্ট খেয়ে থাকেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার এই দুটি অভ্যাস যদি একসাথে মিশে যায়, তবে তা উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে?এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যের এনএইচএস (NHS) চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে, নির্দিষ্ট কিছু সাপ্লিমেন্ট কখনোই চা বা কফি খাওয়ার আগে বা পরে খাওয়া উচিত নয়।
কেন চা বা কফির সাথে সাপ্লিমেন্ট খাওয়া বিপজ্জনক?
চা এবং কফির মধ্যে উচ্চ মাত্রায় ‘ট্যানিন’ (Tannins), ‘ক্যাফেইন’ (Caffeine) এবং ‘পলিফেনল’ (Polyphenols) থাকে। এই উপাদানগুলো আমাদের পাকস্থলীতে গিয়ে নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিন এবং খনিজের সাথে রাসায়নিক বন্ধন তৈরি করে। এর ফলে আমাদের শরীর সেই পুষ্টিকর উপাদানগুলোকে রক্তে শোষণ (Absorb) করতে পারে না। সহজ কথায়, আপনি দামী সাপ্লিমেন্ট খেলেও তা শরীরের কোনো কাজে লাগে না, বরং অপচয় হয়।
কোন কোন সাপ্লিমেন্ট চা বা কফির সাথে একদমই নেবেন না?
১. আয়রন সাপ্লিমেন্ট (Iron Supplements):
রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়ার সমস্যায় ভুগছেন এমন মানুষদের জন্য আয়রন অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু চিকিৎসকের মতে, চা বা কফিতে থাকা ট্যানিন এবং পলিফেনল আয়রনের শোষণকে প্রায় ৮০% পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। তাই আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ার অন্তত ২ ঘণ্টা আগে বা পরে চা-কফি খাওয়া এড়িয়ে চলুন।
২. ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি (Calcium & Vitamin D):
হাড় শক্ত রাখতে আমরা ক্যালসিয়াম খাই। কিন্তু কফিতে থাকা ক্যাফেইন কিডনির মাধ্যমে শরীর থেকে ক্যালসিয়াম বের করে দেওয়ার গতি বাড়িয়ে দেয়। ফলে হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
৩. ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স এবং ভিটামিন সি (Vitamin B & C):
এগুলো হলো জলে দ্রবণীয় বা ‘ওয়াটার-সল্যুবল’ ভিটামিন। চা বা কফি যেহেতু মূত্রবর্ধক (Diuretic) হিসেবে কাজ করে, তাই এগুলো খাওয়ার পর এই ভিটামিনগুলো শরীর শোষণ করার আগেই প্রস্রাবের সাথে বেরিয়ে যায়। এছাড়া চা-কফির গরম তাপমাত্রা ভিটামিন সি-এর কার্যকারিতা নষ্ট করে দিতে পারে।

চিকিৎসকের পরামর্শ: সঠিক নিয়মটি কী?
এনএইচএস চিকিৎসকের মতে, যেকোনো ধরণের ভিটামিন বা মিনারেল সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার সেরা মাধ্যম হলো এক গ্লাস সাধারণ তাপমাত্রার জল। যদি আপনি চা বা কফি খেতেই চান, তবে সাপ্লিমেন্ট খাওয়া এবং চা-কফি পানের মধ্যে অন্তত ১ থেকে ২ ঘণ্টার ব্যবধান রাখা জরুরি। বিশেষ করে সকালের জলখাবারের সাথে যারা ভিটামিন খান, তারা চা পানের অভ্যাসটি কিছুটা পরে করতে পারেন।
সুস্থ থাকার জন্য কেবল সঠিক পুষ্টির উপাদান গ্রহণ করাই যথেষ্ট নয়, তা সঠিক নিয়মে খাওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আপনার সকালের এক কাপ কফি যেন আপনার স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি সাপ্লিমেন্টটিকে নিষ্ক্রিয় না করে দেয়, সেই বিষয়ে আজ থেকেই সচেতন হোন। সামান্য এই সচেতনতাই আপনাকে পূর্ণ পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করবে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


