ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঠিক করে এবং ঠিক সময়ে দাঁত মাজা দরকার, নিয়মগুলো জানেন কি

চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে—সঠিকভাবে ও ঠিক সময়ে দাঁত ব্রাশ করা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি। দাঁত ও মাড়ির স্বাস্থ্য খারাপ থাকলে তা সরাসরি রক্তে শর্করার মাত্রাকে প্রভাবিত করতে পারে।

Published on: Nov 14, 2025 2:35 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যা, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। যদিও ডায়াবেটিসের ব্যবস্থাপনা বলতে সাধারণত খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, ওষুধ এবং ব্যায়ামকেই বোঝায়, কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা এবং চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে—সঠিকভাবে ও ঠিক সময়ে দাঁত ব্রাশ করা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি। দাঁত ও মাড়ির স্বাস্থ্য খারাপ থাকলে তা সরাসরি রক্তে শর্করার মাত্রাকে প্রভাবিত করতে পারে।

ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঠিক করে এবং ঠিক সময়ে দাঁত মাজা দরকার
ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঠিক করে এবং ঠিক সময়ে দাঁত মাজা দরকার

ডায়াবেটিস ও মুখের স্বাস্থ্যের সম্পর্ক কী?

ডায়াবেটিস এবং মুখের স্বাস্থ্যের মধ্যে একটি দ্বিমুখী সম্পর্ক (Two-way Relationship) রয়েছে।

১. উচ্চ রক্ত শর্করা ও সংক্রমণ: ডায়াবেটিস থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকে। এই উচ্চ শর্করা লালাতেও (Saliva) স্থানান্তরিত হয়। এটি মুখের ভেতরের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়াগুলির জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে, যা মাড়ির রোগ (Gum Disease) বা পিরিয়ডনটাইটিস (Periodontitis) সৃষ্টি করে।

২. সংক্রমণ ও ইনসুলিন প্রতিরোধ: মাড়ির রোগ হলো এক ধরনের সংক্রমণ। শরীরে যেকোনো সংক্রমণ বা প্রদাহ থাকলে, তা ইনসুলিনের কার্যকারিতাকে বাধা দেয় (Insulin Resistance)। এর ফলে শরীরের কোষগুলি রক্ত থেকে শর্করা গ্রহণ করতে পারে না এবং রক্তে শর্করার মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

৩. দুষ্ট চক্র: অর্থাৎ, ডায়াবেটিস মাড়ির রোগকে আরও খারাপ করে, আবার খারাপ মাড়ির রোগ ডায়াবেটিসকে আরও অনিয়ন্ত্রিত করে।

কেন সঠিক সময়ে ব্রাশ করা প্রয়োজন?

সঠিকভাবে ও ঠিক সময়ে ব্রাশ করার মাধ্যমে এই দুষ্ট চক্রটিকে ভাঙা সম্ভব।

  • মাড়ির রোগ প্রতিরোধ: প্রতিদিন দু'বার (সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং রাতে শোবার আগে) ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে ব্রাশ করলে মাড়ির চারপাশে প্লাক (Plaque) জমতে পারে না। প্লাক বা জীবাণু জমা হতে না পারলে মাড়ির প্রদাহ (Gingivitis) বা পিরিয়ডনটাইটিসের ঝুঁকি কমে।
  • সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ: নিয়মিত ব্রাশ ও ফ্লসিংয়ের মাধ্যমে মুখের ভেতরের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে থাকলে, তা শরীরের সামগ্রিক প্রদাহ কমিয়ে দেয়। ফলস্বরূপ, ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।

চিকিৎসকদের পরামর্শ: ডায়াবেটিস রোগীদের শুধু দিনে দু'বার ব্রাশ করাই নয়, প্রতি তিন থেকে চার মাস অন্তর টুথব্রাশ বদলানো এবং বছরে অন্তত দু'বার ডেন্টিস্টের কাছে গিয়ে মুখ ও মাড়ি পরীক্ষা করানো উচিত।

News/Lifestyle/ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঠিক করে এবং ঠিক সময়ে দাঁত মাজা দরকার, নিয়মগুলো জানেন কি