Quote of the Day: ‘সুখ হল প্রিয়জনকে দু'হাতে জড়িয়ে ধরা…’, দুঃখের সময়েও পামুকের এই কথা আশার আলো দেখায়
Quote of the Day: তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরকে তিনি যেভাবে তাঁর উপন্যাসের অবিচ্ছেদ্য চরিত্র করে তুলেছেন, তা বিশ্বসাহিত্যে বিরল। মানুষের একাকিত্ব, প্রেম এবং ইতিহাসের টানাপড়েনকে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন অনন্য শৈল্পিক দক্ষতায়। জেনে নিন সেই নোবেল জয়ী সাহিত্যিক ওরহান পামুকের কথা।
সমকালীন বিশ্বসাহিত্যে ওরহান পামুক এমন এক নাম, যাঁর লেখনীতে প্রাচ্য আর পাশ্চাত্য এক অদ্ভুত মোহনায় এসে মিশেছে। তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরকে তিনি যেভাবে তাঁর উপন্যাসের অবিচ্ছেদ্য চরিত্র করে তুলেছেন, তা বিশ্বসাহিত্যে বিরল। মানুষের একাকিত্ব, প্রেম এবং ইতিহাসের টানাপড়েনকে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন অনন্য শৈল্পিক দক্ষতায়।

আজকের অমোঘ বাণী (Quote of the Day)
‘সুখ হলো প্রিয়জনকে দু-হাতে জড়িয়ে ধরা এবং এই অনুভব করা যে— তুমি আসলে গোটা পৃথিবীটাকেই নিজের আলিঙ্গনে ধরে আছো।’ (Happiness is holding someone in your arms and knowing you hold the whole world)
জীবনের কিছু চিত্তাকর্ষক অ্যানেকডোট (Anecdotes)
ওরহান পামুকের জীবন এবং তাঁর লেখালেখির ধরন নিয়ে বেশ কিছু মজার ও অনুপ্রেরণামূলক গল্প প্রচলিত রয়েছে:
১. চিত্রকর হওয়ার স্বপ্ন থেকে লেখক: পামুক ছোটবেলায় লেখক নয়, বরং একজন চিত্রশিল্পী হতে চেয়েছিলেন। দীর্ঘ ২২ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি ছবি আঁকা নিয়েই মেতে ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই একদিন তাঁর মনে হয়, তুলির চেয়ে কলম দিয়ে তিনি জগতকে আরও ভালো ব্যাখ্যা করতে পারবেন। তিনি ঘরবন্দি হয়ে লেখালেখি শুরু করেন। তাঁর পরিবার ভেবেছিল তিনি হয়তো পাগল হয়ে গেছেন, কারণ তিনি টানা সাত-আট বছর কেবল ঘরের ভেতর বসেই সাহিত্যচর্চা করেছেন।
২. 'মিউজিয়াম অফ ইনোসেন্স' ও বাস্তব জাদুঘর: তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘দ্য মিউজিয়াম অফ ইনোসেন্স’ কেবল একটি বই নয়। পামুক উপন্যাসে বর্ণিত চরিত্রগুলোর ব্যবহৃত ছোটখাটো জিনিস সংগ্রহ করতে শুরু করেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, তিনি ইস্তাম্বুলে বাস্তবিকভাবেই একটি জাদুঘর তৈরি করেন, যেখানে উপন্যাসের কাল্পনিক চরিত্রদের স্মৃতিচিহ্ন সাজানো আছে। কল্পকাহিনীকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার এমন নজির ইতিহাসে খুব কমই আছে।
৩. নোবেল প্রাপ্তির সেই মুহূর্ত: ২০০৬ সালে যখন তিনি নোবেল পুরস্কার পান, তখন তুরস্কের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তিনি কিছুটা চাপের মুখে ছিলেন। পুরস্কার পাওয়ার পর তিনি বলেছিলেন, "আমি পুরস্কার পেয়েছি কারণ আমি একজন একগুঁয়ে লেখক যে ৩০ বছর ধরে প্রতিদিন একটি ঘরে একা বসে লিখেছে।" তাঁর এই নিষ্ঠা আজও তরুণ লেখকদের অনুপ্রেরণা জোগায়।
সংক্ষিপ্ত জীবনী (Short Biography)
- জন্ম ও শৈশব: ১৯৫২ সালের ৭ জুন তুরস্কের ইস্তাম্বুলে এক অভিজাত পরিবারে ওরহান পামুকের জন্ম। তাঁর শৈশব কেটেছে ইস্তাম্বুলের নিশান্তাসি নামক পাড়ায়, যা পরবর্তীকালে তাঁর অনেক উপন্যাসের পটভূমি হয়ে উঠেছে।
- শিক্ষা ও সাহিত্য জীবন: তিনি ইস্তাম্বুল টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে স্থাপত্যবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও মাঝপথে তা ছেড়ে সাংবাদিকতা নিয়ে পড়াশোনা করেন। ১৯৭০-এর দশকের শেষ দিকে তিনি পুরোপুরি লেখালেখিতে আত্মনিয়োগ করেন। তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘জেভদেত বে ও তাঁর ছেলেরা’ প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই তিনি আলোচনায় আসেন। তাঁর বিখ্যাত বইগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘মাই নেম ইজ রেড’, ‘স্নো’, ‘দ্য ব্ল্যাক বুক’ এবং ‘ইস্তাম্বুল: মেমোরিজ অ্যান্ড দ্য সিটি’।
- সম্মাননা: ২০০৬ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর লেখা বিশ্বের ৬০টিরও বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। আধুনিক তুরস্কের জটিল সমাজব্যবস্থাকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার জন্য তাঁকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যিক হিসেবে গণ্য করা হয়।
কেন তিনি আজকের পাঠকদের কাছে প্রিয়?
পামুকের লেখা কেবল গল্প নয়, বরং তা এক একটি দীর্ঘ যাত্রা। তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে একটি শহর মানুষের স্মৃতির সঙ্গে মিশে থাকে। তাঁর লেখায় এক ধরণের বিষণ্ণতা বা ‘হুজুন’ (Hüzün) থাকে, যা পাঠকদের হৃদয়ের গভীরে এক শান্ত অনুভূতি তৈরি করে। বর্তমানের দ্রুত গতির যুগে পামুকের ধীরস্থির এবং গভীর পর্যবেক্ষণমূলক লেখা আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


