কেন শিশুদের নিয়মিত কার্ডিয়াক চেক-আপ বা ফলো-আপ অত্যন্ত জরুরি? প্রত্যেক বাবা-মায়ের জানা উচিত

একটি শিশুর শৈশবকালীন শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের সাথে সাথে তার হৃদ্‌যন্ত্রের ভেতরের গঠন বা রক্তপ্রবাহের গতিতেও পরিবর্তন আসতে পারে। নিয়মিত কার্ডিয়াক মূল্যায়নের প্রধান সুবিধাগুলো জেনে রাখা দরকার। 

Published on: Sep 16, 2026, 19:33:20 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

একটি শিশুর শৈশব থেকে কৈশোরে পদার্পণের সাথে সাথে তার পুরো শরীর ও শরীরের প্রতিটি অঙ্গের পাশাপাশি হৃদ্‌যন্ত্রও ক্রমাগত পরিবর্তিত হয়। বয়স ও শরীরের বৃদ্ধির সাথে সাথে হৃদ্‌যন্ত্র আকারে বাড়ে এবং দৈনন্দিন শারীরিক কর্মকাণ্ডের চাহিদা অনুযায়ী নিজের কার্যক্ষমতাকে মানিয়ে নেয়। অধিকাংশ শিশুর ক্ষেত্রেই এই শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন হলেও, যেসব শিশুর হৃদযন্ত্রে কোনো জন্মগত ত্রুটি বা অন্যান্য শারীরিক জটিলতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে নিয়মিত কার্ডিয়াক ফলো-আপ (Cardiac Follow-up) এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণ অপরিহার্য।

কেন শিশুদের নিয়মিত কার্ডিয়াক চেক-আপ বা ফলো-আপ অত্যন্ত জরুরি? কী বলছেন চিকিৎসক
কেন শিশুদের নিয়মিত কার্ডিয়াক চেক-আপ বা ফলো-আপ অত্যন্ত জরুরি? কী বলছেন চিকিৎসক

কলকাতার ফোর্টিস হাসপাতাল (আনন্দপুর)-এর পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডাঃ সোমরিতা লাহা জানান, শিশুদের অনেক হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা জন্মের পর থেকেই বা ছোটবেলাতেই ধরা পড়ে। আবার কিছু সমস্যা বয়স বাড়ার সাথে সাথে প্রকট হয়, যখন শরীরের বৃদ্ধি ও দৈনন্দিন চলাফেরার দরুন হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়। জন্মগত হৃদ্‌যন্ত্রের ত্রুটি (Congenital Heart Defects), ভালভের অস্বাভাবিকতা, অনিয়মিত হৃদ্‌স্পন্দন বা কার্ডিওমায়োপ্যাথির মতো জটিলতার ক্ষেত্রে শিশু বাইরে থেকে সুস্থ ও চঞ্চল দেখালেও নির্দিষ্ট সময় অন্তর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা অত্যন্ত আবশ্যক।

১. শিশুদের নিয়মিত কার্ডিয়াক ফলো-আপ বা পর্যবেক্ষণের মূল প্রয়োজনীয়তা

একটি শিশুর শৈশবকালীন শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের সাথে সাথে তার হৃদ্‌যন্ত্রের ভেতরের গঠন বা রক্তপ্রবাহের গতিতেও পরিবর্তন আসতে পারে। নিয়মিত কার্ডিয়াক মূল্যায়নের প্রধান সুবিধাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

  • লুকোনো পরিবর্তন সঠিক সময়ে শনাক্তকরণ: শৈশবে যেসব ছোটখাটো হৃদ্‌যন্ত্রের ত্রুটি কোনো ক্ষতিকর উপসর্গ তৈরি করে না, বয়স বাড়ার সাথে সাথে সেগুলোর স্থিতি পরিবর্তন হতে পারে।
  • চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচার পরবর্তী তদারকি: যেসব শিশুর ইতিমধ্যেই জন্মগত হৃদরোগের চিকিৎসা বা সার্জারি সম্পন্ন হয়েছে, তাদের হৃদ্‌যন্ত্র শিশুর শরীরের দ্রুত বৃদ্ধির সাথে সঠিকভাবে তাল মেলাতে পারছে কি না, তা প্রতিনিয়ত খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
  • শারীরিক কার্যক্ষমতার সার্বিক মূল্যায়ন: নিয়মিত ফলো-আপের মাধ্যমে একজন পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজিস্ট শিশুর বৃদ্ধি, রক্তচাপ, হৃদ্‌স্পন্দনের ছন্দ, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা এবং তার শারীরিক পরিশ্রম সহ্য করার ক্ষমতা নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করেন। প্রয়োজনে ইকোকার্ডিওগ্রাম (Echocardiogram) বা ইসিজি (ECG)-র সাহায্য নেওয়া হয়।
  • প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা: ফলো-আপ মানেই প্রতিবার নতুন চিকিৎসা বা ওষুধ নয়; বরং মূল উদ্দেশ্য হলো শিশুর শরীর পর্যবেক্ষণ করা, যাতে ভবিষ্যতে বড় কোনো জটিলতা তৈরির আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

২. বয়স বাড়ার সাথে নজরে না আসা লক্ষণ ও বিপদচিহ্ন

ছোট শিশুরা প্রাপ্তবয়স্কদের মতো নিজেদের শারীরিক অস্বস্তি বা কষ্ট গুছিয়ে প্রকাশ করতে পারে না। খেলাধুলার সময় অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা অল্পেই হাঁপিয়ে যাওয়াকে অনেক সময়ই অভিভাবকরা স্বাভাবিক শারীরিক সক্ষমতার অভাব ভেবে ভুল করেন। কিন্তু শিশু বিশেষজ্ঞ ও কার্ডিওলজিস্টদের মতে, নিচের লক্ষণ বা বিপদচিহ্নগুলো দেখা দিলে তা হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়:

  • দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্ট ও দ্রুত হাঁপিয়ে যাওয়া: সহপাঠী বা সমবয়সীদের সাথে খেলার সময় বারবার থেমে যাওয়া বা একটু দৌড়াদৌড়িতেই তীব্র শ্বাসকষ্ট হওয়া।
  • অকারণ ক্লান্তি ও মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়া: কোনো বিশেষ কারণ ছাড়া সবসময় ঝিমিয়ে থাকা, মাথা ঘোরার অনুভূতি অথবা হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলা (Syncope)।
  • বুকে অস্বস্তি ও নীলচে ভাব: শারীরিক পরিশ্রমের সময়ে বুকে চাপ বা অস্বস্তি অনুভব করা এবং ঠোঁট, জিভ বা নখ নীলচে হয়ে যাওয়া (Cyanosis)।
  • ওজন বৃদ্ধি না হওয়া: পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার খাওয়া সত্ত্বেও বয়স অনুপাতে শিশুর ওজন ও উচ্চতা সঠিক গতিতে না বাড়া।

এই ধরনের উপসর্গ দেখা দেওয়া মানেই যে নিশ্চিতভাবে হৃদ্‌যন্ত্রের বড় কোনো ব্যাধি রয়েছে তা নয়, তবে উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে কালবিলম্ব না করে শিশু বিশেষজ্ঞ বা পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

৩. উন্নত চিকিৎসাবিজ্ঞান ও সুস্থ-স্বাভাবিক শৈশবের আশ্বাস

বর্তমান পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজি এবং কার্ডিয়াক সার্জারির আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তির কল্যাণে জন্মগত হৃদরোগ নিয়ে জন্মানো হাজার হাজার শিশু সময়মতো সঠিক চিকিৎসা পেয়ে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক, সক্রিয় ও প্রাণবন্ত জীবনযাপন করতে সক্ষম হচ্ছে।

অভিভাবকদের সচেতনতা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষাই পারে শিশুদের হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষিত রেখে তাদের সুন্দর ও সুস্থ ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More