ভাত খেলেই কি আপনার ক্লান্ত লাগে আর ঘুম পায়? এখনই জেনে নিন এটি কীসের ইঙ্গিত
ইংরেজিতে 'ফুড কোমা' বলা হয়। বাঙালিদের প্রধান খাদ্য ভাত। অনেকের ক্ষেত্রেই এই সমস্যাটি বিশেষভাবে অনুভূত হয়।
Published on: Nov 17, 2025 9:34 AM IST
By Suman Roy
দুপুরের খাবারের পরে বা ভাত খাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই অনেকে তীব্র ক্লান্তি বা ঘুম ঘুম ভাব অনুভব করেন। এই অনুভূতিকে ইংরেজিতে 'ফুড কোমা' (Food Coma) বা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় পোস্টপ্র্যান্ডিয়াল সোমনোলেন্স (Postprandial Somnolence) বলা হয়। বাঙালিদের প্রধান খাদ্য ভাত (যা কার্বোহাইড্রেটের প্রধান উৎস), তাই অনেকের ক্ষেত্রেই এই সমস্যাটি বিশেষভাবে অনুভূত হয়।

ভাত খাওয়ার পর ক্লান্ত লাগার পেছনে মূলত দুটি প্রধান বৈজ্ঞানিক কারণ থাকে।
১. ইনসুলিনের দ্রুত নিঃসরণ এবং রক্তে শর্করার পরিবর্তন
ভাত হলো উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (Glycemic Index - GI) যুক্ত খাবার। এর অর্থ হলো, ভাত খাওয়ার পর এটি দ্রুত ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত হয়।
- গ্লুকোজ বৃদ্ধি: ভাত খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রক্তে শর্করার মাত্রা (Blood Sugar Level) খুব দ্রুত বেড়ে যায়।
- ইনসুলিনের প্রতিক্রিয়া: এই শর্করাকে কোষে পৌঁছে দেওয়ার জন্য শরীর প্রচুর পরিমাণে ইনসুলিন নিঃসরণ করে।
- রক্তে শর্করার পতন: অতিরিক্ত ইনসুলিন দ্রুত শর্করাকে রক্ত থেকে সরিয়ে দেয়, যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে কমে যায় (Hypoglycemia)।
- ক্লান্তি: রক্তে শর্করার এই দ্রুত উত্থান-পতনের কারণে শরীর দুর্বল এবং ক্লান্ত অনুভব করে, যা ঘুম-ঘুম ভাবের সৃষ্টি করে।
২. ট্রিপটোফ্যান এবং সেরোটোনিনের ভূমিকা
খাবার খাওয়ার পর শরীরে আরেকটি রাসায়নিক প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা মস্তিষ্কের ক্লান্তি বাড়ায়।
- ট্রিপটোফ্যান: ভাত বা কার্বোহাইড্রেট খাওয়ার পর ইনসুলিন রক্ত থেকে অ্যামাইনো অ্যাসিডগুলোকে পেশিতে পাঠাতে সাহায্য করে। কিন্তু ট্রিপটোফ্যান (Tryptophan) নামক একটি বিশেষ অ্যামাইনো অ্যাসিড অপেক্ষাকৃত কম প্রভাবিত হয় এবং মস্তিষ্কের রক্ত-মস্তিষ্ক প্রতিবন্ধক (Blood-Brain Barrier) ভেদ করে মস্তিষ্কে প্রবেশ করে।
- সেরোটোনিন ও মেলাটোনিন: মস্তিষ্কের ট্রিপটোফ্যান তখন সেরোটোনিন (Serotonin) এবং পরে মেলাটোনিন (Melatonin) হরমোন তৈরি করে। মেলাটোনিন হলো সেই হরমোন যা আমাদের ঘুম-জাগরণের চক্র নিয়ন্ত্রণ করে এবং ক্লান্তি ও ঘুম আসার অনুভূতিকে বাড়িয়ে তোলে।
প্রতিকার: ক্লান্তি এড়াতে কী করবেন?
ভাত খাওয়ার পর ক্লান্তি এড়াতে নিম্নোক্ত পদ্ধতিগুলি মেনে চলা যেতে পারে:
- পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ: একবারে বেশি ভাত না খেয়ে পরিমিত পরিমাণে খান। প্লেটে ভাতের পরিমাণ কমিয়ে সবজি, ডাল বা প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ান।
- সঠিক সংমিশ্রণ: শুধু ভাত না খেয়ে তার সঙ্গে প্রোটিন (যেমন মাছ, ডিম, পোল্ট্রি) এবং ফাইবার (যেমন সালাদ, সবজি) যোগ করুন। প্রোটিন এবং ফাইবার কার্বোহাইড্রেটের শোষণকে ধীর করে, ফলে রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি কমে আসে।
- খাওয়ার পর হাঁটা: খাওয়ার পরপরই বসে বা শুয়ে না থেকে হালকা ১০-১৫ মিনিটের জন্য হেঁটে আসুন। এটি হজম প্রক্রিয়া শুরু করতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে।












