দুর্গাপুজো মানেই কয়েকদিন ধরে টানা আনন্দ, প্যান্ডেল হপিং, রাত জাগা, জমিয়ে খাওয়া-দাওয়া এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো। তবে এই উৎসবের আনন্দ শেষ হতেই অনেকের শরীরে ক্লান্তি ভর করে। উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই গলাব্যথা, নাক দিয়ে জল পড়া, কাশি, জ্বর, পেটের সমস্যা কিংবা চরম অবসাদ দেখা দিতে শুরু করে। অনেকেই একে শুধুমাত্র ঋতু পরিবর্তন বা উৎসবের পরিশ্রম বলে এড়িয়ে যান। অথচ এগুলো অনেক সময়ই বিশেষ সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে, যার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
ভিড়ের মধ্যে থাকার কারণে শ্বাসযন্ত্রের ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। অন্যদিকে, অনিয়মিত ঘুম, খাবারের অনিয়ম এবং পর্যাপ্ত জল না খাওয়ার ফলে শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ব্যাহত হয়। পুজোর পরের এই সাধারণ অসুস্থতাগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, যাতে দৈনন্দিন জীবনে সহজে ফিরে যাওয়া যায়।
ফ্লু-জাতীয় উপসর্গ ও সর্দি-কাশি
জ্বর, কাঁপুনি, গায়ে ব্যথা, মাথাব্যথা, কাশি এবং গলাব্যথা ইনফ্লুয়েঞ্জার লক্ষণ হতে পারে। ইনফ্লুয়েঞ্জা সাধারণভাবে ফ্লু নামে পরিচিত। জনাকীর্ণ এবং পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা নেই, এমন জায়গায় মানুষের সমাগম হলে শ্বাসযন্ত্রের ভাইরাসগুলি আরও সহজে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে উৎসবের সময় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
তবে প্রতিটি সর্দি-কাশি বা জ্বরই যে ইনফ্লুয়েঞ্জা, তা নয়। সাধারণ সর্দি, কোভিড-১৯ এবং অন্যান্য শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই নিজে-নিজে রোগ নির্ণয় করার চেষ্টা না করে সতর্ক থাকা জরুরি। মৃদু উপসর্গ পর্যাপ্ত বিশ্রাম, তরল খাবার ও সময়ের সঙ্গে সেরে উঠতে পারে। তবে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, অন্তঃসত্ত্বা মহিলা, দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং যাঁদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, তাঁদের জটিলতার ঝুঁকি বেশি। তাই এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে তাঁদের দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কিছু ক্ষেত্রে ইনফ্লুয়েঞ্জার চিকিৎসায় অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ দেওয়া হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা শুরু করলে এই ওষুধগুলি সবচেয়ে ভালো কাজ করে।
সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত হাত ধোয়া, কাশি বা হাঁচির সময় মুখ ও নাক ঢেকে রাখা এবং ঘরের ভিতরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখা জরুরি। জনাকীর্ণ আবদ্ধ জায়গায় থাকলে ভালোভাবে মুখ ও নাক ঢেকে রাখে এমন মাস্ক ব্যবহার করার কথাও বিবেচনা করা যেতে পারে। অসুস্থ বোধ করলে অন্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন। পাশাপাশি, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা নেওয়াও সংক্রমণ প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
ফ্লু-জাতীয় উপসর্গ ও সর্দি-কাশি
জ্বর, কাঁপুনি, গায়ে ব্যথা, মাথাব্যথা, কাশি এবং গলাব্যথা ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লুর লক্ষণ হতে পারে। জনাকীর্ণ ও বায়ুচলাচলহীন স্থানে শ্বাসযন্ত্রের ভাইরাস খুব দ্রুত ছড়ায়। সাধারণ সর্দি, কোভিড-১৯ এবং অন্যান্য সংক্রমণেও একই রকম উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই নিজে নিজে রোগ নির্ণয় না করে সতর্ক থাকুন। শিশু, প্রবীণ ও দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি থাকায় দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রতিরোধে নিয়মিত হাত ধোয়া, মাস্ক ব্যবহার করা এবং ভিড় এড়িয়ে চলা বাঞ্ছনীয়।
পেটের সমস্যা ও বদহজম
টানা কয়েক দিন তেল-মশলাযুক্ত খাবার, মিষ্টি ও ফাস্টফুড খাওয়ার ফলে অম্বল, বদহজম বা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দেয়। তবে ডায়রিয়া, বমি, পেটে মোচড় ও জ্বরের মতো লক্ষণ খাদ্যবাহিত সংক্রমণের ইঙ্গিতও বটে। এই সমস্যা কাটাতে আবার নিয়মিত সময়ে সুষম খাবার খাওয়ার অভ্যাসে ফিরতে হবে। খাদ্যতালিকায় ফল, শাকসবজি ও পর্যাপ্ত জল রাখুন। অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার ও মিষ্টি খাওয়া কমিয়ে দিন। সারা দিন পর্যাপ্ত পরিমাণে নিরাপদ জল পান করুন। ডায়রিয়া বা বমি হলে শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া জল ও লবণের ঘাটতি পূরণ করতে ওআরএস (ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন) সাহায্য করতে পারে। প্যাকেটের নির্দেশ অনুযায়ী সঠিক পরিমাণ জলে ওআরএস তৈরি করা জরুরি।
দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি ও অবসাদ
রাত জাগা, দীর্ঘ সময় ধরে হাঁটাহাঁটি, দৈনন্দিন রুটিনে পরিবর্তন, মদ্যপান এবং পর্যাপ্ত জল না খাওয়ার কারণে উৎসব শেষ হওয়ার পরেও শরীরে অবসাদ থেকে যেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ হল শরীরকে কিছুটা বিশ্রাম দেওয়া। নিয়মিত ঘুমের সময়সূচিতে ফিরে আসুন, পর্যাপ্ত জল পান করুন, পুষ্টিকর খাবার খান এবং ধীরে ধীরে শারীরিক পরিশ্রমের অভ্যেসে ফিরুন।
পর্যাপ্ত ঘুম শরীরকে সুস্থ হয়ে উঠতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, সুষম খাবার এবং পর্যাপ্ত জল শরীরের শক্তি পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তিকে শুধুমাত্র উৎসবের ধকল বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। বিশ্রাম নেওয়ার পরেও দুর্বলতা না কমলে কিংবা তার সঙ্গে একটানা জ্বর, মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বুকে ব্যথা, তীব্র শ্বাসকষ্ট কিংবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
বেশিরভাগ মৃদু অসুস্থতা বিশ্রামেই সেরে যায়। কিন্তু শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, বিভ্রান্তি, অতিরিক্ত জলশূন্যতা বা অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত চিকিৎসা করাতে হবে। নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া থেকে বিরত থাকুন, কারণ ভাইরাসে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না এবং এর যথেচ্ছ ব্যবহারে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি বাড়ে।
Home/Lifestyle/Post Puja Health Issues Tips: ফ্লু, পেটখারাপ, অবসাদ, ক্লান্তি- পুজোর পর অসুস্থতার ‘ঢেউ’, কী করবেন? টিপস চিকিৎসকের