Chelsea in Premier League 2026-27: ৯ ম্যাচেই ১৫ গোল হজম, তাও ডিফেন্সের ‘পজিটিভ’ দিক খুঁজে পেলেন চেলসি কোচ, কীভাবে?
Chelsea in Premier League 2026-27: প্রিমিয়ার লিগের প্রথম ন'টি ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে চেলসি। এই ম্যাচগুলিতে ব্লুজরা প্রতিপক্ষের জালে ১৯ বার বল জড়িয়েছে ঠিকই, কিন্তু একইসঙ্গে তারা ১৫টি গোল হজমও করেছে।
Chelsea in Premier League 2026-27: চলতি প্রিমিয়ার লিগ মরশুমে দারুণ শুরু করলেও দলের রক্ষণভাগের ভঙ্গুরতা নিয়ে দলের অন্দরে ও বাইরে বেশ আলোচনা চলছে। আর সেই বিষয়টি নিয়ে এবার সরাসরি মুখ খুললেন চেলসি ম্যানেজার জাবি আলোনসো। দলের রক্ষণাত্মক দুর্বলতা স্বীকার করে নিয়ে স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দিয়েছেন যে, লিগে টিকে থাকতে হলে এবং শীর্ষস্থানের লড়াই ধরে রাখতে হলে রক্ষণভাগে গোল খাওয়া কমাতেই হবে। আপাতত এই সমস্যা দূর করাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন তিনি।

রক্ষণ নিয়ে যা বললেন জাবি আলোনসো
চলতি প্রিমিয়ার লিগের প্রথম ন'টি ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে চেলসি। এই ম্যাচগুলিতে ব্লুজরা প্রতিপক্ষের জালে ১৯ বার বল জড়িয়েছে ঠিকই, কিন্তু একইসঙ্গে তারা ১৫টি গোল হজমও করেছে। এই পরিসংখ্যানটিই বর্তমানে ম্যানেজারের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
জিয়োস্টারের শেয়ার করা এক সাক্ষাৎকারে আলোনসো জানান যে, রক্ষণভাগের এই করুণ দশার পিছনে কোনও নির্দিষ্ট একটি কারণ নেই। তবে তিনি আত্মবিশ্বাসী যে সঠিক দলগত সংগঠন ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধের মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। তিনি বলেন, ‘আমাদের রক্ষণ থেকে প্রচুর গোল হজম করার পিছনে নির্দিষ্ট কোনও একটি কারণ নেই। তবে এটি এমন একটি দিক যেখানে আমরা উন্নতি করতে বদ্ধপরিকর এবং আমি মনে করি আমরা পারব। আমরা সেই প্রক্রিয়া এবং উন্নতির মধ্য দিয়েই এগোচ্ছি। তবে আমাদের বুঝতে হবে যে কম গোল হজম করাটা এখন অপরিহার্য।’
দলের ডিফেন্সিভ শেপ বা পজিশনিং নিয়ে যে নিয়মিত কাজ চলছে, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। আলোনসোর মতে, বেশির বড় ভুল বা প্রতিপক্ষের নিখুঁত আক্রমণে দল গোল খাচ্ছে না, বরং ছোটোখাটো ব্যক্তিগত বা পজিশনাল ভুল থেকেই গোলগুলি আসছে। এটি ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন তিনি, কারণ ছোটোখাটো ভুলগুলি শোধরানো অপেক্ষাকৃত সহজ। পুরো দল মিলে আরও কমপ্যাক্ট হওয়া, নিজেদের ওয়ান-টু-ওয়ান ডুয়েল জয় করা এবং প্রতিপক্ষের বক্সে আরও ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন তিনি। একই সঙ্গে ডিফেন্ডারদের পাশাপাশি ফরোয়ার্ডদেরও নিচ থেকে প্রেসিং ও ট্র্যাকিং ব্যাক করার মাধ্যমে রক্ষণ সামলানোর তাগিদ দিয়েছেন চেলসি বস।
কোল পালমারের সঠিক পজিশন এবং ভূমিকা
দলের তারকা মিডফিল্ডার কোল পালমারের পজিশন নিয়েও নিজের পরিকল্পনা পরিষ্কার করেছেন আলোনসো। তাঁর মতে, পালমারের আসল কার্যকারিতা লুকিয়ে রয়েছে সেন্ট্রাল অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার পজিশনে। ফরোয়ার্ডদের ঠিক পিছনে এবং প্রতিপক্ষের ডিফেন্সিভ লাইনের সামনের ফাঁকা জায়গাটিতে যখন পালমার বল পান, তখনই তিনি দলের জন্য সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠেন।
এক পাসেই দুই-তিনজন ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করা কিংবা সঠিক সময়ে বক্সে প্রবেশ করার দুর্লভ ক্ষমতা রয়েছে এই তরুণ ইংলিশ তারকার। শুধুমাত্র আক্রমণ তৈরি করাই নয়, বলের দখল হারিয়ে গেলে নিচে নেমে এসে প্রেস করা এবং রক্ষণকে সাহায্য করার ক্ষেত্রেও পালমারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন কোচ।
আক্রমণ ও শৃঙ্খলার নিখুঁত ভারসাম্য
দলের ফুটবলারদের যেমন মাঠে স্বাধীনভাবে খেলার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে, তেমনই ট্যাকটিক্যাল শৃঙ্খলার প্রয়োজনীয়তার কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন আলোনসো। তিনি জানান, শুধুমাত্র দায়িত্বজ্ঞানহীন বা এলোমেলো স্বাধীনতা দিলে চলে না, দলের প্রয়োজনের সঙ্গে সংগতি রেখেই মাঠে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কোল পালমার ছাড়াও মরগান রজার্স, জোয়াও পেদ্রো এবং এস্তেভাওয়ের মতো প্রতিভাবান ফুটবলারদের নিয়েই দলের আক্রমণভাগ সাজানো হয়েছে, যাঁদের সঠিক ব্যবহারই দলের জয়ের চাবিকাঠি।
প্রিমিয়ার লিগের কঠিন প্রতিযোগিতার কথা বলতে গিয়ে আলোনসো স্বীকার করেছেন যে এই লিগে কোনও ছোট দল বলে কিছু নেই। সামান্য অসাবধানতা বা এক মুহূর্তের মনোযোগের অভাব বড় মাশুল আদায় করতে পারে। আগামী ম্যাচে সান্ডারল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে দলের রক্ষণভাগের ভুলত্রুটি শুধরে জয়ের ধারা বজায় রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য জাবি আলোনসোর দলের।
E-Paper

