Ratanti Kali Puja 2025 Myth: রটন্তী কালী পুজোর দিন দক্ষিণেশ্বরে ‘ঘটে’ এই অলৌকিক ঘটনা! সেই থেকেই শুরু পুণ্যস্নানের রীতি
Ratanti Kali Puja 2025 At Dakshineswar: রটন্তী কালী পুজোর দিন দক্ষিণেশ্বরে ভোর ভোর পুণ্যার্থীরা পুণ্যস্নানে যান। এর নেপথ্যে রয়েছে এক অলৌকিক ঘটনা।
রটন্তী কালী পুজোর দিন মহাসমারোহে মায়ের পুজো হয় বিভিন্ন মন্দিরে। ব্যতিক্রম নয় দক্ষিণেশ্বর মন্দিরও। সেখানেই একবার এক অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী হয় পুণ্যার্থীরা। ঘটনাটির দর্শক ছিলেন স্বয়ং শ্রীরামকৃষ্ণও। রটন্তী কালী পুজোর দিন ভোর ভোর দক্ষিণেশ্বরে মানুষের ঢল নামে। পুণ্যস্নানে রত থাকেন পুণ্যার্থীরা। এর নেপথ্যে প্রায় দুই শতক আগেকার সেই কাহিনি।
শ্রীরামকৃষ্ণ বর্ণিত কাহিনি
লোকমতে প্রচলিত, শ্রীরামকৃষ্ণ একবার বলেছিলেন স্বর্গের দেবতাদের দেখার কথা। রটন্তী কালী পুজোর ভোরে দক্ষিণেশ্বরের গঙ্গায় স্বর্গ থেকে একে একে দেবতারা নেমে আসছেন। স্নান করতেই তাঁদের মর্ত্যে অবতরণ। ঠাকুর বর্ণিত এই দৃশ্য রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল তখনকার ভক্তকুলের মধ্যে। তার পর থেকেই দক্ষিণেশ্বরে শুরু হয় পুণ্যস্নানের রেওয়াজ। আজও এই পুণ্যস্নানের রেওয়াজ অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছর জানুয়ারি মাসের শেষেই রটন্তী কালী পুজো। ফলে এখন থেকেই তার তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে মন্দিরে মন্দিরে।
আরও পড়ুন - কীসের রটনা থেকে শুরু রটন্তী কালী পুজো? দেবীর আবির্ভাবের নেপথ্যে ভয়াল কাহিনি
কবে রটন্তী কালী পুজো?
মাঘ মাসের চতুর্দশী তিথিতে এই পুজো হয়। অমাবস্যা তিথির একদিন আগে এই পুজো অনুষ্ঠিত হয়। রটন্তী কালীপুজোর এটাই মাহাত্ম্য। চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে রটন্তী কালী পুজো পড়েছে ২৮ জানুয়ারি। চতুর্দশী তিথি আগের দিন ২৭ জানুয়ারি রাত্রি ৭টা ৪৪ মিনিট থেকে শুরু হচ্ছে এবং শেষ হচ্ছে ২৮ জানুয়ারি ৭ টা ৩১ মিনিটে।
রটন্তী কালী নাম কেন?
রটন্তী কালীর নামে রটন্তী শব্দটি এসেছে ‘রটনা’ শব্দ থেকে। যার অর্থ কোনওকিছু রটে যাওয়া বা প্রচারিত হওয়া। কথিত আছে, এই দিনেই মা দূর্গার উগ্রকেশী করাল রূপ মা কালীর দেবীমাহাত্ম্য ত্রিলোকজুড়ে রটে গিয়েছিল। তবে রটনার নেপথ্যে আরও একটি তত্ত্ব খাঁড়া করা হয়। সেই তত্ত্বের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছেন মহাভারতের অন্যতম নায়ক দেবকীপুত্র শ্রীকৃষ্ণ।
আরও পড়ুন - জল খাওয়ার পরেই এই ৫ ঘটনা ঘটে আপনার শরীরে? কিডনি খারাপ হওয়ার লক্ষণ হতে পারে
বৃন্দাবনে আদ্যাশক্তির আবির্ভাব
শাস্ত্রমতে, বৃন্দাবনে তখন শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে প্রেমলীলায় মত্ত ছিলেন রাধা। একদিন অপরাহ্নে (অর্থাৎ দুপুরে) গোপিণীরা বাঁশির অদ্ভুত আওয়াজ শুনতে পান। সকলে সেই সুর লক্ষ করে দৌড়ে যান উৎস সন্ধানে। গিয়ে দেখতে পান সামনেই ইষ্টমূর্তি। শ্রীরাধাই স্বয়ং আদ্যাশক্তি। গোপিণীরা সেইদিনই সে কথা অনুধাবন করেন। মনে করা হয়, ওই দিনের কাহিনি ধরেই সূত্রপাত রটন্তী কালীর পুজোর।
E-Paper

