Republic Day 2026 History: স্বীকৃতি পেল উপমহাদেশের গণতন্ত্র, কেমন ছিল প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবস, জানুন
Republic Day 2026 History: ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস (Republic Day) প্রতি বছর ২৬ জানুয়ারি উদযাপিত হয়, এবং এটি ভারতের সংবিধান কার্যকর হওয়ার দিন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। কেমন ছিল প্রথম দিনটি?
ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস (Republic Day) প্রতি বছর ২৬ জানুয়ারি উদযাপিত হয়, এবং এটি ভারতের সংবিধান কার্যকর হওয়ার দিন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের ইতিহাসটি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। চলুন, এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় নিয়ে জানি:

১. প্রথম গণতান্ত্রিক দিন
ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে উদযাপন শুরু হয়, যেদিন ভারতীয় সংবিধান কার্যকর হয়। ভারতীয় সংবিধান একটি দেশের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে শক্তিশালী আইনগত দলিল, যা ভারতের সমস্ত নাগরিকের অধিকার, কর্তব্য এবং সরকারের কাঠামো নির্ধারণ করে। এর মাধ্যমে ভারত একটি স্বাধীন এবং গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
২. ২৬ জানুয়ারি, ১৯৩০: "পূর্ণস্বাধীনতা" ঘোষণা
ভারতীয় প্রজাতন্ত্র দিবসের পিছনে একটি ঐতিহাসিক কারণ রয়েছে। ১৯৩০ সালের ২৬ জানুয়ারি, জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে লাহোরে "পূর্ণস্বাধীনতা" (Purna Swaraj) ঘোষণা করা হয়, যার ফলে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও তীব্র হয়। এই দিনটি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং পরে ২৬ জানুয়ারি ভারতের স্বাধীনতার জন্য লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে ওঠে।
৩. সংবিধানের গঠন
ভারতের সংবিধান রচনা শুরু হয়েছিল ১৯৪৬ সালে, যখন ভারতীয় সংবিধান কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এই কমিটির সভাপতি ছিলেন ডॉ. বিআর আম্বেডকর। কমিটি দীর্ঘ ২ বছর ১১ মাস এবং ১৮ দিন কাজ করে, এবং ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর সংবিধান অনুমোদিত হয়। তবে এটি কার্যকর হয় ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি, যেদিন ভারতের প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
৪. প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবস
ভারতের প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন করা হয় ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি। দিল্লির রাজপথে এক ঐতিহাসিক ও জাঁকালো প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি ডॉ. রাজেন্দ্র প্রসাদ পতাকা উত্তোলন করেন। প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবসে জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন না, কারণ তিনি ১৯৪৮ সালে নিহত হন।
৫. প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেড
প্রতিবছর ২৬ জানুয়ারি দিল্লির রাজপথে প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। এই প্যারেডে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল নিজেদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং অর্জনগুলো প্রদর্শন করে। প্রধান অতিথি হিসেবে বিশ্বের কোনো একজন গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। ভারতের রাষ্ট্রপতি প্যারেডের শুরুর অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।
৬. ভারতের জাতীয় পুরস্কার
প্রজাতন্ত্র দিবসে, দেশব্যাপী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদক এবং পুরস্কার প্রদান করা হয়, যেমন 'ভারত রত্ন', 'পদ্মবিভূষণ', 'পদ্মশ্রী' এবং 'পদ্মভূষণ'। এই পুরস্কারগুলো মানুষের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান এবং ভারতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারীদের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয়।
৭. দেশপ্রেম ও ঐক্য
প্রজাতন্ত্র দিবস ভারতের জাতির একতা, স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের সশক্ত প্রদর্শন। এটি ভারতীয় জনগণের মধ্যে দেশপ্রেম এবং ঐক্যের অনুভূতি জাগ্রত করতে সহায়তা করে।
প্রজাতন্ত্র দিবসের ইতিহাস ভারতের স্বাধীনতার সংগ্রামের ধারাবাহিকতা এবং ভারতের গর্বিত গণতান্ত্রিক শাসনের উদযাপন। এটি একটি দিন যখন ভারতীয় জনগণ একত্রিত হয়ে নিজেদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং দেশের প্রতি ভালোবাসাকে উদযাপন করে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


