মেদ কমাতে চান? ভাত নাকি রুটি—কোনটি বেশি উপকারী হতে পারে
দুটিই ভারতীয় খাদ্যাভ্যাসের প্রধান কার্বোহাইড্রেট উৎস। যদিও উভয়ই শরীরকে শক্তি যোগায়, তবে এগুলির পুষ্টিগুণ, ক্যালোরি এবং হজমের প্রক্রিয়ার ভিন্নতার কারণে ওজন কমানোর ক্ষেত্রে একটি অন্যটির চেয়ে সামান্য বেশি সুবিধাজনক হতে পারে।
ওজন কমানো বা মেদ ঝরানোর প্রসঙ্গে বাঙালি সমাজে সবথেকে বেশি যে প্রশ্নটি ওঠে তা হলো—ভাত (Rice) না কি রুটি (Roti/Chapati), কোনটি বেশি উপকারী? দুটিই ভারতীয় খাদ্যাভ্যাসের প্রধান কার্বোহাইড্রেট উৎস। যদিও উভয়ই শরীরকে শক্তি যোগায়, তবে এগুলির পুষ্টিগুণ, ক্যালোরি এবং হজমের প্রক্রিয়ার ভিন্নতার কারণে ওজন কমানোর ক্ষেত্রে একটি অন্যটির চেয়ে সামান্য বেশি সুবিধাজনক হতে পারে।

মেদ কমাতে ভাত নাকি রুটি, কোনটি বেশি উপকারী এবং কেন, তা জেনে নিন।
১. পুষ্টির তুলনামূলক বিশ্লেষণ
ভাত এবং রুটি, উভয়েরই মূল উপাদান কার্বোহাইড্রেট হলেও, এদের ফাইবার, সোডিয়াম এবং ক্যালোরির পরিমাণে পার্থক্য রয়েছে:
| বৈশিষ্ট্য | ভাত (১ কাপ রান্না করা ভাত, প্রায় ১৫০ গ্রাম) | রুটি (১টি মাঝারি আকারের রুটি, প্রায় ৬০ গ্রাম) |
|---|---|---|
| ক্যালোরি | প্রায় ১৯০-২০০ কিলোক্যালোরি | প্রায় ১২০-১৫০ কিলোক্যালোরি |
| ফাইবার (আঁশ) | ০.৫ গ্রাম (সাদা ভাত) থেকে ১.৫ গ্রাম (ব্রাউন রাইস) | ২ থেকে ৩ গ্রাম (আটা বা গোটা শস্যের রুটি) |
| সোডিয়াম | প্রায় শূন্য | প্রায় ১০০-১৫০ মিলিগ্রাম (আটা মাখার সময় নুন যোগ করা হয়) |
| হজম | দ্রুত হজম হয় (উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্স) | ধীরে হজম হয় (তুলনামূলকভাবে কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স) |
২. ওজন কমানোর ক্ষেত্রে কার ভূমিকা বেশি?
পুষ্টির এই পার্থক্যগুলি বিবেচনা করলে, ওজন কমানোর ক্ষেত্রে রুটি (বিশেষত আটার রুটি) সামান্য বেশি উপকারী হতে পারে। কারণ:
ক. উচ্চ ফাইবার (আঁশ)
রুটিতে ভাতের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ফাইবার থাকে, বিশেষ করে যদি তা আটা (Whole Wheat Flour) দিয়ে তৈরি হয়।
- পেট ভরা: ফাইবার হজম হতে বেশি সময় নেয়, ফলে রুটি খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে। এতে ঘন ঘন খিদে পায় না এবং আপনি কম ক্যালোরি গ্রহণ করেন।
- গ্লাইসেমিক ইনডেক্স: ফাইবার থাকার কারণে রুটির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) ভাতের (সাদা ভাত) চেয়ে কম। কম GI যুক্ত খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ায়, যা চর্বি জমা হওয়ার প্রক্রিয়াকে কমিয়ে দেয়।
খ. ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণ
একই পরিমাণে রুটি এবং ভাতের তুলনামূলক পরিবেশন করলে, রুটিতে কম ক্যালোরি থাকে। যেমন, দুটি মাঝারি রুটিতে যে পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট থাকে, তা প্রায় এক কাপ ভাতের সমান ক্যালোরি সরবরাহ করে।
৩. কখন ভাত ভালো?
ওজন কমানোর সময়ও ভাত খাওয়া যেতে পারে, তবে কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হবে:
- ব্রাউন রাইস: সাদা ভাতের বদলে ব্রাউন রাইস বা লাল চালের ভাত খান। এতে সাদা ভাতের চেয়ে অনেক বেশি ফাইবার এবং পুষ্টি থাকে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ: ভাত খাওয়ার সময় অবশ্যই পরিমাণের দিকে নজর দিন।
- কম্বিনেশন: ভাতের সঙ্গে প্রচুর সবজি এবং প্রোটিন (ডাল বা মাছ) রাখুন, যাতে খাবারের GI কমে যায় এবং পেট দীর্ঘক্ষণ ভরা থাকে।
৪. চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: নিয়ন্ত্রণই মূল চাবিকাঠি
মেদ কমানোর জন্য কেবল ভাত বা রুটি বেছে নিলেই হবে না, বরং আপনার মোট ক্যালোরি গ্রহণ (Calorie Intake) এবং পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ (Portion Control) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- সেরা বিকল্প: ফাইবার এবং পুষ্টির জন্য আটার রুটি বা ব্রাউন রাইস-কে অগ্রাধিকার দিন।
- গুরুত্বপূর্ণ: আপনার প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রক্রিয়াজাত চিনি, অতিরিক্ত ফ্যাট এবং অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া এড়িয়ে চলা।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


