Quote of the Day: ‘…আমি খুঁজে পেয়েছি’, ফুটবল থেকেই আধ্যাত্মিকতার দিকে যাত্রা করেন তিনি, কী বলেছিলেন বাজ্জো
Quote of the Day: এটি হলো একজন মানুষের নিজের ভেতরের শান্তি খুঁজে পাওয়ার সংগ্রাম। ইতালির মতো ক্যাথলিক দেশে জন্মেও তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণের মাধ্যমে নিজের জীবনের দিশা খুঁজে পেয়েছিলেন।
Quote of the Day: ফুটবল মাঠে রবার্তো বাজ্জো ছিলেন এক অনন্য প্রতিভা। তাঁর ড্রিবলিং, ফ্রি-কিক আর নিখুঁত পাস ফুটবলপ্রেমীদের চোখে প্রশান্তি এনে দিত। কিন্তু বাজ্জোর জীবন কেবল গোল বা ট্রফি জয়ের গল্প নয়; এটি হলো একজন মানুষের নিজের ভেতরের শান্তি খুঁজে পাওয়ার সংগ্রাম। ইতালির মতো কট্টর ক্যাথলিক দেশে জন্মেও তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণের মাধ্যমে নিজের জীবনের দিশা খুঁজে পেয়েছিলেন।

আজকের অমোঘ বাণী (Quote of the Day)
"তোমার ধর্ম যাই হোক না কেন, তোমাকে তোমার অভ্যন্তরীণ সুখ খুঁজে বের করতে হবে— যা আমি খুঁজে পেয়েছি।" (Whatever your religion, you have to find internal happiness, which I found)
ব্যাখ্যা: বাজ্জো মনে করতেন, বাহ্যিক সাফল্য বা ধর্মীয় পরিচয় মানুষকে প্রকৃত শান্তি দিতে পারে না। মানুষের আসল সার্থকতা হলো নিজের মনের গভীরে আনন্দ এবং স্থিরতা খুঁজে পাওয়া। ফুটবল মাঠের প্রচণ্ড চাপ আর ব্যক্তিগত জীবনের চড়াই-উতরাইয়ের মাঝে তিনি এই মানসিক শান্তিকেই সবচেয়ে বড় জয় হিসেবে দেখতেন।
জীবনের কিছু হৃদয়স্পর্শী অ্যানেকডোট (Anecdotes)
বাজ্জোর জীবনে সাফল্য আর বিষাদ হাত ধরাধরি করে চলেছে। তাঁর জীবন থেকে নেওয়া দুটি ঘটনা আজও ভক্তদের চোখে জল এনে দেয়:
১. ১৯৯৪ বিশ্বকাপের সেই পেনাল্টি: ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বিষাদময় মুহূর্তগুলোর মধ্যে একটি হলো ১৯৯৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে বাজ্জোর সেই পেনাল্টি মিস। একার কাঁধে টেনে ইতালিকে ফাইনালে তোলা বাজ্জোর শটটি যখন পোস্টের ওপর দিয়ে উড়ে গেল, তখন তিনি স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বাজ্জো পরবর্তীকালে বলেছিলেন, "সেই মুহূর্তে আমি আমার ভেতরেই মারা যাচ্ছিলাম।" অথচ সেই টুর্নামেন্টে তিনি না থাকলে ইতালি ফাইনালেই পৌঁছাতে পারত না। ওই একটি শট তাঁর সারা জীবনের অর্জনকে ম্লান করতে পারেনি।
২. চোটের বিরুদ্ধে আজীবন যুদ্ধ: বাজ্জোর কেরিয়ার শুরুই হয়েছিল এক ভয়াবহ চোট দিয়ে। ১৮ বছর বয়সে তাঁর হাঁটুতে ২২০টি সেলাই দিতে হয়েছিল। চিকিৎসকরা বলেছিলেন তিনি হয়তো আর হাঁটতেই পারবেন না, খেলা তো দূরের কথা। কিন্তু বৌদ্ধধর্মের সাধনা আর অদম্য জেদ নিয়ে তিনি ফিরে আসেন। সারা জীবন অসহ্য শারীরিক যন্ত্রণা নিয়ে খেলে তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে মনের জোর শরীরের সীমাবদ্ধতাকে হার মানাতে পারে।
সংক্ষিপ্ত জীবনী (Short Biography)
- জন্ম ও উত্থান: ১৯৬৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ইতালির ক্যালডোগনোতে রবার্তো বাজ্জো জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তাঁর ফুটবলের প্রতি সহজাত প্রতিভা লক্ষ্য করা যায়। ভিনসেঞ্জা ক্লাবে তাঁর পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু হলেও তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান ফিওরেন্তিনা এবং জুভেন্টাসে খেলার সময়।
- সাফল্যের শিখর: ১৯৯৩ সালে তিনি ফুটবল বিশ্বের সর্বোচ্চ সম্মান 'ব্যালন ডি’অর' এবং ফিফা ওয়ার্ল্ড প্লেয়ার অফ দ্য ইয়ার খেতাব জয় করেন। জুভেন্টাস, এসি মিলান এবং ইন্টার মিলানের মতো ইতালির তিন প্রধান ক্লাবেই তিনি তাঁর জাদুর ছাপ রেখে গেছেন। তিনি ইতালির একমাত্র খেলোয়াড় যিনি তিনটি আলাদা বিশ্বকাপে গোল করেছেন।
- আধ্যাত্মিক জীবন: বাজ্জো ১৯৮০-র দশকে বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন। এটি তাঁকে কেবল একজন ভালো খেলোয়াড় নয়, একজন সংবেদনশীল মানুষ হিসেবেও গড়ে তোলে। ২০০৪ সালে ব্রেসিয়া ক্লাবের হয়ে তিনি ফুটবল থেকে বিদায় নেন। অবসরের পর তিনি এফএও (FAO) এবং বিশ্ব শান্তি আন্দোলনের হয়ে কাজ করে চলেছেন।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


