Shantiniketan and Kolkata Art Exhibition: জেলের দেওয়াল থেকে শিল্পের আঙিনা- জীবানন্দ দাশের ‘বনলতা’ থিমে শিল্প প্রদর্শনী

Shantiniketan and Kolkata Art Exhibition: উদ্যোক্তাদের দাবি, কলকাতার আধুনিক সমকালীন শিল্পচর্চা এবং শান্তিনিকেতনের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক ধারাকে একমঞ্চে এনে স্থানীয় আর্ট কালচারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিল্পের সুদৃঢ় সেতুবন্ধন তৈরি করা হবে।

Published on: Oct 15, 2026, 13:41:54 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

Shantiniketan and Kolkata Art Exhibition: শিল্প কি শুধুই ক্যানভাসে রং এবং তুলির টানটান খেলা? নাকি পুরনো রাজবাড়ির নোনা ধরা দেওয়াল, একসময়ের অন্ধকার কারাগার, হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস আর প্রকৃতির গভীরে লুকিয়ে থাকা মানবজীবনের সম্পর্কের রূপকথা? এই চিরন্তন প্রশ্নগুলি নিয়েই ফিরল বেঙ্গল বিয়েনালে। কলকাতা এবং শান্তিনিকেতনের বিভিন্ন জায়গায় হচ্ছে দ্বিতীয় সংস্করণ। আগামী ২৫ নভেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে এই বৈচিত্র্যময় শিল্প উৎসব। ঐতিহ্যবাহী শান্তিনিকেতনে প্রদর্শনীর শুভ সূচনা হবে ২৫ নভেম্বর থেকে। অন্যদিকে, তিলোত্তমা কলকাতায় আর্ট ফেস্ট শুরু হবে ২৮ নভেম্বর থেকে।

জেলের দেওয়াল থেকে শিল্পের আঙিনা- জীবানন্দ দাশের ‘বনলতা’ থিমে শিল্পকলা প্রদর্শনী। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্যে ন্যানো ব্যানানা দিয়ে তৈরি)
জেলের দেওয়াল থেকে শিল্পের আঙিনা- জীবানন্দ দাশের ‘বনলতা’ থিমে শিল্পকলা প্রদর্শনী। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্যে ন্যানো ব্যানানা দিয়ে তৈরি)

আয়োজকদের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের সমৃদ্ধ শিল্প ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চের বিস্তৃত পরিসরে যুক্ত করার এক প্রয়াস হিসেবে এই আয়োজন করা হয়েছে। দুই শহরের একাধিক ঐতিহাসিক স্থান, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং শিল্পীদের নিজস্ব সৃষ্টিশীল ক্ষেত্রকে এক সূতোয় বাঁধতে চলেছে এই বিশাল মেগা ইভেন্ট।

গেমপ্ল্যান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই দ্বিতীয় সংস্করণের মূল আয়োজক হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও মালবিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারের যৌথভাবে কিউরেট করছেন কলকাতার শিল্পী-সমষ্টি ‘চাঁদের হাট’ এবং গবেষক ঋতিকা বিশ্বাস।

‘বনলতা’: কবিতার অনুভূতির সঙ্গে প্রকৃতির মেলবন্ধন

এবারের বিয়েনালের মূল থিম বা প্রতিপাদ্য হল ‘বনলতা’। আয়োজকদের দাবি, রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের কালজয়ী কবিতা ‘বনলতা সেন’-এর গভীর অনুভব থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই থিম নির্বাচন করা হয়েছে। তবে এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে বুনো লতাগুল্মের বাস্তুতন্ত্র বা পরিবেশতত্ত্বকে। মাটির গভীরে লুকিয়ে থাকা অদৃশ্য জগৎ, বিস্মৃত ইতিহাস, মানুষের পারস্পরিক জীবনের নির্ভরতা, সংকট দূর করার প্রতিরোধ এবং একসঙ্গে বাঁচবার রসদ—সব কিছু মিলেই গড়ে উঠেছে এবারের শিল্পের অন্তর্নিহিত দর্শন।

তাঁরা দাবি করেছেন, এখানে ইতিহাস শুধু প্রাচীন বইয়ের ধূলোবালি মাখা পাতায় আটকে থাকবে না। শতবর্ষের পুরনো বাড়ি, ব্রিটিশ আমলের প্রাক্তন কারাগার কিংবা সবুজে ঘেরা উদ্যানও হয়ে উঠবে শিল্পের জটিল ভাষা বোঝার এক একটি সাবলীল মাধ্যম। যেসব স্থান সময়ের সাথে সাথে নানা উত্থান-পতনের স্মৃতি বহন করে চলেছে, সেগুলিকে এক নতুন দৃষ্টিতে দেখতে উৎসাহিত করবে ‘বনলতা’।