রাতে মাথায় তেল মেখে ঘুমোচ্ছেন? আদৌ উপকার হচ্ছে তাতে? নাকি অপকারই করছেন

আধুনিক জীবনযাত্রায় এবং দূষণের এই সময়ে দাঁড়িয়ে সারা রাত চুলে তেল মেখে রাখা কি সত্যিই বুদ্ধিমানের কাজ? নাকি এটি উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করছে? কী বলছে আয়ুর্বেদ?

Published on: Jan 5, 2026, 17:03:42 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

চুল পড়া রোধ করতে বা নতুন চুল গজাতে আমরা সবার আগে ভরসা করি তেলের ওপর। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে মাথায় ভালো করে তেল মালিশ করে শুয়ে পড়া আমাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এক চিরাচরিত অভ্যাস। কিন্তু আধুনিক জীবনযাত্রায় এবং দূষণের এই সময়ে দাঁড়িয়ে সারা রাত চুলে তেল মেখে রাখা কি সত্যিই বুদ্ধিমানের কাজ? নাকি এটি উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করছে?

রাতে মাথায় তেল মেখে ঘুমোচ্ছেন? আদৌ উপকার হচ্ছে তাতে? নাকি অপকারই করছেন
রাতে মাথায় তেল মেখে ঘুমোচ্ছেন? আদৌ উপকার হচ্ছে তাতে? নাকি অপকারই করছেন

আয়ুর্বেদ শাস্ত্র এবং আধুনিক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে তেল মাখার এই অভ্যাসটি নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আপনার জেনে রাখা প্রয়োজন।

রাতে তেল মাখা কি সত্যিই উপকারী?

আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে মাথাকে শরীরের উত্তমাঙ্গ বলা হয়েছে। আয়ুর্বেদ মতে, মাথায় তেল দেওয়া বা 'মস্তক তৈল' প্রয়োগের প্রধান উদ্দেশ্য হলো স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখা এবং চুলের গোড়ায় পুষ্টি পৌঁছানো। কিন্তু রাতে তেল মেখে ঘুমোনোর বিষয়ে দ্বিমত রয়েছে:

১. আয়ুর্বেদিক দৃষ্টিভঙ্গি (The Ayurvedic Perspective)

আয়ুর্বেদ অনুযায়ী, তেলের কাজ হলো শরীরকে শীতল রাখা। রাতে তেল মেখে শুলে তা মাথায় দীর্ঘক্ষণ থাকে, যা কফ্ দোষ বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে যাদের সাইনাস বা সর্দি-কাশির ধাত আছে, তাদের সমস্যা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে হালকা গরম তেল (যেমন—ভৃঙ্গরাজ বা তিল তেল) মালিশ করলে ঘুম ভালো হয়।

২. আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান কী বলছে?

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, সারা রাত মাথায় তেল মেখে রাখা আপনার ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

  • ব্রণর সমস্যা: তেলের আস্তরণ সারা রাত কপাল বা গালের ত্বকের সংস্পর্শে এলে রোমকূপ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কপালে এবং পিঠে ব্রণ হওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়।
  • ধুলোবালি ও ছত্রাক: তেল চিটচিটে চুলে বালিশের ধুলোবালি দ্রুত আটকে যায়। এতে স্ক্যাল্পে ছত্রাক বা ম্যালাসেজিয়া (Malassezia) নামক ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি ঘটে, যা খুশকির প্রধান কারণ।

তেল মাখার সঠিক নিয়ম: কখন এবং কতক্ষণ?

চুলের সুস্বাস্থ্য পেতে সারা রাত তেল মেখে রাখার প্রয়োজন নেই। নিচে দেওয়া নিয়মগুলো মেনে চললে আপনি পাবেন সেরা ফলাফল:

  • ১. ৩০ মিনিট থেকে ২ ঘণ্টা: শ্যাম্পু করার অন্তত ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা আগে তেল মাখা যথেষ্ট। এতে চুলের কিউটিকল প্রয়োজনীয় পুষ্টি শুষে নেয়। ২ ঘণ্টার বেশি তেল মেখে রাখলে তা আর কোনো বাড়তি উপকার দেয় না।
  • ২. হালকা গরম তেল: তেল সরাসরি গরম না করে একটি বাটিতে নিয়ে গরম জলের ওপর রেখে হালকা উষ্ণ করে নিন। উষ্ণ তেল চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়।
  • ৩. গোড়ায় মালিশ, চুলে নয়: তেলের মূল কাজ স্ক্যাল্পে, চুলের ডগায় নয়। নখ দিয়ে ঘষবেন না, আঙুলের ডগা দিয়ে আলতো করে মালিশ করুন।

আপনার যদি খুব শুষ্ক চুল হয়, তবে সপ্তাহে একদিন রাতে তেল মেখে পরদিন সকালে ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলতে পারেন। তবে তৈলাক্ত স্ক্যাল্প বা খুশকির সমস্যা থাকলে রাতে তেল মাখার অভ্যাস আজই ত্যাগ করুন। মনে রাখবেন, চুলের স্বাস্থ্য কেবল তেলের ওপর নয়, আপনার খাদ্যাভ্যাস এবং পর্যাপ্ত ঘুমের ওপরও নির্ভর করে।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More