রোজ চায়ের সাথে বিস্কুট খাচ্ছেন? অজান্তেই ডেকে আনছেন না তো মারাত্মক বিপদ

ছোট-বড় সবার অত্যন্ত প্রিয় এই বিস্কুট প্রতিদিন খাওয়ার অভ্যাস আমাদের শরীরে অত্যন্ত মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে? পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, বিস্কুট প্রক্রিয়াজাত (Processed Food) হওয়ার কারণে এর উপাদানগুলো দীর্ঘমেয়াদে আমাদের শরীরের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলে। 

Published on: Aug 14, 2026, 09:54:20 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

সকালের ঘুম ভাঙার পর ধোঁয়া ওঠা গরম এক কাপ চা আর তার সাথে দুটো বিস্কুট—বাঙালির অত্যন্ত প্রিয় ও চিরপরিচিত এক সকালের রুটিন। শুধু সকাল কেন, বিকেলের আড্ডা, অফিসের কাজের ক্লান্তি কাটানো কিংবা হালকা খিদের জরুরি সমাধান হিসেবে আমরা প্রায় প্রতিদিনই বিস্কুট খেয়ে থাকি। বাজারচলতি ক্রিম বিস্কুট, মারি বিস্কুট, সালটি বা ডায়াবেটিক বিস্কুট—যেটিই হোক না কেন, স্ন্যাকস হিসেবে এর জনপ্রিয়তা সর্বত্র।

রোজ চায়ের সাথে বিস্কুট খাচ্ছেন? অজান্তেই ডেকে আনছেন না তো মারাত্মক বিপদ
রোজ চায়ের সাথে বিস্কুট খাচ্ছেন? অজান্তেই ডেকে আনছেন না তো মারাত্মক বিপদ

তবে আপনি কি জানেন, ছোট-বড় সবার অত্যন্ত প্রিয় এই বিস্কুট প্রতিদিন খাওয়ার অভ্যাস আমাদের শরীরে অত্যন্ত মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে? পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, বিস্কুট প্রক্রিয়াজাত (Processed Food) হওয়ার কারণে এর উপাদানগুলো দীর্ঘমেয়াদে আমাদের শরীরের পরিপাকতন্ত্র, হৃদযন্ত্র ও রক্তে শর্করার মাত্রায় চরম অনিয়ম তৈরি করে। প্রতিদিন বিস্কুট খেলে শরীরে ঠিক কী কী ঘটে এবং কেন এই অভ্যাসে রাশ টানা দরকার, জেনে নিন।

১. প্রতিদিন বিস্কুট খেলে শরীরে যেসব ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে

ক) অতিরিক্ত রিফাইন্ড ময়দার বিষক্রিয়া (Refined Flour / Maida): বাজারে প্রাপ্ত প্রায় ৯০ শতাংশ বিস্কুট তৈরি হয় মিহি রিফাইন্ড ময়দা দিয়ে। ময়দা তৈরি করার সময় আটার সমস্ত ফাইবার, প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেলস পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, ময়দাকে সাদা ও মসৃণ করার জন্য যে কেমিক্যাল ব্লিচিং করা হয়, তা পাকস্থলীর জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। নিয়মিত ময়দা শরীরে গেলে হজমপ্রক্রিয়া আশঙ্কাজনকভাবে ধীর হয়ে যায় এবং স্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য ও অন্ত্রের সমস্যা দেখা দেয়।

খ) রক্তে শর্করার মাত্রা ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি: বিস্কুটের মধ্যে থাকে প্রচুর পরিমাণে পরিশোধিত চিনি (Refined Sugar) এবং হাই গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত কার্বোহাইড্রেট। এ ছাড়া বাণিজ্যিকভাবে বিস্কুট তৈরি করতে 'হাই ফ্রুক্টোজ কর্ন সিরাফ' ব্যবহার করা হয়। প্রতিদিন বিস্কুট খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ অনেকটাই বেড়ে যায়। এর ফলে অগ্ন্যাশয়ের (Pancreas) ওপর অতিরিক্ত ইনসুলিন তৈরির চাপ পড়ে, যা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

গ) ক্ষতিকর ট্রান্স ফ্যাট ও পাম অয়েলের উপস্থিতি: বিস্কুটকে দীর্ঘদিন মচমচে ও সুস্বাদু রাখতে এবং উৎপাদন খরচ কমাতে প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো সস্তা পাম অয়েল, ডালডা এবং আংশিক হাইড্রোজেনেটেড ভেজিটেবল অয়েল (Trans Fat) ব্যবহার করে। এই ট্র্যান্স ফ্যাট রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের (LDL) মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়িয়ে দেয় এবং ভালো কোলেস্টেরল (HDL) কমিয়ে দেয়। এর ফলে রক্তনালীতে চর্বি জমে ধমনী ব্লক হয়ে যেতে পারে, যা অকালে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের মূল কারণ।

ঘ) হু হু করে ওজন বৃদ্ধি ও ওবেসিটি: ছোট্ট দুটো বিস্কুটের মধ্যে যে পরিমাণ অপ্রয়োজনীয় ক্যালরি ও প্রসেসড ফ্যাট থাকে, তা আমরা প্রায়শই খতিয়ে দেখি না। বিস্কুটে প্রোটিন বা দ্রবণীয় ফাইবার না থাকায় এটি খাওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই আবার ক্ষিদে পেয়ে যায়। ফলে মানুষ অজান্তেই সারাদিনে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ করে ফেলে, যা দ্রুত ওজন বৃদ্ধি ও পেটে ক্ষতিকর চর্বি জমার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ঙ) পেটের গণ্ডগোল, তীব্র গ্যাস ও অ্যাসিডিটি: চায়ের সাথে বিস্কুট ভেজানো অনেক বাঙালির প্রিয় অভ্যাস। কিন্তু চায়ে থাকা ক্যাফেইন ও ট্যানিন এবং বিস্কুটের ময়দা ও অ্যাসিডিক প্রিজারভেটিভস একসাথে মিশে পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অম্ল তৈরি করে। ফলে প্রতিদিন সকালে চায়ের সাথে বিস্কুট খেলে তীব্র বুক জ্বালা, বদহজম, পেট ফাঁপা এবং আলসারের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

চ) কৃত্রিম প্রিজারভেটিভ ও প্রসেসড সল্ট: বিস্কুট মাসের পর মাস ভালো রাখার জন্য এতে 'সোডিয়াম মেটাবাইসালফাইট', কৃত্রিম রঙ, সুবাস এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত সোডিয়াম বা লবণ ব্যবহার করা হয়। অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ উচ্চ রক্তচাপের (High Blood Pressure) রোগীদের জন্য মারাত্মক বিপদের কারণ হতে পারে।

২. স্বাস্থ্যকর বিকল্প: চায়ের সাথে কী খাবেন?

প্রতিদিনের চায়ের সাথে প্রক্রিয়াজাত বিস্কুটের বদলে কিছু প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ:

  • ভাজা মুড়ি বা মাখানা: কম তেলে ভাজা শুকনো মুড়ি বা সামান্য ঘিয়ে রোস্ট করা মাখানা (Fox Nuts) চমৎকার ও হালকা স্ন্যাকস।
  • ভিজানো বাদাম: কাঁচা বা ভেজানো কাঠবাদাম (Almonds) এবং আখরোট শরীরকে দীর্ঘমেয়াদী শক্তি দেয় এবং প্রোটিনের জোগান নিশ্চিত করে।
  • ওটস বা হোমমেড কুকিজ: যদি বিস্কুট খেতেই হয়, তবে প্রিজারভেটিভ ও ময়দাহীন ঘরোয়া উপায়ে তৈরি আটা বা ওটসের কম চিনির তৈরি ড্রাই-ফ্রুটস কুকিজ বেছে নিতে পারেন।

বিস্কুট হয়তো সাময়িক খিদের মুখে বেশ স্বস্তিদায়ক এবং সুস্বাদু, কিন্তু প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নিঃশব্দে শরীরে নানা জটিল রোগ ডেকে আনছে। তাই আজই অতিরিক্ত বিস্কুট খাওয়ার অভ্যাসে লাগাম টানুন এবং সুস্থ থাকতে প্রাকৃতিক তাজা খাবারের দিকে ঝুঁকন।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More