ব্যাপক ঠান্ডা পড়েছে! এই সময়ে আপনি সোয়েটার পরে ঘুমোতে যাচ্ছেন না তো? বড় বিপদ হতে পারে এতে
এই হাড়কাঁপানো ঠান্ডা থেকে বাঁচতে অনেকেই রাতে শোয়ার সময় সোয়েটার বা ভারী পশমের পোশাক পরে ঘুমোতে যাচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বাড়ির সদস্যরা এই বিষয়ে বেশি সতর্ক থাকছেন।
২০২৬-এর শুরুতেই কনকনে ঠান্ডায় কাঁপছে দক্ষিণবঙ্গসহ গোটা পশ্চিমবঙ্গ। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন পারদ আরও নামার সম্ভাবনা রয়েছে। এই হাড়কাঁপানো ঠান্ডা থেকে বাঁচতে অনেকেই রাতে শোয়ার সময় সোয়েটার বা ভারী পশমের পোশাক পরে ঘুমোতে যাচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বাড়ির সদস্যরা এই বিষয়ে বেশি সতর্ক থাকছেন।

তবে আরামদায়ক মনে হলেও, সোয়েটার পরে সারারাত ঘুমোনো কি আদেও শরীরের জন্য ভালো? চিকিৎসকরা কিন্তু এক মারাত্মক বিপদের সংকেত দিচ্ছেন। শীতে সোয়েটার পরে ঘুমানোর কুপ্রভাব জেনে নিন।
সোয়েটার পরে ঘুমোচ্ছেন? অজান্তেই ডেকে আনছেন এই ৫ বিপদ
শীতের রাতে পশমের পোশাক পরে ঘুমানো আমাদের শরীরের স্বাভাবিক কার্যকলাপে বাধা সৃষ্টি করে। এর ফলে কী কী ক্ষতি হতে পারে দেখে নিন:
১. রক্ত সঞ্চালনে বাধা (Blood Circulation Issues)
পশমের পোশাক বা সোয়েটার সাধারণত শরীরের সাথে সেঁটে থাকে। দীর্ঘক্ষণ টাইট সোয়েটার পরে শুয়ে থাকলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। এর ফলে হাত-পা ঝিঁঝিঁ ধরা বা শরীরে অস্বস্তি তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে হৃদরোগীদের জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
২. ত্বকের সংক্রমণ ও অ্যালার্জি
সোয়েটারের পশম বা উল সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে থাকলে ঘর্ষণ সৃষ্টি হয়। ঘুমের মধ্যে ঘাম হলে পশমের রোমকূপে ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক বাসা বাঁধতে পারে। এতে একজিমা, চুলকানি বা ডার্মাটাইটিসের মতো চর্মরোগ হওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়।
৩. শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি (Overheating)
পশমের পোশাক শরীর থেকে নির্গত তাপকে বাইরে বেরোতে দেয় না। এর ফলে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে (Overheating)। মাঝরাতে হঠাৎ অস্বস্তি বোধ করা, বুক ধড়ফড় করা বা রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৪. শ্বাসকষ্টের সমস্যা
যাঁদের হাঁপানি বা ব্রঙ্কাইটিসের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য সোয়েটার পরে ঘুমানো বিপজ্জনক। উলের সূক্ষ্ম তন্তু অনেক সময় শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করে অ্যালার্জি বা শ্বাসকষ্টের উদ্রেক করতে পারে।
৫. শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি
শিশুদের ত্বকের গঠন অত্যন্ত কোমল। সোয়েটার পরে ঘুমালে তাদের শরীরে 'ঘামাচি' বা র্যাশ হতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত গরমের কারণে শিশুরা ডিহাইড্রেশনের শিকার হতে পারে, যা তাদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।
ঠান্ডায় আরামদায়ক ঘুমের জন্য কী করবেন?
- স্তরবিন্যাস (Layering): সোয়েটারের বদলে সুতির ঢিলেঢালা পোশাকের ওপর একটি হালকা চাদর বা লেপ ব্যবহার করুন।
- সুতির ইনার: যদি খুব ঠান্ডা লাগে, তবে সরাসরি সোয়েটার না পরে নিচে একটি পাতলা সুতির জামা পরুন।
- মোজা ও টুপি: সারা শরীর ভারী পোশাকে না ঢেকে পায়ে নরম সুতির মোজা এবং মাথায় পাতলা মাফলার ব্যবহার করা অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর।
শীতের আমেজ উপভোগ করুন সচেতনভাবে। সাময়িক উষ্ণতার লোভে সোয়েটার পরে নিজের অজান্তে বড় কোনো শারীরিক জটিলতা ডেকে আনবেন না। সুস্থ থাকতে রাতে হালকা ও আরামদায়ক পোশাকই হোক আপনার প্রথম পছন্দ।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


