মুখে দুর্গন্ধের আসল কারণ কি লুকিয়ে পেটে? জানুন এই সমস্যা দূর করার ৮টি উপায়
সবসময় মুখের ভেতরের সমস্যার কারণে দুর্গন্ধ হয় না। আপনার পেটের বা পরিপাকতন্ত্রের মারাত্মক কোনো গোলযোগের কারণেও মুখ দিয়ে অনবরত তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে পারে।
প্রতিদিনের কথোপকথনে বা সামাজিক মেলামেশায় মুখের দুর্গন্ধ (Bad Breath বা Halitosis) এক চরম অস্বস্তিকর ও লজ্জাজনক সমস্যা। অনেকেই মনে করেন, ঠিকমতো ব্রাশ না করা, মাড়ির রোগ কিংবা মুখে জমানো খাবারের কণার জন্যই কেবল মুখে দুর্গন্ধ তৈরি হয়। ফলে মাউথওয়াশ, মিন্ট বা বারবার ব্রাশ করেও যখন সমস্যার কোনো সমাধান হয় না, তখন বিষণ্নতা দেখা দেয়।

কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে—সবসময় মুখের ভেতরের সমস্যার কারণে দুর্গন্ধ হয় না। আপনার পেটের বা পরিপাকতন্ত্রের মারাত্মক কোনো গোলযোগের কারণেও মুখ দিয়ে অনবরত তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে পারে। পাকস্থলী ও পেটের সমস্যার সাথে মুখের দুর্গন্ধের সম্পর্ক কী এবং কীভাবে এই সমস্যা থেকে চিরতরে মুক্তি পাওয়া সম্ভব, জেনে নিন।
১. পেটের সমস্যার কারণে কীভাবে মুখে দুর্গন্ধ তৈরি হয়?
পাকস্থলী এবং আমাদের মুখ একই পরিপাকনালীর (Digestive Tract) অংশ। তাই পেটের যেকোনো সমস্যা খুব সহজেই গ্যাসের মাধ্যমে মুখে এসে উপস্থিত হয়।
ক) গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (GERD / GERD Acid Reflux): এটি পেটের সমস্যার কারণে মুখে দুর্গন্ধ হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ। পাকস্থলীতে অ্যাসিড বা খাবার হজমের জন্য তৈরি হওয়া পাচক রস যখন খাদ্যনালী দিয়ে ওপরের দিকে উঠে মুখের কাছাকাছি চলে আসে, তাকে অ্যাসিড রিফ্লাক্স বলা হয়। এই টক ও দুর্গন্ধযুক্ত অ্যাসিড ও অর্ধপাচিত খাবার মুখে তীব্র পচা বা দুর্গন্ধের সৃষ্টি করে।
খ) হজমের গোলযোগ ও কোষ্ঠকাঠিন্য (Constipation & Indigestion): খাবার ঠিকমতো হজম না হলে কিংবা দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে পাকস্থলীতে খাবার জমে পচতে শুরু করে। এই পচন প্রক্রিয়ার ফলে পেটে তৈরি হওয়া গ্যাস ও টক্সিন রক্তের মাধ্যমে ফুসফুসে পৌঁছায় কিংবা খাদ্যনালী দিয়ে মুখে এসে মারাত্মক বাজে গন্ধ ছড়ায়।
গ) পেটে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও আলসার (H. pylori Infection): পাকস্থলীতে 'হেলিকোব্যাকটার পাইলোরি' (H. pylori) নামক বিশেষ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে পেটে আলসার বা ঘা তৈরি হয়। এই ব্যাকটেরিয়া পেটে এক ধরণের দুর্গন্ধযুক্ত গ্যাস নির্গত করে, যা শ্বাসপ্রশ্বাসের সাথে মুখে চলে আসে।
ঘ) আইবিএস বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা (IBS & Gastritis): ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম (IBS) বা অতিরিক্ত গ্যাস্ট্রিকের কারণে পরিপাকতন্ত্রে স্বাভাবিক এনজাইমের অভাব ঘটে। ফলে খাবার প্রাকৃতিকভাবে হজম না হয়ে গ্যাসে রূপান্তরিত হয় এবং পচা টক ঢেকুরের সাথে মুখে দুর্গন্ধ তৈরি করে।
২. পেটের কারণে হওয়া মুখের দুর্গন্ধ দূর করার সহজ উপায়
- প্রচুর জল পান করা: জল পরিপাকতন্ত্রের ক্ষতিকর টক্সিন ধুয়ে ফেলে এবং পাকস্থলীর অ্যাসিডকে পাতলা রাখে।
- ফাইবারযুক্ত খাবার খাওয়া: শাকসবজি, ইসবগুলের ভুসি ও তাজা ফল খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়, যার ফলে পেট পরিষ্কার থাকে এবং দুর্গন্ধের উৎস বন্ধ হয়।
- অতিরিক্ত মসলাযুক্ত ও তেলে ভাজা খাবার বর্জন: ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত তেল-মসলার খাবার অ্যাসিড রিফ্লাক্স বাড়িয়ে দেয়, তাই এসব খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।
- খাওয়ার পরপরই না শোয়া: রাতে বা দুপুরে খাওয়ার অন্তত ২ ঘণ্টা পর ঘুমাতে যান। খাওয়ার সাথে সাথে শুয়ে পড়লে পেটের অ্যাসিড খাদ্যনালী দিয়ে মুখে চলে আসে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


