আজ স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন, এই বাণীগুলি আপনাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে

বিবেকানন্দের আদর্শ আজও পৃথিবীর কোটি কোটি যুবকের প্রেরণা। তাঁর জন্মদিনে এমন ৫টি কালজয়ী বাণী জেনে নিন, যা আধুনিক যুগেও আমাদের জীবনের চলার পথের পাথেয় হতে পারে।

Published on: Jan 12, 2026 9:11 AM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

আজ ১২ জানুয়ারি, ভারতপথিক স্বামী বিবেকানন্দের ১৬৩তম জন্মজয়ন্তী। দিনটি দেশজুড়ে 'জাতীয় যুব দিবস' হিসেবে পালিত হচ্ছে। ১৮৬৩ সালের এই দিনে কলকাতার সিমলা স্ট্রিটের দত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বীর সন্ন্যাসী নরেন্দ্রনাথ। তাঁর জীবন ও দর্শন কেবল সন্ন্যাসীদের জন্য নয়, বরং সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের অন্ধকার দূর করার এক উজ্জ্বল প্রদীপ।

আজ স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন, এই বাণীগুলি আপনাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে (PTI)
আজ স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন, এই বাণীগুলি আপনাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে (PTI)

বিবেকানন্দের আদর্শ আজও পৃথিবীর কোটি কোটি যুবকের প্রেরণা। তাঁর জন্মদিনে এমন ৫টি কালজয়ী বাণী জেনে নিন, যা আধুনিক যুগেও আমাদের জীবনের চলার পথের পাথেয় হতে পারে।

স্বামী বিবেকানন্দের ৫টি অমূল্য বাণী: যা জীবন বদলে দিতে পারে

১. আত্মবিশ্বাস ও লক্ষ্য স্থির রাখা

“জেগে ওঠো, সচেতন হও এবং লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত থেমো না।” — এটি স্বামীজির সবচেয়ে বিখ্যাত মন্ত্র। তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষ তাঁর চিন্তার প্রতিফলন। অলসতা ত্যাগ করে লক্ষ্যের দিকে অবিচল থাকাই সাফল্যের একমাত্র পথ।

২. নিজের শক্তির ওপর বিশ্বাস

“দুনিয়া আপনার সম্পর্কে কী ভাবছে তা আপনার দেখার বিষয় নয়। আপনি আপনার কাজ করে যান, দুনিয়া একদিন আপনার পায়ের নিচে হবে।” — স্বামীজি সর্বদা বলতেন, নিজেকে দুর্বল ভাবাই সবচেয়ে বড় পাপ। মনের অসীম শক্তির ওপর বিশ্বাস রাখলে যে কোনো বাধা অতিক্রম করা সম্ভব।

৩. ভয়কে জয় করার মন্ত্র

“ভয়ই মৃত্যু, ভয়ই পাপ, ভয়ই নরক, ভয়ই অধর্ম, ভয়ই ভুল জীবন। জগতের সব নেতিবাচক চিন্তার মূলে রয়েছে এই ভয়।” — সাহসী হওয়ার শিক্ষা দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর মতে, সাহসের সাথে পরিস্থিতির মোকাবিলা করলেই বিপদ কেটে যায়।

৪. কর্মই ধর্ম

“একটি আদর্শ বেছে নাও। সেই আদর্শকে তোমার জীবন বানিয়ে ফেলো—সেটি নিয়েই চিন্তা করো, সেটি নিয়েই স্বপ্ন দেখো এবং সেটি নিয়েই বেঁচে থাকো।” — বিক্ষিপ্তভাবে অনেক কাজ করার চেয়ে একটি মহান লক্ষ্যে স্থির থাকাকেই তিনি প্রকৃত পুরুষার্থ বলে মানতেন।

৫. পরহিতব্রত বা সেবা

“জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।” — বিবেকানন্দ শিখিয়েছিলেন যে, অসহায় মানুষের সেবা করাই ঈশ্বরের প্রকৃত উপাসনা। মন্দির-মসজিদে ঈশ্বর খোঁজার আগে মানুষের মধ্যে তাঁকে অনুভব করার ডাক দিয়েছিলেন তিনি।

বিবেকানন্দের দর্শন কেন আজও প্রাসঙ্গিক?

২০২৬ সালের এই প্রযুক্তিনির্ভর ও প্রতিযোগিতামূলক যুগে আমরা যখন মানসিক চাপে বিধ্বস্ত, তখন স্বামীজির বাণী আমাদের অন্তরের শান্তি খুঁজে পেতে সাহায্য করে। তিনি কেবল আধ্যাত্মিক গুরু ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক যিনি শিক্ষাকে 'মানুষ গড়ার কারিগর' হিসেবে দেখেছিলেন।

তাঁর জন্মদিনে আমাদের শপথ হোক— কেবল মুখে তাঁর নাম গান নয়, বরং তাঁর দেখানো আত্মমর্যাদা এবং সেবার আদর্শকে নিজের জীবনে বাস্তবায়িত করা।