শতাব্দী প্রাচীন সরস্বতী পুজোর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, ইতিহাসের অধ্যায় শেষের মুখে
কলকাতার অতি প্রাচীন সরস্বতী পুজো। কিন্তু তার ভবিষ্যৎ এখন কিছুটা প্রশ্নচিহ্নের মুখে। কেন?
কলকাতার সরস্বতী পুজোগুলির মধ্যে একটি অন্যতম হেরিটেজ পুজো উত্তর কলকাতার বিধান সরণির নিউ ল কলেজ হোস্টেলের শতাব্দী প্রাচীন পুজো। এই নিউ ল কলেজ হস্টেলের পাশেই অবস্থিত বিদ্যাসাগর কলেজ (মেট্রোপলিটন কলেজ) , ঐতিহাসিকভাবে সমৃদ্ধ এই এলাকার কাছেই ব্রাহ্মসমাজের মন্দির। স্বামী বিবেকানন্দের বাসভবন এবং আরও অনেক ঐতিহ্যশালী স্থাপত্য শৈলীতে সমৃদ্ধ বিভিন্ন ভবন বিভিন্ন ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে বর্তমান। শতাব্দী প্রাচীন এই নিউ ল কলেজ হোস্টেলের ভবনটির ইতিহাস অনেক দীর্ঘ । ব্রিটিশ আমল থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং সামাজিক উত্থান -পতনের সাক্ষী এই ভবন। এখানে অনুষ্ঠিত সরস্বতী পুজোরটিও শতাব্দি পেরিয়েছে। বর্তমানে ভবনটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত। উনবিংশ শতাব্দীর ব্রিটিশ স্থাপত্য কলায় নির্মিত এই ভবন এবং ছাত্রাবাসটি বিভিন্ন উজ্জ্বল ব্যক্তিত্বের আগমন দেখেছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য প্রয়াত রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়, বিখ্যাত কবি সাহিত্যিক জীবনানন্দ দাশ প্রমুখ।

এছাড়াও এই ছাত্রাবাসে নিজেদের ছাত্র জীবন কাটিয়ে গিয়েছেন ভারতের অসংখ্য বিচারপতি এবং আইনজীবী। কবি সাহিত্যিক রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে আইন জগতের অনেক নক্ষত্রের পথচলা শুরু এই ছাত্রাবাস থেকে ।
বর্তমান সরস্বতী পুজোটি প্রাক স্বাধীনতা কালে শুরু হয়। এই সরস্বতী পুজোর উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নাম জড়িয়ে আছে বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের। এবারের সরস্বতী পুজোর বিশেষত্ব ছিল মন্ত্রের গান রূপে উপস্থাপনা। শেষ ছয় বছর ধরে সংস্কৃত বিশেষজ্ঞ আচার্য অনুভব হাজরা এই পুজো করে আসছেন। বর্তমান পুজটিও সেভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। সম্ভবত এটি এই হোস্টেলের শেষ সরস্বতী পুজো। কারণ বয়স এবং ক্ষয়ক্ষতিজনিত কারণে এই ভবনটিকে ভেঙে ফেলা হবে বলে শোনা গিয়েছে।
ঐতিহ্যশালী এই ভবনটিকে সংরক্ষণ এবং নতুন করে নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যেই অনেকেই সচেষ্ট হয়েছেন। কারণ এর ভিতরে লুকিয়ে রয়েছে শতাব্দী প্রাচীন ইতিহাস। এত দীর্ঘ সময় ধরে চলা সরস্বতী পুজো কলকাতায় তথা সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে বিরল বলেও মত বিশেষজ্ঞদের।
E-Paper

