স্নানের পর ভেজা চুলে এই ভুলগুলো করছেন? অজান্তেই ডেকে আনছেন চুল পড়া ও চিরতরে টাক পড়ার ঝুঁকি!
অনেকেই না জেনে স্নানের পর ভেজা চুলে এমন কিছু ক্ষতিকর কাজ করে বসেন, যা দীর্ঘমেয়াদে চুলে চিরতরে টাক পড়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
স্নান সেরে উঠে চুল শুকানো বা আঁচড়ানো আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অত্যন্ত স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু আপনি কি জানেন, স্নানের ঠিক পর মুহূর্তে আপনার মাথার চুল সবচেয়ে বেশি দুর্বল ও ভঙ্গুর অবস্থায় থাকে? স্নান করার পর চুলের বাইরের রক্ষাকবচ বা কিউটিকেল (Cuticle) খোলা থাকে এবং চুলে জল জমার কারণে তা বেশ স্থিতিস্থাপক ও নরম হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় সামান্য অসাবধানতা বা ভুল অভ্যাসের কারণে চুলের গোড়া আলগা হয়ে যায়, চুল মাঝখান থেকে ভেঙে পড়ে এবং চরম চুল পড়ার সমস্যা দেখা দেয়।

অনেকেই না জেনে স্নানের পর ভেজা চুলে এমন কিছু ক্ষতিকর কাজ করে বসেন, যা দীর্ঘমেয়াদে চুলে চিরতরে টাক পড়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। স্নান করার পর ভেজা চুলে কোনো কোন কাজ ভুলভূলেও করা উচিত নয় এবং চুল সুরক্ষিত রাখার সঠিক উপায় কী, তা নিয়ে একটি বিস্তারিত সৌন্দর্য ও হেয়ার কেয়ার প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো।
১. স্নানের পর ভেজা চুলে যেসব ভুল কাজ একেবারেই করবেন না
ক) তোয়ালে দিয়ে ঘষে ঘষে চুল মোছা (Towel Rubbing):
স্নান সেরে উঠেই শক্ত তোয়ালে দিয়ে চেপে বা ঘষে ঘষে চুল মোছার অভ্যাস আমাদের প্রায় অনেকেরই রয়েছে। ভেজা চুলে তোয়ালের শক্ত ফাইবার দিয়ে অতিরিক্ত ঘষাঘষি করলে কিউটিকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং চুলের প্রাকৃতিক শিথিং নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে চুল প্রচণ্ড জট পাকিয়ে ভেঙে যায় এবং চুল রুক্ষ-শুষ্ক হয়ে পড়ে।
খ) ভেজা চুলে সরু দাঁতের চিরুনি দিয়ে আঁচড়ানো (Combing Wet Hair):
ভেজা অবস্থায় চুলে চিরুনি চালানো সবচেয়ে বড় ভুল। এ সময় চুলে টান পড়লে নমনীয় চুল সহজেই গোড়া থেকে উপড়ে আসে। বিশেষ করে সরু দাঁতের প্ল্যাস্টিকের চিরুনি দিয়ে ভেজা চুল আঁচড়ালে চুল ছেঁড়ার পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যায়।
গ) হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে অতিরিক্ত গরম হাওয়া দেওয়া (Blow Drying):
সময় বাঁচাতে বা দ্রুত চুল শুকাতে স্নানের পরপরই অতিরিক্ত হিটে হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করা অত্যন্ত ক্ষতিকর। ভেজা চুলে সরাসরি ড্রায়ারের গরম হাওয়া লাগালে চুলের ভেতরের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা শুকিয়ে যায় এবং চুলে ফাটল ধরে (Split Ends)।
ঘ) ভেজা চুল শক্ত করে বাঁধা (Tying Wet Hair Tight):
স্নানের পর চুল ভেজা থাকা অবস্থাতেই গামছা বা তোয়ালে দিয়ে পেঁচিয়ে রাখা কিংবা ইলাস্টিক ব্যান্ড দিয়ে টাইট করে খোঁপা বা বেণী করে রাখা একেবারেই উচিত নয়। এতে চুলের গোড়ায় ও ফোলিকলে অনাবশ্যক টান পড়ে, যার ফলে ‘ট্রাকশন অ্যালোপেসিয়া’ (Traction Alopecia) বা চুলে টান পড়ে গোড়া আলগা হওয়ার সমস্যা শুরু হয়।
ঙ) ভেজা চুল নিয়ে ঘুমিয়ে পড়া (Sleeping with Wet Hair):
রাতে বা দুপুরে স্নান করার পরপরই ভেজা চুলে ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাস অত্যন্ত ক্ষতিকর। বালিশের সাথে ভেজা চুলের ঘর্ষণে যেমন চুল ছেঁড়ে, তেমনি ভেজা বালিশে ফাঙ্গাস ও ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি ঘটে, যা স্ক্যাল্পে মারাত্মক খুশকি ও ইনফেকশনের কারণ হয়।
চ) ভেজা চুলে স্টাইলিং প্রডাক্ট বা তেল দেওয়া:
ভেজা চুল পুরোপুরি জল দিয়ে ভর্তি থাকে, তাই এ সময় মাথায় অতিরিক্ত ঘন তেল বা ভারী স্টাইলিং জেল কিংবা হিটিং রড ব্যবহার করলে সেই উপাদান চুলে সঠিকভাবে শোষিত হয় না। উল্টে তেল বা কেমিক্যাল স্ক্যাল্পের লোমকূপ বন্ধ করে চুল পড়া বাড়িয়ে দেয়।
২. স্নানের পর ভেজা চুলের যত্ন নেওয়ার সঠিক উপায়
- মাইক্রোফাইবার তোয়ালে বা সুতির টি-শার্ট ব্যবহার: নরম মাইক্রোফাইবার তোয়ালে বা পাতলা সুতির টি-শার্ট দিয়ে আলতো হাতে চেপে চেপে ভেজা চুলের অতিরিক্ত জল মুছে নিন।
- মোটা দাঁতের কাঠের চিরুনি ব্যবহার: চুল অন্তত ৮০ শতাংশ শুকানোর পর মোটা দাঁতের চিরুনি বা উডেন কম্ব দিয়ে নিচ থেকে ওপরের দিকে আলতো করে জট ছাড়ান।
- প্রাকৃতিক বাতাসে চুল শুকানো: যতটা সম্ভব ফ্যান বা খোলা হাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে চুল শুকানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন। ড্রায়ার ব্যবহার করতে হলেও 'কোল্ড এয়ার' (Cold Air) মোড ব্যবহার করুন।
চুল আমাদের বাহ্যিক সৌন্দর্যের এক অন্যতম অলঙ্কার। স্নানের পর সামান্য সচেতনতা এবং ভেজা চুলে ভুল কাজগুলো এড়িয়ে চললে অনায়াসে চুলকে রাখা সম্ভব সিল্কি, মজবুত ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


