UPSC Civil Services Success Story: চাকরির মধ্যেই UPSC-র প্রস্তুতি, পঞ্চম চেষ্টায় হলেন IAS অফিসার, কে এই সমীক্ষা?

UPSC Civil Services Success Story: পঞ্চম অ্যাটেম্পটে IAS অফিসার হলেন সমীক্ষা দ্বিবেদী। তিনি আইবিপিএস পিও পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ক্যানাড়া ব্যাঙ্কে প্রবেশনরি অফিসার বা পিও পদে যোগ দিয়েছিলেন। সেই চাকরির মধ্যেই সিভিল সার্ভিসেসের প্রস্তুতি চলতে থাকে।

Published on: Oct 25, 2026, 11:57:40 IST
By
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

UPSC Civil Services Success Story: ইউপিএসসি (UPSC) বা সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হলেই দেশের নানা প্রান্ত থেকে বহু অনুপ্রেরণামূলক কাহিনী সামনে আসে। এই সাফল্যের গল্পগুলিতে যেমন থাকে অধ্যাবসায়, তেমনই থাকে অদম্য জেদ ও জয়ের আনন্দ। ঠিক এমনই এক দীর্ঘ লড়াই ও অসামান্য সাফল্যের গল্প লিখেছেন মধ্যপ্রদেশের মऊগঞ্জ জেলার এক ছোট গ্রামের মেয়ে সমীক্ষা দ্বিবেদী। জীবনের প্রতি পদক্ষেপে নানা বাধা এলেও নিজের স্বপ্ন থেকে কখনও সরে দাঁড়াননি তিনি। বহু ব্যর্থতা এবং সামান্য ব্যবধানে সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পরও হার না মানা মানসিকতা নিয়ে পঞ্চম প্রচেষ্টায় ৫৬তম অল ইন্ডিয়া র‍্যাংক অর্জন করে আইএএস (IAS) অফিসার হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন সমীক্ষা।

পঞ্চম অ্যাটেম্পটে IAS অফিসার হলেন সমীক্ষা দ্বিবেদী। (ফাইল ছবি)
পঞ্চম অ্যাটেম্পটে IAS অফিসার হলেন সমীক্ষা দ্বিবেদী। (ফাইল ছবি)

শিক্ষাজীবন ও কর্পোরেট অভিজ্ঞতা

মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা সমীক্ষা দ্বিবেদীর পরিবারে শুরু থেকেই শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ ছিল। তাঁর বাবা শ্রীনিবাস দ্বিবেদী দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডে একজন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত এবং মা সুনীতা দেবী প্রতিটি পদক্ষেপে মেয়ের পাশে থেকেছেন। ছোটবেলা থেকেই সিভিল সার্ভিসে যোগ দেওয়ার সুপ্ত বাসনা ছিল সমীক্ষার। স্কুল পাঠ শেষ করার পর তিনি কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে বি টেক ডিগ্রি অর্জন করেন। ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করার পর কিছুকাল করপোরেট সেক্টরে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবেও কাজ করেন তিনি। তবে এতকিছুর পরেও সিভিল সার্ভিসের স্বপ্ন তাঁর মন থেকে মুছে যায়নি। এরপর তিনি আইআইটি কানপুর থেকে এমবিএ (MBA) সম্পন্ন করেন। তাঁর এই ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যানেজমেন্টের উচ্চশিক্ষা পরবর্তীতে যেকোনো জটিল সমস্যা বিশ্লেষণ করার ক্ষমতাকে আরও বেশি শাণিত করেছিল।

প্রাথমিক ব্যর্থতা ও মনের জোর

সমীক্ষার ইউপিএসসি যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে। প্রথমবার তিনি প্রাথমিক বা প্রিলিমস (Prelims) পরীক্ষাতেই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। যেকোনো পরীক্ষার্থীর জন্যই এটি অত্যন্ত হতাশাজনক মুহূর্ত হতে পারে, তবে সমীক্ষা ভেঙে না পড়ে নিজের প্রস্তুতির ঘাটতিগুলো খুঁজে বের করতে শুরু করেন। এরপর ২০২২ সালের পরীক্ষায় তিনি প্রত্যাবর্তন করে প্রিলিমস পার করলেও মেইনস (Mains) পর্বে এসে তাঁর যাত্রা থেমে যায়।

২০২৩ সালের প্রচেষ্টাটি সমীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ওই বছর তিনি প্রিলিমস এবং মেইনস- উভয় ধাপ পেরিয়ে সরাসরি ইন্টারভিউ পর্যন্ত পৌঁছান। তাঁর মনে হয়েছিল যে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য একদম হাতের নাগালে, কিন্তু চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায় তিনি মাত্র ১৮ নম্বরের জন্য চূড়ান্ত মেধা তালিকা থেকে বাদ পড়ে গিয়েছেন। এরপর ২০২৪ সালের স্কিমেও তিনি অত্যন্ত জোরকদমে পরীক্ষা দেন এবং ইন্টারভিউ পর্যন্ত পৌঁছালেও আবারও চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পাননি।

ঠিক এই কঠিন প্রস্তুতির সময় তাঁর জীবনে ব্যক্তিগত পরিবর্তন আসে এবং তাঁর বিয়ে হয়। তাঁর স্বামী ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ায় কর্মরত এবং এই পুরো কঠিন যাত্রায় তিনি সমীক্ষাকে দারুণভাবে সমর্থন ও উৎসাহ জুগিয়েছেন। সমস্ত প্রতিকূলতাকে নিজের লক্ষ্য অর্জনের পথে বাধা হতে না দিয়ে তিনি আরও বেশি সুনির্দিষ্ট ও রণকৌশলগতভাবে পঞ্চম বারের প্রস্তুতি শুরু করেন।

কঠিন পরিশ্রমের কাঙ্ক্ষিত ফল

অবশেষে তাঁর বছরের পর বছর ধরে করা কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যাবসায়ের ফল মিলল পঞ্চম প্রচেষ্টায়। সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় তিনি অল ইন্ডিয়া র‍্যাংক ৫৬ অর্জন করে নিজের আইএএস হওয়ার স্বপ্ন সফল করেন। এটি কেবল এক বছরের সাফল্য নয়, বরং দীর্ঘ পাঁচ বছরের নাছোড়বান্দা লড়াইয়ের ফল। সমীক্ষার এই অনুপম জীবনসংগ্রামের গল্প বর্তমান প্রজন্মের প্রতিটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী তরুণ-তরুণীর জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা ও পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে।