মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ছে বা ত্বক প্রাণহীন? ভিটামিন ‘সি’-র ঘাটতি নয় তো? জানুন চেনার ৭টি লক্ষণ ও পূরণের সেরা উপায়

ভিটামিন 'সি' মূলত শরীরে 'কোলাজেন' (Collagen) নামক এক বিশেষ প্রোটিন তৈরিতে সাহায্য করে, যা আমাদের ত্বক, রক্তনালী, হাড়, মাড়ি ও টিস্যুকে শক্ত ও নমনীয় রাখতে কাজ করে। এ ছাড়া এটি একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা শরীরের ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

Published on: Aug 21, 2026, 09:25:21 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

আমাদের শরীরকে সুস্থ, সতেজ ও রোগমুক্ত রাখতে যেসব অপরিহার্য পুষ্টি উপাদানের প্রয়োজন হয়, তার মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী উপাদান হলো ভিটামিন ‘সি’ (Vitamin C)। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় 'অ্যাসকরবিক অ্যাসিড' (Ascorbic Acid)। ভিটামিন 'সি' একটি ওয়াটার-সলিউবল বা জলে দ্রবণীয় ভিটামিন। অর্থাৎ, আমাদের শরীর এই ভিটামিনটি নিজে থেকে তৈরি করতে পারে না এবং শরীরের ভেতরে দীর্ঘদিন জমিয়েও রাখতে পারে না। তাই প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে বাইরে থেকেই এই ভিটামিনের জোগান দেওয়া বাধ্যতামূলক।

মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ছে বা ত্বক প্রাণহীন? ভিটামিন ‘সি’-র ঘাটতি নয় তো
মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ছে বা ত্বক প্রাণহীন? ভিটামিন ‘সি’-র ঘাটতি নয় তো

ভিটামিন 'সি' মূলত শরীরে 'কোলাজেন' (Collagen) নামক এক বিশেষ প্রোটিন তৈরিতে সাহায্য করে, যা আমাদের ত্বক, রক্তনালী, হাড়, মাড়ি ও টিস্যুকে শক্ত ও নমনীয় রাখতে কাজ করে। এ ছাড়া এটি একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা শরীরের ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। দৈনন্দিন ডায়েটে ভিটামিন 'সি'-র অভাব ঘটলে শরীরে নানা ধরণের জটিল শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। শরীরে ভিটামিন 'সি'-র ঘাটতির প্রধান লক্ষণগুলো কী কী, কীভাবে বুঝবেন আপনি এই সমস্যায় ভুগছেন এবং প্রাকৃতিক উপায়ে এই ঘাটতি কীভাবে মেটাবেন—তা নিয়ে একটি বিস্তৃত প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো।

১. শরীরে ভিটামিন ‘সি’-র ঘাটতির ৭টি প্রধান লক্ষণ

ক) মাড়ি দিয়ে অনবরত রক্ত পড়া ও ফোলাভাব (Bleeding Gums): ভিটামিন 'সি'-র ঘাটতির সবচেয়ে প্রথম ও স্পষ্ট লক্ষণ দেখা দেয় মুখে ও মাড়িতে। কড়কড়ে বা শক্ত কিছু খেলে কিংবা দাঁত ব্রাশ করার সময় যদি মাড়ি থেকে রক্ত পড়ে, মাড়ি ফুলে লাল হয়ে যায় বা দাঁত আলগা মনে হয়, তবে বুঝতে হবে শরীরে ভিটামিন 'সি'-র তীব্র অভাব ঘটেছে। এর চরম রূপ হলো প্রাচীন পালের নাবিকদের রোগ 'স্কার্ভি' (Scurvy)।

খ) ক্ষত বা কাটাছেঁড়া শুকাতে অতিরিক্ত সময় লাগা (Slow Wound Healing): শরীরের কোনো অংশ কেটে গেলে বা আঘাত পেলে ত্বক পুনর্গঠন ও নতুন টিস্যু তৈরির জন্য 'কোলাজেন' প্রয়োজন হয়। ভিটামিন 'সি'-র অভাব হলে কোলাজেন তৈরি শ্লথ হয়ে যায়, যার ফলে যেকোনো আঘাত, অপারেশনের ক্ষত বা পোড়া জায়গা শুকাতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগে।

গ) অনবরত সর্দি, কাশি ও ঘন ঘন ইনফেকশন: ভিটামিন 'সি' আমাদের শরীরের শ্বেত রক্তকণিকাকে সতেজ রেখে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউনিটিকে শক্তিশালী রাখে। শরীরে এর ঘাটতি হলে সাধারণ ঋতু পরিবর্তনেই অনবরত সর্দি-কাশি, গলায় সংক্রমণ ও ফ্লু দেখা দেয়।

ঘ) ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক, খসখসে ও বয়সের ছাপ পড়া: সুস্থ ও উজ্জ্বল ত্বকের গোপন রহস্য হলো ভিটামিন 'সি'। শরীরের এই ভিটামিনের অভাব ঘটলে ত্বক তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা ও স্থিতিস্থাপকতা হারিয়ে ফেলে। ফলে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক, নিস্তেজ ও প্রাণহীন দেখায় এবং অকালেই মুখে বলিরেখা বা বয়সের ছাপ ফুটে ওঠে।

ঙ) সহজে ত্বকে কালশিটে বা কালচে দাগ পড়া (Easy Bruising): সামান্য একটু আঘাত লাগলেই কি ত্বকের নিচে রক্ত জমে কালচে বা নীলচে ছোপ পড়ে যায়? ভিটামিন 'সি'-র অভাবে আমাদের ত্বকের ভেতরের সূক্ষ্ম কৈশিক রক্তনালীগুলো (Capillaries) অত্যন্ত দুর্বল ভঙ্গুর হয়ে পড়ে, যা সামান্য চাপ পেলেই ফেটে গিয়ে ত্বকের নিচে কালশিটে তৈরি করে।

চ) চুল পরা, শুষ্ক চুল ও চামড়ার নিচে গুটি ওঠা: ভিটামিন 'সি'-র অভাবে চুলের ফোলিকলগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে চুল অতিরিক্ত শুষ্ক ও জট পাকানো হয়ে যায়, চুল দ্রুত ঝরে পড়ে এবং চামড়ার ওপর বা রোমকূপে ছোট ছোট লাল গুটি দেখা দিতে পারে।

ছ) অনবরত গায়ে-হাত-পায়ে ব্যথা ও অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা: ভিটামিন 'সি' খাবার থেকে আইরন (Iron) শুষে নিতে শরীরকে সরাসরি সাহায্য করে। তাই শরীরে ভিটামিন 'সি'-র ঘাটতি হলে আইরন ঠিকমতো শোষিত হতে পারে না, যার ফলে অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা দেখা দেয়। এর থেকে অনবরত ক্লান্তি, দুর্বলতা এবং জয়েন্টে জয়েন্টে তীব্র ব্যথা তৈরি হয়।

২. ভিটামিন ‘সি’-র ঘাটতি কীভাবে পূরণ করবেন?

যেহেতু আমাদের শরীর প্রতিদিন অতিরিক্ত ভিটামিন 'সি' প্রস্রাবের সাথে বের করে দেয়, তাই নিয়মিত তাজা ফল ও শাকসবজি খাওয়ার মাধ্যমে এই ঘাটতি মেটানো অত্যন্ত সহজ:

টক জাতীয় ফল বা সাইট্রাস ফ্রুটস (Citrus Fruits):

  • আমলকী ও পেয়ারা: আমলকীকে বলা হয় ভিটামিন 'সি'-র পাওয়ার হাউস। মাত্র একটি মাঝারি আমলকী বা পেয়ারা আপনার সারাদিনের ভিটামিন 'সি'-র চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট।
  • লেবু ও কমলালেবু: কাঁচা পাতিলেবু, কাগজি লেবু, কমলালেবু, মোসম্বি লেবু ও মালটায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন 'সি' থাকে।
  • আনারস, আম ও স্ট্রবেরি: পাকা আনারস, কাঁচা আম, কামরাঙ্গা, বেল ও জাম্বুরা ভিটামিন 'সি'-র অনবদ্য চমৎকার উৎস।

সবুজ শাকসবজি ও আনাজ:

  • কাঁচা লঙ্কা ও ক্যাপসিকাম: লাল, হলুদ ও সবুজ ক্যাপসিকাম এবং সবুজ কাঁচা লঙ্কায় উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন 'সি' থাকে।
  • টমেটো ও ব্রকলি: টমেটো, ব্রকলি, ফুলকপি, বাঁধাকপি এবং মেথি বা পালং শাকে ভালো পরিমাণে এই ভিটামিন থাকে।

রান্নার বিশেষ নিয়ম (তাপ সচেতনতা):

  • ভিটামিন 'সি' অত্যন্ত তাপ-সংবেদনশীল (Heat-sensitive)। খাবার অতিরিক্ত উচ্চ তাপে অনেকক্ষণ ধরে সিদ্ধ করলে বা ভাজলে তার মধ্যকার সমস্ত ভিটামিন 'সি' নষ্ট হয়ে যায়। তাই ফলমূল তাজা কাঁচা খাওয়া এবং শাকসবজি খুব বেশি সেদ্ধ না করে হালকা তাপে রান্না করে খাওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

সুস্থ ত্বক, শক্ত দাঁতের মাড়ি ও শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অন্তত একটি টক জাতীয় ফল বা লেবু রাখুন। প্রাকৃতিক উপায়ে ভিটামিন 'সি' গ্রহণ করে শরীরকে রাখুন রোগমুক্ত ও সতেজ।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More