অনবরত গায়ে-হাত-পায়ে ব্যথা বা অসম্ভব ক্লান্তি? শরীরে ভিটামিন ‘ডি’-র ঘাটতি নয় তো? জানুন ৮টি লক্ষণ ও পূরণের উপায়

বর্তমান আধুনিক জীবনযাত্রায় দিনের অধিকাংশ সময় ঘরে বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অফিসে কাটানো এবং পর্যাপ্ত রোদ না পাওয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ আজ ‘ভিটামিন ডি’-র তীব্র ঘাটতিতে ভুগছেন।

Published on: Aug 20, 2026, 09:20:39 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

আমাদের শরীরের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে যে পুষ্টি উপাদানটি সবচেয়ে আড়ালে থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তা হলো ভিটামিন ‘ডি’ (Vitamin D)। এটি কেবল সাধারণ কোনো ভিটামিন নয়, চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিচারে এটি শরীরে এক ধরণের হরমোনের মতো কাজ করে। এটি মূল কাজ হলো খাদ্য থেকে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শুষে নিয়ে হাড় ও দাঁতকে মজবুত রাখা। এর পাশাপাশি শরীরের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সঠিক রাখতেও এটি অপরিহার্য।

অনবরত গায়ে-হাত-পায়ে ব্যথা বা অসম্ভব ক্লান্তি? শরীরে ভিটামিন ‘ডি’-র ঘাটতি নয় তো
অনবরত গায়ে-হাত-পায়ে ব্যথা বা অসম্ভব ক্লান্তি? শরীরে ভিটামিন ‘ডি’-র ঘাটতি নয় তো

বর্তমান আধুনিক জীবনযাত্রায় দিনের অধিকাংশ সময় ঘরে বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অফিসে কাটানো এবং পর্যাপ্ত রোদ না পাওয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ আজ ‘ভিটামিন ডি’-র তীব্র ঘাটতিতে ভুগছেন। কিন্তু রক্ত পরীক্ষা ছাড়া অনেকেই এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো টের পান না। শরীরে ভিটামিন 'ডি'-র ঘাটতির প্রধান লক্ষণগুলো কী কী, কীভাবে বুঝবেন আপনি এই সমস্যায় ভুগছেন এবং প্রাকৃতিক উপায়ে এই ঘাটতি কীভাবে মেটাবেন—তা নিয়ে একটি বিস্তৃত পুষ্টি ও স্বাস্থ্য প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো।

১. শরীরে ভিটামিন ‘ডি’-র ঘাটতির ৮টি গোপন সংকেত

ক) অনবরত হাড়, কোমর ও গায়ে-হাত-পায়ে তীব্র ব্যথা: ক্যালসিয়াম শোষণের জন্য ভিটামিন ‘ডি’ অপরিহার্য। শরীরে ভিটামিন ‘ডি’-র অভাব দেখা দিলে ক্যালসিয়াম ঠিকমতো শোষিত হতে পারে না। এর ফলে হাঁটু, কোমর, পিঠ ও জয়েন্টে জয়েন্টে অনবরত এক ধরণের অসাড় বা চাবানো ব্যথা তৈরি হয়।

খ) সারাদিন অতিরিক্ত ক্লান্তি ও অবসাদ (Chronic Fatigue): পর্যাপ্ত ঘুমানো বা পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পরেও যদি সারাদিন শরীর নিস্তেজ লাগে, কাজের প্রতি অনীহা আসে বা অলসতা কাটতে না চায়, তবে তা ভিটামিন ‘ডি’-র স্পষ্ট ঘাটতির লক্ষণ হতে পারে।

গ) অনবরত সর্দি-কাশি ও ঘন ঘন অসুস্থ হওয়া: ভিটামিন ‘ডি’ আমাদের শরীরের শ্বেত রক্তকণিকাকে (WBC) শক্তিশালী রাখতে কাজ করে, যা ক্ষতিকর ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে। ভিটামিন 'ডি'-র ঘাটতি হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, ফলে সামান্য ঋতু পরিবর্তনেই সর্দি, কাশি বা নিউমোনিয়ার মতো ইনফেকশন দেখা দেয়।

ঘ) ক্ষত বা কাটাছেঁড়া শুকাতে অতিরিক্ত সময় লাগা: শরীরের কোনো অংশ কেটে গেলে বা সার্জারির পর ক্ষতস্থান শুকাতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি দিন সময় লাগলে বুঝতে হবে ভিটামিন ‘ডি’-র অভাব রয়েছে। নতুন ত্বকের কোষ ও কোলাজেন তৈরিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ঙ) হাড় ক্ষয়ে যাওয়া ও অস্টিওপোরোসিস (Osteoporosis): দীর্ঘদিন ভিটামিন ‘ডি’-র অভাব থাকলে হাড়ের ঘনত্ব বা বোন ডেনসিটি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে সামান্য পড়ে যাওয়াতেই হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এই ঘাটতি হলে ‘রিকেট’ (Rickets) নামক রোগ হয়, যেখানে পা বেঁকে যায়।

চ) হঠাৎ মাথা থেকে অতিরিক্ত চুল পড়া: অতিরিক্ত চুল পড়া কেবল মানসিক চাপ বা শ্যাম্পুর কারণে হয় না। চুলের ফোলিকলগুলো সতেজ রাখতে এবং নতুন চুল গজাতে ভিটামিন ‘ডি’ সাহায্য করে। এর অভাবে নতুন চুল গজানো বন্ধ হয়ে যায় এবং হু হু করে চুল পাতলা হতে থাকে।

ছ) অবসাদ, ডিপ্রেশন ও মুড সুইং: ভিটামিন ‘ডি’ আমাদের মস্তিষ্কে 'সেরোটোনিন' (Serotonin) নামক ফিল-গুড হরমোন তৈরি করতে সাহায্য করে। শরীরে এর মাত্রা কমে গেলে মানসিক হতাশা, উদ্বেগ, অহেতুক রাগ এবং ডিপ্রেশন দেখা দেয়।

জ) পেশিতে খিঁচুনি বা দুর্বলতা (Muscle Weakness): যদি মাঝরাতে হঠাৎ পায়ের রগে টান ধরে বা পেশি দুর্বল মনে হয়, তবে তা শরীরে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ‘ডি’-র ভারসাম্যের অভাবের সংকেত দেয়।

২. ভিটামিন ‘ডি’-র ঘাটতি কীভাবে পূরণ করবেন?

ভিটামিন ‘ডি’-কে বলা হয় ‘সানশাইন ভিটামিন’। কারণ সূর্যের আলো থেকেই শরীর সবচেয়ে বেশি এই ভিটামিন তৈরি করতে পারে। তবে সঠিক খাবার ও জীবনযাত্রার মাধ্যমেও এই ঘাটতি মেটানো সম্ভব:

ক) সূর্যের আলো (Sunlight - প্রধান উৎস):

  • সঠিক সময়: সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে অন্তত ১৫ থেকে ৩০ মিনিট গায়ে রোদ লাগানো সবচেয়ে ভালো।
  • পদ্ধতি: হাত, পা, মুখ ও পিঠে যেন সরাসরি রোদ লাগে সেদিকে খেয়াল রাখুন। সানস্ক্রিন মেখে বা জামাকাপড় দিয়ে শরীর পুরোপুরি ঢেকে রাখলে শরীরে ভিটামিন ‘ডি’ তৈরি হতে পারে না।

খ) খাদ্যতালিকার মাধ্যমে পূরণ (Dietary Sources):

  • চর্বিযুক্ত সামুদ্রিক মাছ: স্যালমন, টুনা, সার্ডিন এবং আমাদের দেশি রুই-কাতলা বা ইলিশ মাছে ভালো পরিমাণে ভিটামিন ‘ডি’ থাকে।
  • কড লিভার ওয়েল: কড মাছের তেল (Cod Liver Oil) ভিটামিন ‘ডি’-র অনবদ্য এক প্রাকৃতিক উৎস।
  • ডিমের কুসুম: ডিমের কুসুমে ভিটামিন ‘ডি’ ভালো মাত্রায় থাকে, তাই প্রতিদিন অন্তত একটি আস্ত ডিম খাওয়া উচিত।
  • দুধ ও মাশরুম: রোদে শুকানো মাশরুম এবং ফোর্টিফাইড গরুর দুধ, মাখন বা পনিরে ভিটামিন ‘ডি’ থাকে।

গ) চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট (Vitamin D Supplements):

রক্ত পরীক্ষায় (25-Hydroxy Vitamin D Test) যদি ভিটামিন ‘ডি’-র মাত্রা অতিরিক্ত কম আসে (যেমন ১০ বা ২০ ng/mL-এর নিচে), তবে কেবল খাবার বা রোদ দিয়ে দ্রুত ঘাটতি পূরণ সম্ভব হয় না। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সপ্তাহে ৬০০০IU বা ৬০,০০০IU-র বিশেষ ভিটামিন 'ডি' ক্যাপসুল বা স্যাশে নির্দিষ্ট কোর্স অনুযায়ী গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক।

অকাল হাড়ের ক্ষয় ও ক্লান্তি এড়াতে প্রতিদিন কিছুটা সময় রোদে কাটান এবং ভিটামিন ‘ডি’ সমৃদ্ধ তাজা খাবার পাতে রাখুন। সামান্য এই সচেতনতাই আপনাকে দীর্ঘকাল সতেজ ও কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করবে।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More