অকালেই বলিরেখা বা পেশিতে অনবরত টান? শরীরে ভিটামিন ‘ই’-র ঘাটতি নয় তো? জানুন চেনার ৭টি লক্ষণ ও পূরণের সেরা উপায়

আমাদের আধুনিক খাদ্য তালিকায় তেল-চর্বি ছাঁটাইয়ের চক্করে কিংবা সঠিক পুষ্টিকর খাবারের অভাবে শরীরে অজান্তেই দেখা দেয় ভিটামিন ‘ই’-র ঘাটতি। তবে প্রাথমিক অবস্থায় এই ঘাটতির লক্ষণগুলো আমরা অনেকেই চুল পড়া বা ত্বকের সাধারণ সমস্যা মনে করে অবহেলা করি।

Published on: Aug 23, 2026, 09:36:43 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

সুস্থ ও সতেজ শরীরের জন্য যেসব অপরিহার্য পুষ্টি উপাদানের প্রয়োজন হয়, তার মধ্যে অন্যতম শক্তিধর উপাদান হলো ভিটামিন ‘ই’ (Vitamin E)। এটি একটি ফ্যাটে দ্রবণীয় (Fat-soluble) অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষকে মুক্ত র‍্যাডিক্যালস বা টক্সিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করা, ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখা, স্নায়ু ও পেশীর সমন্বয় বজায় রাখা এবং ত্বক ও চুলের সৌন্দর্য ধরে রাখতে ভিটামিন ‘ই’-র ভূমিকা অনস্বীকার্য।

অকালেই বলিরেখা বা পেশিতে অনবরত টান? শরীরে ভিটামিন ‘ই’-র ঘাটতি নয় তো
অকালেই বলিরেখা বা পেশিতে অনবরত টান? শরীরে ভিটামিন ‘ই’-র ঘাটতি নয় তো

তবে আমাদের আধুনিক খাদ্য তালিকায় তেল-চর্বি ছাঁটাইয়ের চক্করে কিংবা সঠিক পুষ্টিকর খাবারের অভাবে শরীরে অজান্তেই দেখা দেয় ভিটামিন ‘ই’-র ঘাটতি। তবে প্রাথমিক অবস্থায় এই ঘাটতির লক্ষণগুলো আমরা অনেকেই চুল পড়া বা ত্বকের সাধারণ সমস্যা মনে করে অবহেলা করি। শরীরে ভিটামিন ‘ই’-র ঘাটতির প্রধান লক্ষণগুলো কী কী, কীভাবে বুঝবেন আপনি এই সমস্যায় ভুগছেন এবং প্রাকৃতিকভাবে খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে এই ঘাটতি কীভাবে মেটাবেন—তা নিয়ে একটি বিস্তৃত পুষ্টি ও স্বাস্থ্য প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো।

১. শরীরে ভিটামিন ‘ই’-র ঘাটতির ৭টি প্রধান গোপন সংকেত

ক) পেশির দুর্বলতা ও টান ধরা (Muscle Weakness): ভিটামিন ‘ই’ আমাদের সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম বা স্নায়ুতন্ত্রের সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। শরীরে এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে পেশির কোষগুলোতে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বৃদ্ধি পায়। এর ফলে সামান্য পরিশ্রমে বা হাঁটাহাঁটিতেই পেশি দুর্বল মনে হয় এবং মাঝরাতে পায়ের রগে বা পেশিতে তীব্র টান (Cramps) ধরে।

খ) হাঁটাচলায় ভারসাম্যহীনতা ও হাত-পা অবশ ভাব (Ataxia & Numbness): দীর্ঘদিন ধরে শরীরে ভিটামিন ‘ই’-র তীব্র ঘাটতি থাকলে স্নায়ুর সংযোগ বা নিউরনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। এর ফলে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করার সময় শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে কষ্ট হয় (যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'অ্যাটাক্সিয়া' বলা হয়)। এ ছাড়া হাত ও পায়ের পাতায় পিন ফোটার মতো অনুভূতি বা অনবরত ঝিনঝিন ও অবশ ভাব দেখা দিতে পারে।

গ) চোখে দেখতে সমস্যা ও ঝাপসা দৃষ্টি (Vision Impairment): আমাদের চোখের রেটিনায় প্রচুর পরিমাণে আলোকসংবেদনশীল কোষ থাকে। ভিটামিন ‘ই’-র অভাব হলে রেটিনার কোষগুলো প্রাকৃতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে সময়ের সাথে সাথে চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রখরতা হারায় এবং সবকিছু ঝাপসা মনে হতে থাকে।

ঘ) অকালে ত্বকে বলিরেখা, বয়সের ছাপ ও শুষ্কতা: ত্বকের নমনীয়তা ধরে রাখতে এবং ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি (UV rays) থেকে ত্বককে বাঁচাতে ভিটামিন ‘ই’ জাদুর মতো কাজ করে। শরীরে এর ঘাটতি হলে ত্বকের সতেজতা নষ্ট হয়ে যায়, চামড়া অতিরিক্ত শুষ্ক ও প্রাণহীন হয়ে পড়ে এবং অকালেই মুখে বলিরেখা (Wrinkles) ও কালচে ছোপ ফুটে ওঠে।

ঙ) অতিরিক্ত চুল পড়া ও নক ভেঙে যাওয়া: চুলের ফোলিকল ও মাথার স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখতে ভিটামিন ‘ই’ সাহায্য করে। এর অভাবে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে হু হু করে চুল ঝরতে শুরু করে এবং হাতের নখ ভঙ্গুর বা পাতলা হয়ে খুব সহজেই ভেঙে যায়।

চ) ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া: ভিটামিন ‘ই’ শরীরের শ্বেত রক্তকণিকাকে সতেজ রেখে যেকোনো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের আক্রমণ প্রতিহত করে। শরীরে এর অভাব ঘটলে স্বাভাবিক ইমিউনিটি বা প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, যার ফলে সামান্য ঋতু পরিবর্তনেই ঘন ঘন সর্দি, কাশি বা ইনফেকশন দেখা দেয়।

ছ) রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া (Hemolytic Anemia): লোহিত রক্তকণিকা (RBC)-র প্রাচীরকে সুরক্ষিত রাখতে ভিটামিন ‘ই’ বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এর তীব্র অভাব হলে রক্তের লোহিত কণিকাগুলো দ্রুত ভেঙে যেতে শুরু করে, যাকে 'হেমোলাইটিক অ্যানিমিয়া' বলা হয়। এর ফলে অনবরত ক্লান্তি, অলসতা ও শারীরিক দুর্বলতা পিছু ছাড়ে না।

২. ভিটামিন ‘ই’-র ঘাটতি কীভাবে পূরণ করবেন?

ভিটামিন ‘ই’ একটি ফ্যাটে দ্রবণীয় ভিটামিন, তাই সুষম ও পুষ্টিকর খাবারের মাধ্যমে নিয়মিত সামান্য স্বাস্থ্যকর ফ্যাটযুক্ত খাবার খেলে খুব সহজেই এই ঘাটতি দূর করা সম্ভব:

বাদাম ও বীজ (Nuts and Seeds - প্রধান উৎস):

  • কাঠবাদাম বা আমন্ড: প্রতিদিন সকালে ৪-৫টি ভিজানো কাঠবাদাম খেলে সারাদিনের ভিটামিন ‘ই’-র সিংহভাগ চাহিদা মেটে।
  • সূর্যমুখী ও কুমড়োর বীজ: সূর্যমুখীর বীজ (Sunflower Seeds), তিল এবং কুমড়োর বীজে উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন ‘ই’ বিদ্যমান।
  • চিনাবাদাম ও কাজুবাদাম: টিফিনে বা স্ন্যাকস হিসেবে একমুঠো ভাজা চিনাবাদাম ও কাজুবাদাম খেলে শরীর পর্যাপ্ত পুষ্টি পায়।

উদ্ভিজ্জ তেল (Vegetable Oils):

  • রান্নায় প্রক্রিয়াজাত ক্ষতিকর তেলের বদলে কোল্ড-প্রেসড খাঁটি সরষের তেল, সূর্যমুখী তেল (Sunflower Oil), সয়াবিন তেল কিংবা অলিভ অয়েল (Olive Oil) ব্যবহার করা উচিত। এগুলোতে প্রাকৃতিক ভিটামিন ‘ই’ ভরপুর মাত্রায় থাকে।

সবুজ শাকসবজি ও ফলমূল:

  • পালং শাক, ব্রকলি, নটে শাক এবং অ্যাভোকাডোতে প্রচুর ভিটামিন ‘ই’ থাকে। এ ছাড়া আম, পাকা পেঁপে এবং কিউই ফলেও ভালো পরিমাণে এই ভিটামিন পাওয়া যায়।

সামুদ্রিক মাছ ও ডিম:

  • স্যালমন, টুনা, ইলিশের মতো চর্বিযুক্ত মাছ এবং ডিমের কুসুমে প্রাকৃতিক ভিটামিন ‘ই’ ভালো মাত্রায় থাকে।

সতর্কতা: প্রাকৃতিক খাবারের মাধ্যমে ভিটামিন ‘ই’ গ্রহণ করা সম্পূর্ণ নিরাপদ। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সরাসরি ভিটামিন ‘ই’ ক্যাপসুল বা সাপ্লিমেন্ট অতিরিক্ত মাত্রায় খাওয়া উচিত নয়, কারণ রক্ত পাতলা হয়ে যাওয়ার মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More