কেন স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনকেই যুবদিবস হিসাবে পালন করা হয়? জেনে নিন
১৯৮৪ সালে ভারত সরকার প্রথম ঘোষণা করে যে, ১৯৮৫ সাল থেকে প্রতি বছর ১২ জানুয়ারি দিনটি 'জাতীয় যুব দিবস' হিসেবে পালন করা হবে।
প্রতি বছর ১২ জানুয়ারি ভারতজুড়ে মহাসমারোহে পালিত হয় 'জাতীয় যুব দিবস' বা 'National Youth Day'। দিনটি আসলে কালজয়ী সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দের জন্মতিথি। কিন্তু কেন তাঁর জন্মদিনটিকেই তরুণ প্রজন্মের জন্য উৎসর্গ করা হলো? কেন অন্য কোনো ব্যক্তিত্ব নয়? এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে বিবেকানন্দের জীবনদর্শন এবং যুবশক্তির প্রতি তাঁর অগাধ বিশ্বাসের মধ্যে।

২০২৬ সালের আধুনিক যুগে দাঁড়িয়েও বিবেকানন্দের প্রাসঙ্গিকতা কেন ফুরিয়ে যায়নি, তা জেনে নিন:
বিবেকানন্দের জন্মদিন কেন 'যুব দিবস'? ইতিহাস ও কারণ
১৯৮৪ সালে ভারত সরকার প্রথম ঘোষণা করে যে, ১৯৮৫ সাল থেকে প্রতি বছর ১২ জানুয়ারি দিনটি 'জাতীয় যুব দিবস' হিসেবে পালন করা হবে। সরকারের সেই সময়কার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল— "স্বামী বিবেকানন্দের দর্শন এবং যে আদর্শের কথা তিনি প্রচার করেছেন, তা ভারতীয় যুবশক্তির জন্য অনুপ্রেরণার এক অন্তহীন উৎস হতে পারে।"
এর পেছনে প্রধান কারণগুলি হলো:
১. যুবশক্তির ওপর অগাধ বিশ্বাস
বিবেকানন্দ বিশ্বাস করতেন যে, ভারতের পুনরুত্থান ঘটবে দেশের যুবসমাজের হাত ধরেই। তিনি বলেছিলেন, "আমার বিশ্বাস কচি বয়সের ছেলেমেয়েদের ওপর, তারাই আমার সব কাজ উদ্ধার করবে। তারা সিংহের মতো সমস্ত বাধা অতিক্রম করে জগতের হিত সাধনে ব্রতী হবে।" তরুণদের অদম্য জেদ এবং শারীরিক ও মানসিক শক্তিকে তিনি দেশ গড়ার কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন।
২. আধুনিকতা ও আধ্যাত্মিকতার মেলবন্ধন
বিবেকানন্দ ছিলেন এমন এক মহাপুরুষ যিনি বিজ্ঞানের যুক্তি এবং আধ্যাত্মিকতার গভীরতা— দুটোরই সমাদর করতেন। তিনি যুবকদের ফুটবল খেলার মাধ্যমে শরীরচর্চার পরামর্শ দিয়েছিলেন, আবার উপনিষদের নির্ভেজাল জ্ঞান আহরণ করতেও বলেছিলেন। এই ব্যালেন্সড জীবনবোধই তরুণদের কাছে তাঁকে 'আইকন' করে তুলেছে।
৩. চরিত্র গঠনের শিক্ষা
তিনি মনে করতেন, ডিগ্রি অর্জন করাই প্রকৃত শিক্ষা নয়। যে শিক্ষা মানুষকে আত্মনির্ভর হতে শেখায় এবং চরিত্র গঠন করে, সেটিই আসল শিক্ষা। যুবকদের তিনি 'লোহার পেশি' এবং 'ইস্পাতের স্নায়ু' তৈরির আহ্বান জানিয়েছিলেন যাতে তারা প্রতিকূলতার সামনে হার না মানে।
৪. কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গড়ার ডাক
বিবেকানন্দ যুবকদের যুক্তি দিয়ে সব বিচার করতে শিখিয়েছিলেন। অন্ধভক্তি নয়, বরং সত্যকে জানার অদম্য কৌতূহল ছিল তাঁর চরিত্রের বৈশিষ্ট্য। যুবসমাজ যাতে সংকীর্ণ ধর্মীয় গণ্ডি পেরিয়ে মানবসেবায় ব্রতী হয়, সেই বার্তাই তিনি দিয়ে গেছেন।
বর্তমান সময়ে প্রাসঙ্গিকতা
আজকের প্রতিযোগিতামূলক যুগে অবসাদ এবং লক্ষ্যহীনতা তরুণ প্রজন্মের বড় শত্রু। স্বামীজির সেই অমোঘ বাণী— "জেগে ওঠো, সচেতন হও এবং লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত থেমো না" আজও লক্ষ লক্ষ হতাশ যুবককে নতুন করে বাঁচার পথ দেখায়। তাই এই দিনটি পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো তাঁর আদর্শকে বর্তমান প্রজন্মের রক্তে মিশিয়ে দেওয়া।
E-Paper











