শীতকালে ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের হ্রাস হতে পারে! কোন কোন লক্ষণ দেখলে সাবধান হবেন? কী করবেন
শীতকালে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স (B Complex) বা বি গ্রুপের ভিটামিনগুলিরও (B1, B2, B6, B9, B12) ঘাটতি দেখা দিতে পারে, বিশেষত যদি খাদ্যাভ্যাস ঠিক না থাকে। এই ভিটামিনগুলি আমাদের শক্তি উৎপাদন, স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা এবং কোষের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।
শীতকালে আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে আমাদের জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আসে। এই সময়ে সূর্যের আলো কম পাওয়ায় শরীর ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিতে ভোগে। তবে, শীতকালে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স (B Complex) বা বি গ্রুপের ভিটামিনগুলিরও (B1, B2, B6, B9, B12) ঘাটতি দেখা দিতে পারে, বিশেষত যদি খাদ্যাভ্যাস ঠিক না থাকে। এই ভিটামিনগুলি আমাদের শক্তি উৎপাদন, স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা এবং কোষের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।

ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের ঘাটতি দেখা দিলে কোন কোন লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন এবং কী কী পদক্ষেপ নেবেন, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা নিচে দেওয়া হলো।
ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের ঘাটতির লক্ষণ?
ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের প্রতিটি উপাদানের অভাবের লক্ষণ ভিন্ন ভিন্ন হয়, তবে সম্মিলিতভাবে কিছু সাধারণ সতর্কতা চিহ্ন দেখা যায়:
১. অতিরিক্ত দুর্বলতা ও ক্লান্তি:
- কারণ: ভিটামিন বি১২ এবং বি৬ লোহিত রক্তকণিকা তৈরি ও শক্তি উৎপাদনে সরাসরি জড়িত। এদের অভাবে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে।
২. ত্বক ও ঠোঁটের সমস্যা:
- লক্ষণ: ঠোঁটের কোণে ফাটা বা ঘা (Angular Cheilitis - বিশেষত B2 বা রাইবোফ্লাভিনের অভাবে), ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া বা শুষ্কতা দেখা দেওয়া।
৩. স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা:
- লক্ষণ: হাত-পায়ে অসাড়তা, ঝিনঝিন করা বা 'পিনের খোঁচা' অনুভব করা (বিশেষত B12-এর অভাবে), হাঁটতে অসুবিধা হওয়া বা ভারসাম্যহীনতা। এটি নিউরোপ্যাথির প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।
৪. জিহ্বা ও মুখের প্রদাহ:
- লক্ষণ: জিহ্বা মসৃণ, লালচে বা ফুলে যাওয়া (Glossitis), মুখে ঘন ঘন আলসার বা ঘা হওয়া।
৫. মানসিক স্বাস্থ্যের পরিবর্তন:
- লক্ষণ: মনোযোগের অভাব, স্মৃতিশক্তি হ্রাস, বিরক্তি বা মেজাজের পরিবর্তন, এমনকি গুরুতর ক্ষেত্রে হতাশা (Depression) বা উদ্বেগ (Anxiety) দেখা দেওয়া। (বিশেষত B12, B6 এবং B9/ফোলেট)।
লক্ষণ দেখলে কী করবেন? (প্রতিকার ও প্রতিরোধ)
ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের ঘাটতির লক্ষণ দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নেওয়া উচিত:
১. চিকিৎসকের পরামর্শ:
- প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো একজন চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা। চিকিৎসক রক্ত পরীক্ষা করে (বিশেষত B12 এবং ফোলেট লেভেল) ঘাটতির মাত্রা নিশ্চিত করবেন।
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রয়োজনে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স সাপ্লিমেন্ট বা B12 ইনজেকশন নিতে হবে।
২. খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন:
- প্রাণিজ উৎস: ভিটামিন B12 প্রধানত প্রাণিজ খাবারে পাওয়া যায়। শীতকালে ডিম, দুধ, মাছ (বিশেষত ফ্যাটি ফিশ), পোল্ট্রি এবং মাংসের মতো খাবার ডায়েটে যোগ করুন।
- উদ্ভিজ্জ উৎস: অন্যান্য বি ভিটামিন (যেমন B1, B6, ফোলেট) পেতে সবুজ শাকসবজি, শস্যদানা (Whole Grains), বাদাম, বীজ এবং ডাল জাতীয় খাবার বেশি করে খান।
- ফার্মেন্টেড ফুড: দই, পনীরের মতো ফার্মেন্টেড দুগ্ধজাত পণ্য B12-এর ভালো উৎস।
৩. সূর্যের আলো:
- যদিও ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের সঙ্গে সূর্যের আলোর সরাসরি সম্পর্ক নেই, তবে শীতকালে সূর্যের আলোতে থাকা ভিটামিন ডি-এর অভাবজনিত ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে।
৪. অতিরিক্ত অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন:
- অতিরিক্ত অ্যালকোহল ভিটামিন বি১ (থিয়ামিন) এবং অন্যান্য বি ভিটামিনের শোষণ কমিয়ে দেয়। তাই এই সময়ে অ্যালকোহল সেবন সীমিত করা উচিত।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


