আজ বিশ্ব এইডস দিবস, কীভাবে বৈষম্য দূরীকরণেই দূর হবে এই রোগ, জানুন এবারের থিম
১৯৮৮ সাল থেকে পালিত হয়ে আসা এই দিনটির উদ্দেশ্য হলো রোগটি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা, আক্রান্তদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা এবং এই মারণ ভাইরাসের কারণে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের স্মরণ করা।
প্রতি বছর ১লা ডিসেম্বর দিনটি বিশ্বজুড়ে বিশ্ব এইডস দিবস (World AIDS Day) হিসেবে পালিত হয়। এইডস (AIDS), যার মূল কারণ হলো এইচআইভি (HIV) ভাইরাস, তা একটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ। ১৯৮৮ সাল থেকে পালিত হয়ে আসা এই দিনটির উদ্দেশ্য হলো রোগটি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা, আক্রান্তদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা এবং এই মারণ ভাইরাসের কারণে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের স্মরণ করা।

এবারের এইডস দিবসের গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা এবং থিম নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন নিচে দেওয়া হলো:
১. এবারের থিম: বৈষম্য দূরীকরণ (Ending Inequalities. Ending AIDS.)
২০২৫ সালের বিশ্ব এইডস দিবসের থিমটি বৈষম্যের ওপর জোর দিয়েছে: "বৈষম্য দূরীকরণ। এইডস সমাপ্তিকরণ" (Ending Inequalities. Ending AIDS.)।
এই থিমের মূল লক্ষ্য হলো:
- সাম্য প্রতিষ্ঠা: বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা, পরীক্ষা এবং চিকিৎসার সুযোগের ক্ষেত্রে যে গভীর বৈষম্য রয়েছে, তা দূর করা।
- সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব: এইডস প্রতিরোধ এবং সাড়ার ক্ষেত্রে কমিউনিটি ভিত্তিক সংস্থা এবং স্থানীয় নেতাদের নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করা।
- মানবাধিকার সুরক্ষা: বৈষম্য ও কলঙ্কের কারণে এইচআইভি আক্রান্তরা যাতে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা।
২. দিনটির গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
বিশ্ব এইডস দিবসের গুরুত্ব কেবল সচেতনতা প্রচারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর প্রয়োজনীয়তা বহুমাত্রিক:
- সচেতনতা এবং প্রতিরোধ: এখনো অনেক মানুষ এইচআইভি সংক্রমণ এবং প্রতিরোধের পদ্ধতি সম্পর্কে অজ্ঞ। এই দিনটি নিরাপদ অভ্যাস ও নিয়মিত পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
- কলঙ্ক দূরীকরণ (Stigma): এইচআইভি আক্রান্তদের সমাজের চোখে হেয় করা এবং বৈষম্য সৃষ্টি করা একটি বড় বাধা। এই দিবসটি আক্রান্তদের প্রতি সংহতি ও সহানুভূতি বাড়াতে উৎসাহিত করে।
- অর্থ সংগ্রহ: এইডসের গবেষণা, চিকিৎসা, এবং প্রতিরোধ কর্মসূচির জন্য তহবিল সংগ্রহ করা।
- স্মরণ ও সম্মান: এই ভাইরাসের কারণে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের সম্মান জানানো এবং আক্রান্তদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা।
- রাজনৈতিক অঙ্গীকার: সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলিকে ২০৩০ সালের মধ্যে এইডস মহামারি অবসানের লক্ষ্যের (Sustainable Development Goals) প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি মনে করিয়ে দেওয়া।
৩. বর্তমান পরিস্থিতি ও লক্ষ্য
চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতি সত্ত্বেও, এইডস এখনো একটি বৈশ্বিক সমস্যা। উন্নত এআরটি (ART - Antiretroviral Therapy) চিকিৎসার কারণে এখন এইচআইভি আক্রান্তরাও প্রায় স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারেন। কিন্তু বৈষম্য এবং চিকিৎসার অপ্রতুলতার কারণে বিশ্বের সব মানুষ সমানভাবে এই সুবিধা পাচ্ছেন না।
এইডস দিবস তাই সমাজের প্রতিটি স্তরে বৈষম্যমূলক আইন, সামাজিক বাধা এবং স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতা দূর করতে একটি শক্তিশালী আহ্বান জানায়, যাতে ২০৩০ সালের মধ্যে এইডসকে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি হিসেবে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হয়।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


