হার্টের অসুখ কমাতে, দীর্ঘায়ু পেতে কী করবেন? বলে দিলেন বিখ্যাত হৃদরোগ-বিশেষজ্ঞ
কেস কার্ডিওভাসকুলার রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডাঃ সঞ্জয় রাজাগোপালন ২০২৫ আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন (এএএইচএ) বিশিষ্ট বিজ্ঞানী পুরষ্কার বিজয়ী।
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, কেস কার্ডিওভাসকুলার রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ডাঃ সঞ্জয় রাজাগোপালন সম্প্রতি দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন যাপনের জন্য একটি সহজ 'রেসিপি' প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, হৃদরোগ কমানোর জন্য জটিল বা ব্যয়বহুল পদ্ধতির প্রয়োজন নেই; বরং এমন একটি পদক্ষেপ আছে, যা অত্যন্ত খরচ-সাশ্রয়ী (Cost-Effective) এবং প্রায় সবার জন্য সহজলভ্য। বিশেষজ্ঞের এই পরামর্শটি মূলত জীবনযাত্রায় সাধারণ, কিন্তু কার্যকর পরিবর্তন আনার ওপর জোর দেয়।

সেই বিশেষজ্ঞের দেওয়া দীর্ঘ জীবনের রেসিপি এবং হৃদরোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে সাশ্রয়ী কৌশল নিয়ে নিচে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেওয়া হলো:
১. হৃদরোগ কমানোর সবচেয়ে সাশ্রয়ী উপায়: প্রতিদিন হাঁটা
ওই বিশেষজ্ঞের মতে, হৃদরোগ এবং কার্ডিওভাসকুলার সমস্যা কমানোর জন্য সবচেয়ে সাশ্রয়ী এবং প্রভাবশালী উপায়টি হলো শারীরিক কার্যকলাপ (Physical Activity), যার মধ্যে প্রতিদিন হাঁটা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
- কার্যকারিতা: হাঁটা একটি প্রাকৃতিক ব্যায়াম, যার জন্য কোনো বিশেষ সরঞ্জাম বা জিম মেম্বারশিপের প্রয়োজন হয় না। নিয়মিত হাঁটা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে, খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় এবং হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।
- সহজলভ্যতা: যেকোনো বয়সের মানুষের জন্য এটি সহজলভ্য এবং দৈনন্দিন রুটিনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সবচেয়ে সহজ।
২. দীর্ঘ জীবনের রেসিপি: ৪টি অপরিহার্য স্তম্ভ
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ শুধুমাত্র একটি বিষয়ের উপর জোর দেননি, বরং সুস্থ জীবনযাপনের জন্য চারটি প্রধান স্তম্ভের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন, যা সামগ্রিকভাবে জীবনকে দীর্ঘ ও সুস্থ রাখতে সাহায্য করে:
ক. স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস (Diet)
খাদ্যে প্রক্রিয়াজাত চিনি, লবণ এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ কমাতে হবে। ফল, শাকসবজি, গোটা শস্য (Whole Grains) এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট (যেমন বাদাম, বীজ) বেশি পরিমাণে গ্রহণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
খ. শারীরিক কার্যকলাপ (Exercise)
হাঁটার পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি থেকে তীব্র ব্যায়াম (যেমন দ্রুত হাঁটা বা দৌড়ানো) করার প্রয়োজন। সক্রিয় জীবনযাপন শরীরের মেটাবলিজমকে উন্নত করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে।
গ. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ (Stress Management)
দীর্ঘমেয়াদী মানসিক চাপ হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ। বিশেষজ্ঞ যোগা, ধ্যান (Meditation) বা শখের মাধ্যমে মানসিক চাপ কমানোর জন্য সময় দেওয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।
ঘ. পর্যাপ্ত ঘুম (Adequate Sleep)
সঠিক ঘুম শরীরের কোষ মেরামত, হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং মানসিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যাবশ্যক। প্রতিদিন রাতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম নিশ্চিত করা দীর্ঘ জীবনের জন্য জরুরি।
৩. বিশেষজ্ঞের মূল বার্তা: প্রতিরোধই সমাধান
এই বিশেষজ্ঞের বার্তা হলো, হৃদরোগকে কেবল চিকিৎসার মাধ্যমে নয়, বরং জীবনযাত্রার সঠিক পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব। এই চারটি স্তম্ভ বজায় রাখলে ওষুধের উপর নির্ভরতা কমে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পরিবর্তনগুলি যেন ছোট এবং টেকসই (Sustainable) হয়, যা নিয়মিত অভ্যাস করা সম্ভব।












