114 Rafale Deal Latest Update: ১১৪ রাফাল চুক্তিতে বড় আপডেট, সবুরে মেওয়া ফলবে? অগস্টেই আসবে 'খবর'

আগামী অগস্টের মাঝামাঝি ভারতের পাঠানো লেটার অব রিকোয়েস্ট (এলওআর)-এর আনুষ্ঠানিক জবাব দিতে চলেছে ফ্রান্স। সেই জবাব পাওয়ার পরই দুই দেশের মধ্যে বিমানগুলির দাম, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ভারতে উৎপাদন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শর্ত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হবে।

Published on: Jul 27, 2026, 08:31:53 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

114 Rafale Deal Latest Update: ভারতীয় বায়ুসেনার যুদ্ধক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার মেগা প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে চলেছে। সূত্রের খবর, আগামী অগস্টের মাঝামাঝি সময় ভারতের পাঠানো লেটার অফ রিকোয়েস্ট (এলওআর)-এর আনুষ্ঠানিক জবাব দিতে চলেছে ফ্রান্স। সেই জবাব পাওয়ার পরই দুই দেশের মধ্যে বিমানগুলির দাম, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ভারতে উৎপাদন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শর্ত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হবে।

আগামী অগস্টের মাঝামাঝি সময় ভারতের পাঠানো লেটার অফ রিকোয়েস্ট (এলওআর)-এর আনুষ্ঠানিক জবাব দিতে চলেছে ফ্রান্স। (PIB)
আগামী অগস্টের মাঝামাঝি সময় ভারতের পাঠানো লেটার অফ রিকোয়েস্ট (এলওআর)-এর আনুষ্ঠানিক জবাব দিতে চলেছে ফ্রান্স। (PIB)

প্রতিরক্ষা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে ভারত সরকার ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার জন্য ফ্রান্সের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। সরকার-টু-সরকার চুক্তির আওতায় এই বিমানগুলি কিনতে চায় ভারত। প্রথমে দ্রুত জবাব দেওয়ার কথা থাকলেও, ফরাসি কর্তৃপক্ষ এখন অগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময় চেয়েছে। সেই সময়সীমার মধ্যেই তাদের প্রস্তাব ভারতের হাতে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, মোট ১১৪টি রাফালের মধ্যে ৯৪টি যুদ্ধবিমান ভারতের মাটিতেই তৈরি হবে। ফরাসি সংস্থা দাসো অ্যাভিয়েশন একটি ভারতীয় প্রতিরক্ষা সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই বিমানগুলি উৎপাদন করবে। এর ফলে শুধু যুদ্ধবিমান কেনাই নয়, ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন শিল্প এবং 'মেক ইন ইন্ডিয়া' কর্মসূচিও বড় ধরনের গতি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য এই চুক্তিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে বায়ুসেনার স্কোয়াড্রনের সংখ্যা প্রয়োজনীয় মাত্রার নিচে নেমে এসেছে। পুরনো রাশিয়ান মিগ সিরিজের যুদ্ধবিমান ধাপে ধাপে অবসর নিচ্ছে। অন্যদিকে, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এলসিএ তেজস মার্ক-১এ এবং ভবিষ্যতের মার্ক-২ প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের তুলনায় বিলম্বিত হওয়ায় যুদ্ধবিমানের ঘাটতি আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাফাল বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করাই এখন বায়ুসেনার অন্যতম অগ্রাধিকার।

বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনা এবং নৌসেনা মিলিয়ে মোট ৬২টি রাফাল যুদ্ধবিমানের অর্ডার দিয়েছে। নতুন ১১৪টি বিমান যুক্ত হলে দেশে রাফালের সংখ্যা বেড়ে হবে ১৭৬। এছাড়া ভারতীয় নৌসেনা ভবিষ্যতে আরও ৩১টি রাফাল মেরিন সংস্করণ কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ভারতের হাতে মোট রাফালের সংখ্যা ২০০-এরও বেশি হতে পারে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের শীর্ষ পর্যায়ে এই প্রকল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০২৪ সালে প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতীয় বায়ুসেনার সামরিক সক্ষমতা দ্রুত বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি বিস্তৃত সমীক্ষা চালানো হয়। সেই সমীক্ষার সুপারিশ অনুযায়ী যুদ্ধবিমান সংগ্রহের প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিষদ (ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল বা ডিএসি) ইতিমধ্যেই ভারতীয় বায়ুসেনার ১১৪টি রাফাল কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। ফলে এখন ফ্রান্সের আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে মূল্য, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দেশীয় উৎপাদনের পরিধি এবং সরবরাহের সময়সূচি নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা শুরু হবে। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে, এটি ভারতের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম যুদ্ধবিমান ক্রয়চুক্তি এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত-ফ্রান্স কৌশলগত অংশীদারিত্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠবে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More