Russian drone attack: ইউক্রেনের রেল স্টেশনে রুশ ড্রোন হামলা! আছড়ে পড়ল যাত্রীবাহী ট্রেনে, প্রাণ হারালেন ১৩ জন

Russian drone attack: ইউক্রেনীয় রেলওয়ের পক্ষ থেকে তাদের অফিশিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, জাপোরিঝিয়ার উদ্দেশে যাওয়ার কথা ছিল ট্রেনটির। রাশিয়া জেট-চালিত একটি ড্রোন দিয়ে হামলা চালায়।

Published on: Oct 29, 2026, 18:30:45 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

Russian drone attack: বৃহস্পতিবার সকালে ইউক্রেনের (Ukraine) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর ডিনিপ্রোর রেলওয়ে স্টেশনে এক আকস্মিক ড্রোন হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী (Russia)! স্থানীয় প্রশাসনিক ও উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই ভয়াবহ হামলায় কমপক্ষে ১৩ জন সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন অন্তত ১০ জন।

ইউক্রেনের রেল স্টেশনে রুশ ড্রোন হামলা, প্রাণ হারালেন ১৩ জন (via REUTERS)
ইউক্রেনের রেল স্টেশনে রুশ ড্রোন হামলা, প্রাণ হারালেন ১৩ জন (via REUTERS)

ইউক্রেনীয় রেলওয়ের পক্ষ থেকে তাদের অফিশিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, জাপোরিঝিয়ার উদ্দেশে যাওয়ার কথা ছিল ট্রেনটির। রাশিয়া জেট-চালিত একটি ড্রোন দিয়ে হামলা চালায়। পোস্টে বলা হয়, একটি ড্রোন সোজাসুজি স্টেশনের সেই নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্মটিকে আঘাত করে, যেখানে সেই মুহূর্তে ডিনিপ্রো থেকে জাপোরিঝিয়াগামী ৮৬৬ নম্বর যাত্রীবাহী ট্রেনটি দাঁড়িয়েছিল। হামলার ঠিক প্রাক্কালে এলাকায় আকাশপথে সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কায় উচ্চ সতর্কবার্তা বা অ্যালার্ট জারি করা সত্ত্বেও ট্রেন ধরার অপেক্ষায় প্ল্যাটফর্মে বহু মানুষের উপস্থিতি ছিল, যার ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই বেড়ে গেছে। হামলার পরপরই ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন উদ্ধারকারী দল। আহতদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সেখানে কাজ করছেন চিকিৎসাকর্মীরা।

ভলোদিমির জেলেনস্কির কঠোর পদক্ষেপের দাবি

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি (Volodymyr Zelensky) বিশ্ববাসীর সামনে জোরালো কন্ঠে আন্তর্জাতিক মহলের কঠোর পদক্ষেপ করার দাবি জানিয়েছেন। রাশিয়ার এই ধরনের আক্রমণকে প্রকাশ্য সন্ত্রাস হিসেবে উল্লেখ করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এক্স হ্যান্ডেলে নিজের কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, রাশিয়ার জ্বালানি খাত এবং নির্দিষ্ট কিছু রুশ ধনকুবেরের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর থেকে মস্কো ঠিক কতগুলি এই ধরনের সন্ত্রাসী হামলা ইউক্রেনের সাধারণ মানুষের ওপর চালিয়ে গেছে? যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমিত হওয়ার পরিবর্তে এই ধরনের আগ্রাসন কেন অব্যাহত রয়েছে, তা নিয়েও তিনি আন্তর্জাতিক স্তরের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এক্স হ্যান্ডলে ঘটনার একাধিক ছবি এবং ভিডিও শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, ‘রাশিয়ার কিছু অলিগার্ক (ধনী ব্যবসায়ী) এবং জ্বালানি খাতের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর থেকে রাশিয়া আমাদের জনগণের উপর ঠিক কতগুলি সন্ত্রাসবাদী হামলা চালিয়েছে? অথচ, পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কথা ছিল।’

অন্যদিকে, ডিনিপ্রোর মেয়র বরিস ফিলাটভ এই ঘটনাকে গোটা শহরের জন্য একটি গভীর ও অপূরণীয় ট্র্যাজেডি বলে বর্ণনা করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের প্রতিক্রিয়ায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করে লিখেছেন যে, একটি সম্পূর্ণ বেসামরিক বৈদ্যুতিক ট্রেনের ওপর এই ড্রোন আঘাত হেনেছে, যেখানে কোনও সামরিক উপস্থিতি ছিল না। যুদ্ধ চলাকালীন বারবার এই ধরনের জনবহুল স্থান ও যাত্রীবাহী ট্রেনকে নিশানা করার ফলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আজ সম্পূর্ণ বিপন্ন হয়ে পড়েছে। দেশজুড়ে এই হামলার তীব্র নিন্দা শুরু হয়েছে এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে সাধারণ নাগরিকদের জীবন রক্ষা নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের মেঘ ঘনীভূত হয়েছে।