Lay's: লে’জের প্যাকেটে ১৫ গ্রামের বদলে মাত্র ৪ গ্রাম চিপস! পেপসিকোকে মোটা অঙ্কের জরিমানা কমিশনের
Lay's: মামলাকারী চন্দ্রমান জালানের দাবি, ২০২০ সালের ১০ নভেম্বর বাড়িতে অতিথি আপ্যায়নের জন্য তিনি মেট্রো ক্যাশ অ্যান্ড ক্যারি থেকে বেশ কিছু খাদ্যপণ্য কেনেন। সেই কেনাকাটার তালিকায় ছিল ৫ টাকা দামের একটি লে’জ চিপসের প্যাকেট।
Lay's: আদালতে বড় ধাক্কা খেল জনপ্রিয় চিপস প্রস্তুতকারী সংস্থা। জয়পুরের একটি ক্রেতা সুরক্ষা কমিশন পেপসিকো ইন্ডিয়া হোল্ডিংস প্রাইভেট লিমিটেডকে দায়ী করেছে। যার নেপথ্যে কারণটি শোরগোল ফেলে দিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। একজন গ্রাহকের তরফে ৫ টাকার লে’স চিপসের একটি প্যাকেটে ১৫ গ্রামের পরিবর্তে মাত্র ৪ গ্রাম চিপস পাওয়ার দাবি জানিয়ে আবেদন করার পরেই মামলায় চাঞ্চল্যকর রায় দিয়েছে আদালতের।

সভাপতি অশোক শর্মা, সদস্য অজয় কুমার ও সুপ্রিয়া আগরওয়ালের নেতৃত্বাধীন জেলা ক্রেতা সুরক্ষা কমিশন-২ একইসঙ্গে এই মামলায় খুচরা বিক্রেতা সংস্থা মেট্রো ক্যাশ অ্যান্ড ক্যারি ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের বিরুদ্ধে করা অভিযোগটিও খারিজ করে দিয়েছে।
কীভাবে সামনে এল ওজনের গরমিল?
সংবাদমাধ্যম ‘লাইভ ল ডট ইন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জালান বিল্ডিং অ্যান্ড হার্ডওয়্যার স্টোরের মালিক চন্দ্রমন জালান এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। মামলাকারী চন্দ্রমান জালানের দাবি, ২০২০ সালের ১০ নভেম্বর বাড়িতে অতিথি আপ্যায়নের জন্য তিনি মেট্রো ক্যাশ অ্যান্ড ক্যারি থেকে বেশ কিছু খাদ্যপণ্য কেনেন। সেই কেনাকাটার তালিকায় ছিল ৫ টাকা দামের একটি লে’জ চিপসের প্যাকেট। কেনাকাটার পর তাঁকে চালানপত্রও দেওয়া হয়েছিল। জালানের বক্তব্য, অতিথিদের পরিবেশনের সময় প্যাকেটটি অস্বাভাবিক হালকা মনে হয় তাঁর। সন্দেহ হওয়ায় প্যাকেটের ভিতরে থাকা চিপস ওজন করে দেখেন তিনি। তখনই ধরা পড়ে গরমিল। প্যাকেটের গায়ে ১৫ গ্রাম চিপস থাকার উল্লেখ থাকলেও, বাস্তবে পাওয়া যায় মাত্র ৪ গ্রাম।
বিষয়টি নিয়ে গ্রাহক প্রাথমিক ভাবে মেট্রোর দ্বারস্ত হন, কিন্তু তিনি জানান যে সংস্থাটি তাঁর অভিযোগ যথাযথভাবে নিষ্পত্তি করেনি। এরপর তিনি ২০২২ সালের ৬ এপ্রিল, পরিষেবা সংক্রান্ত ঘাটতি এবং অন্যায্য বাণিজ্যিক সিস্টেমের অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন।
কী বলেছিল বিক্রেতা সংস্থা?
এই মামলায় মেট্রো কর্তৃপক্ষের যুক্তি ছিল, চিপসের পরিমাণে কোনও ঘাটতি হয়ে থাকলে তা উৎপাদন প্রক্রিয়ার সময় ঘটতে পারে। সে ক্ষেত্রে দায় প্রস্তুতকারক সংস্থার, বিক্রেতার নয়। এই মামলায় পেপসিকোকেও নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে নোটিশ পাওয়ার পরেও সংস্থাটি কমিশনের সামনে হাজির হয়নি। ফলে তাদের অনুপস্থিতিতেই মামলার শুনানি এগোয়। মামলাটি একতরফা ভাবে এগোয়, যার অর্থ হল সব পক্ষের বক্তব্য শোনাই হয়নি। মামলাকারীর পেশ করা প্রমাণ, কেনাকাটার রসিদ এবং ওজন সংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখার পর কমিশন বিক্রেতা সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ খারিজ করে দেয়। অন্যদিকে, পেপসিকোর বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ করে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
কত টাকা দিতে হবে পেপসিকোকে?
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, প্যাকেটের দাম বাবদ ৫ টাকা ফেরত দিতে হবে গ্রাহককে। এর সঙ্গে ২০২২ সালের ৬ এপ্রিল থেকে টাকা পরিশোধের দিন পর্যন্ত বার্ষিক ৬ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। এ ছাড়াও মানসিক হয়রানির জন্য ৫,০০০ টাকা এবং মামলার খরচ বাবদ ৩,০০০ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ৮,০০০ টাকা এক মাসের মধ্যে মিটিয়ে দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা দেওয়া না হলে, ওই ৮,০০০ টাকার উপরও আদেশের তারিখ থেকে টাকা পরিশোধ পর্যন্ত বার্ষিক ৬ শতাংশ হারে সুদ প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, মাত্র ৫ টাকার একটি চিপ্সের প্যাকেট ঘিরে শুরু হওয়া বিরোধে পেপসিকোকে মোট ৮,০০৫ টাকা এবং প্রযোজ্য সুদ মেটানোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
ঘটনাটি ফের মনে করিয়ে দিল, প্যাকেটজাত পণ্যের গায়ে উল্লেখিত পরিমাণ এবং বাস্তবে পাওয়া পণ্যের মধ্যে গরমিলের অভিযোগ উঠলে গ্রাহক উপভোক্তা কমিশনের দ্বারস্থ হতে পারেন।
E-Paper

