2 Ships with 22 Indian Sailors Hijacked: ইয়েমেন-সোমালিয়ায় জলদস্যুদের তাণ্ডব! ২ জাহাজ হাইজ্যাকে বন্দি ২২ ভারতীয় নাবিক
পর পর দু’টি ঘটনায় ফের প্রশ্ন উঠছে সোমালিয়া ও ইয়েমেন সংলগ্ন জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে। এক সময় ভারত মহাসাগর ও আফ্রিকার শিং অঞ্চলে জলদস্যুদের দাপট ছিল নিয়মিত ঘটনা। আন্তর্জাতিক নজরদারি এবং নৌবাহিনীর তৎপরতায় সেই সমস্যা অনেকটাই কমেছিল।
ইয়েমেন ও সোমালিয়ার উপকূলে ফের মাথাচাড়া দিল জলদস্যুদের দাপট। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে দু’টি বাণিজ্যিক জাহাজ ছিনতাই হয়েছে। দুই জাহাজে ছিলেন মোট ২২ জন ভারতীয় নাগরিক। বৃহস্পতিবার এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই উদ্বেগ বেড়েছে। প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে গাল্ফ অব এডেনে। ইয়েমেনের উপকূল থেকে প্রায় ৩০ নটিক্যাল মাইল দূরে ছ’জন সশস্ত্র জলদস্যু একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার দখল করে নেয়। জাহাজটির নাম এমটি সিবু ১। ইরিত্রিয়ার পতাকাবাহী এই জাহাজে মোট ২০ জন কর্মী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৬ জন ভারতীয়।

প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, জাহাজের সব কর্মীই নিরাপদে রয়েছেন। তবে বর্তমানে জাহাজটি কোথায় রয়েছে এবং নাবিকদের পরিস্থিতি কী, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। জাহাজের কর্মীদের মধ্যে ১৬ জন ভারতীয় ছাড়াও ছিলেন এক জন সিরীয়, এক জন সুদানি এবং এক জন ইরাকি নাগরিক। আরও এক জনের জাতীয়তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী সংস্থাকে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কেও নিয়মিত তথ্য দিতে হবে। এ জন্য e-Navik অনলাইন মেরিন ক্যাজুয়ালটি রিপোর্টিং সিস্টেম ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। SKS Krishiv Marine Services-এর সুমিত কান্ত সিংহ জানিয়েছেন, তাঁদের সংস্থা ওই জাহাজের চার জন কর্মীকে নিয়োগ করেছিল। তাঁদের প্রয়োজনীয় তথ্যও প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যেই সোমালিয়ার উপকূলেও ঘটে গিয়েছে আরও একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা। সোমবার সোমালিয়ার পুন্টল্যান্ড উপকূলের কাছে জলদস্যুরা দখল করে নেয় ক্যামেরুনের পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ এমভি লুতুফ। এই জাহাজে ছিলেন ১০ জন কর্মী। তাঁদের মধ্যে ছ’জন ভারতীয়। বাকি কর্মীদের মধ্যে ছিলেন এক জন তুর্কি, এক জন জর্জিয়ান এবং দুই জন সার্বিয়ান নিরাপত্তারক্ষী।
সোমালি এক আধিকারিকের দাবি, পুন্টল্যান্ডের এয়ল জেলার মাররায়া এলাকা থেকে মাত্র সাড়ে তিন নটিক্যাল মাইল দূরে জাহাজটি দখল করা হয়। পরে সেটিকে নুগাল উপকূলের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ, আট জন জলদস্যু এই হামলায় জড়িত। তারা আগে এপ্রিল মাসে এমভি সোয়ার্ড নামে একটি জাহাজ ছিনতাইয়ের ঘটনায় যুক্ত ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।
লুতুফ জাহাজে কী ছিল, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ। সোমালি আধিকারিকের দাবি, জাহাজটিতে অস্ত্র ছিল। সেই অস্ত্র মোগাদিশুর একটি তুর্কি সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ছিল যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং স্যাটেলাইট সরঞ্জামও। তবে জাহাজটির বর্তমান অবস্থান কী, নাবিকেরা নিরাপদ কি না এবং অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জামের কী হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তুরস্কের তরফেও এখনও কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পর পর দু’টি ঘটনায় ফের প্রশ্ন উঠছে সোমালিয়া ও ইয়েমেন সংলগ্ন জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে। এক সময় ভারত মহাসাগর ও আফ্রিকার শিং অঞ্চলে জলদস্যুদের দাপট ছিল নিয়মিত ঘটনা। আন্তর্জাতিক নজরদারি এবং নৌবাহিনীর তৎপরতায় সেই সমস্যা অনেকটাই কমেছিল।
কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি দেখিয়ে দিল, বিপদ পুরোপুরি কাটেনি। বিশেষ করে গাল্ফ অব এডেন এবং সোমালিয়ার উপকূল দিয়ে যাতায়াত করা বাণিজ্যিক জাহাজগুলির জন্য জলদস্যুদের হুমকি এখনও যথেষ্ট বড়। আর সেই ঝুঁকির মধ্যে এবার ২২ জন ভারতীয় নাবিকের নাম জড়িয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


