নতুন শিফট শুরু হতেই তীব্র বিস্ফোরণ! মহারাষ্ট্রের কারখানায় শ্রমিকদের মৃত্যুমিছিল, PM মোদীর...

দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই নাগপুর গ্রামীণ পুলিশ সুপার হর্ষ পোদ্দার এবং জেলাশাসক ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

Published on: Mar 1, 2026, 23:48:06 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

অন্ধ্রপ্রদেশের পর এবার ঘটনাস্থল মহারাষ্ট্র। নাগপুরের কাছে একটি বিস্ফোরক উৎপাদনকারী কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ২০ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন। মৃত্যুমিছিল আরও বাড়তে পারার আশঙ্কা রয়েছে। গোটা ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কীভাবে কারখানায় বিস্ফোরণ ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মহারাষ্ট্রের কারখানায় শ্রমিকদের মৃত্যুমিছিল (সৌজন্যে টুইটার)
মহারাষ্ট্রের কারখানায় শ্রমিকদের মৃত্যুমিছিল (সৌজন্যে টুইটার)

রবিবার সকাল ৬ টা ৪৫ মিনিট নাগাদ নাগপুর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে রৌলগাঁও এলাকার ‘এসবিএল এনার্জি লিমিটেড’ নামে ওই কারখানায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। কারখানাটিতে বারুদ তৈরি হয়। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, এদিন সকাল ৬টায় ওই কারখানায় নতুন শিফট শুরু হয়। ৩৫ জন কর্মী ছিলেন এই শিফটে। সেই সময় শ্রমিকরা ডেটোনেটর তৈরির কাজ করছিলেন। তাঁদের কাজ শুরু করার মিনিট ৪৫ পর কারখানায় জোরালো বিস্ফোরণ ঘটে। এরপরেই মুহূর্তের মধ্যে আগুনের গ্রাসে চলে যায় গোটা কারখানা। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারদিক। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, কারখানার সংশ্লিষ্ট ইউনিটের একটি বড় অংশ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই তীব্র ছিল যে, বহুদূর পর্যন্ত এলাকা কেঁপে ওঠে এবং গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

জানা গেছে, খনি ও শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত বিস্ফোরক তৈরি হয় ওই কারখানায়। এদিকে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই নাগপুর গ্রামীণ পুলিশ সুপার হর্ষ পোদ্দার এবং জেলাশাসক ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সঙ্গে উদ্ধারকাজে যোগ দেয় এনডিআরএফ ও এসডিআরএফ-এর বিশেষ দল। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে শ্রমিকদের উদ্ধারের কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নাগপুরের অরেঞ্জ সিটি হাসপাতাল এবং স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে ভর্তি করা হয়েছে। অনেকেরই শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। নাগপুর গ্রামীণের পুলিশ সুপার হর্ষ পোদ্দার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তবে বিস্ফোরণের সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি, তদন্ত শুরু হয়েছে। এদিকে, মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে জানান, জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন এবং উদ্ধারকাজ চলছে। অন্যদিকে, এই ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নিহতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। কেন এবং কীভাবে এই বিস্ফোরণ ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।