আপনার সরকারের ২০০ লোক আমাদের তথ্য দিচ্ছে, মোদীর উদ্দেশে বার্তা রাহুল গান্ধীর

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই সরব বিরোধীরা। তাঁদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বহু যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির মানুষ ভোটাধিকার হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন বলেও দাবি করেছেন তাঁরা।

Published on: Oct 12, 2026, 13:40:16 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও তীব্র করার পথে বিরোধীরা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলে সোমবার সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার ঘোষণা করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি, সোমবার বিকেল ৩টেয় ইন্ডিয়া জোটের নেতারা শীর্ষ আদালতে আবেদন জমা দেবেন। তার আগে দিল্লির বারাখাম্বা মোড় থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। রাহুলের বক্তব্য, এই লড়াই কোনও ব্যক্তি বা দলের জন্য নয়। সংবিধান এবং গণতন্ত্র রক্ষার জন্যই পথে নেমেছেন তাঁরা। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলে আরও একটি দাবি করেছেন রাহুল। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রায় ২০০ জন আধিকারিক বিরোধীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং তাঁদের বিভিন্ন তথ্য জানাচ্ছেন।

আপনার সরকারের ২০০ লোক আমাদের তথ্য দিচ্ছে, মোদীর উদ্দেশে বার্তা রাহুল গান্ধীর (PTI)
আপনার সরকারের ২০০ লোক আমাদের তথ্য দিচ্ছে, মোদীর উদ্দেশে বার্তা রাহুল গান্ধীর (PTI)

সোমবার সকালে দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে আন্দোলনের কথা ঘোষণা করেন রাহুল। তাঁর নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলির এই কর্মসূচিতে কংগ্রেস ছাড়াও ইন্ডিয়া জোটের অন্য শরিকদের যোগ দেওয়ার কথা। দুপুর দেড়টা নাগাদ বারাখাম্বা মোড় থেকে মিছিল শুরু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিকেল ৩টেয় সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন রাহুল। বিজেপির কেউ সংবিধান আক্রান্ত বলে মনে করলে, তাঁকেও এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

কী অভিযোগ বিরোধীদের?

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই সরব বিরোধীরা। তাঁদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বহু যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির মানুষ ভোটাধিকার হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন বলেও দাবি করেছেন তাঁরা। এই পরিস্থিতির জন্য নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চাইছে বিরোধী শিবির।

তবে নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ মানতে নারাজ। কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকা যাচাইয়ের সময় মৃত, অন্যত্র চলে যাওয়া এবং খুঁজে পাওয়া যায়নি এমন ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। ভুল করে কোনও যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়লে তাঁরা ফের নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন বলেও জানিয়েছে কমিশন। বিজেপিরও দাবি, বৈধ নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে অকারণে প্রশ্নের মুখে ফেলছে বিরোধীরা। ফলে ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত ক্রমশ বাড়ছে।

‘সরকারের ২০০ আধিকারিক যোগাযোগ রাখছেন’

সাংবাদিক বৈঠকে রাহুলের আরও দাবি, মোদী সরকারের প্রায় ২০০ জন আধিকারিক বিরোধীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তাঁদের মধ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, সিবিআই এবং বিদেশ মন্ত্রকের আধিকারিকেরাও রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। এই আধিকারিকেরা বিভিন্ন তথ্য তাঁদের জানাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন কংগ্রেস নেতা। যদিও এই দাবির সপক্ষে কোনও তথ্যপ্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে রাহুলের এই বক্তব্যের স্বাধীন ভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে জট

এর আগে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করার সময় চেয়েছিলেন বিরোধী নেতারা। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে দেন প্রধান বিচারপতি। সংশ্লিষ্ট বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় আলাদা করে দেখা করার পরিবর্তে আইনি পথে এগোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তার পরেই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইন্ডিয়া জোট।

এ দিকে বিরোধীদের মিছিল ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সোমবার কেন্দ্রীয় দিল্লির ছ’টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। শহরের ২০টিরও বেশি রাস্তার অংশে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও ঘুরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে পুলিশ। গত কয়েক দিনের বিক্ষোভে বহু মানুষকে আটক করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলন এ বার আদালতের দরজায় পৌঁছতে চলেছে। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং এসআইআর প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হয়, এখন নজর সেদিকেই। তবে বিরোধীদের অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে আদালতের বিচারপ্রক্রিয়াতেই।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More