Supreme Court: আহমেদাবাদ বিস্ফোরণকাণ্ডে নয়া মোড়!ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন সদস্যের মৃত্যুদণ্ডের সাজায় স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের
Supreme Court Stay Death Sentence: চলতি বছরের জুলাই মাসে বিশেষ আদালতের দেওয়া ৩৮ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ বহাল রেখেছিল গুজরাট হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ।
Supreme Court Stay Death Sentence: ২০০৮ সালের ২৬ জুলাই। সাধারণ দিনের মতোই ব্যস্ত ছিল গুজরাটের (Gujarat) আহমেদাবাদ (Ahmedabad) শহর। কিন্তু মাত্র ৭০ মিনিটের মধ্যে শহরের ২১টি ভিন্ন স্থানে একের পর এক বিস্ফোরণে (Ahmedabad Serial Blasts) বদলে যায় গোটা পরিস্থিতি। আতঙ্ক, রক্তাক্ত রাস্তা এবং অসংখ্য নিরীহ মানুষের আর্তনাদে স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল শহর। ভয়াবহ হামলায় প্রাণ হারান ৫৬ জন এবং আহত হন ২০০-রও বেশি মানুষ। ২০০৮ সালের সেই আহমেদাবাদে ধারাবাহিক বোমা বিস্ফোরণ মামলার একটি বড় রায় সামনে এল। ওই নাশকতার ঘটনায় গুজরাট হাইকোর্টের দেওয়া ৩৮ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের মধ্যে থেকে এক অভিযুক্তের সাজায় স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ‘ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন’-এর এক সদস্যের মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশে বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালত এই স্থগিতাদেশ জারি করেছে।

গুজরাট হাইকোর্ট যে ৩৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল, তাদের মধ্যে অন্যতম হল আহমেদ বাওয়া ওরফে আব্বু আবুবকর বেরেলভি। সর্বোচ্চ সাজায় স্থগিতাদেশ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন ওই অভিযুক্তের আইনজীবীরা। বিচারপতি বিক্রম নাথ, এজি মাসিহ এবং সন্দীপ মেহতার বিশেষ বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। প্রাথমিক শুনানি শেষে ওই ভারতীয় মুজাহিদিন সদস্যের মৃত্যুদণ্ডে স্থগিতাদেশ দেয় সর্বোচ্চ আদালত। পাশাপাশি, যে প্রমাণের ভিত্তিতে ওই জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, তার সমস্ত তথ্যপ্রমাণ তলব করেছে তিন বিচারপতির বেঞ্চ। ইতিমধ্যে গুজরাট সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নোটিসও পাঠানো হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের জুলাই মাসে বিশেষ আদালতের দেওয়া ৩৮ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ বহাল রেখেছিল গুজরাট হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। বিশেষ আদালতের ২০২২ সালের রায় বহাল রেখে উচ্চ আদালতের বিচারপতি এওয়াই কোগজে এবং বিচারপতি সমীর দাভের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছিল, এই বিস্ফোরণ ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং এর মূল উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা। এর ফলে বিশেষ আদালতের সাজায় কোনও পরিবর্তন হয়নি।
প্রসঙ্গত, আহমেদাবাদ ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ভারতের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ জঙ্গি হামলা হিসেবে চিহ্নিত। ২০০৮ সালের ২৬ জুলাই আহমেদাবাদের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক ২১টি ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটেছিল। শহরের বাসস্ট্যান্ড, বাজার থেকে শুরু করে জনবহুল এলাকা এবং হাসপাতালেও বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সেই হামলায় ৫৬ জনের মৃত্যু হয় এবং ২০০-র বেশি মানুষ আহত হন। দীর্ঘ প্রায় ১৩ বছর ধরে বিচারপ্রক্রিয়া চলার পর ২০২২ সালে বিশেষ আদালত ৪৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং ৩৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। প্রমাণের অভাবে খালাস পান ২৮ জন। রায় ঘোষণার সময় বিচারপতি মন্তব্য করেছিলেন, দেশের নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন করে যারা পরিকল্পিত জঙ্গি হামলা চালায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তিই হওয়া উচিত। একই সঙ্গে আদালত ব্যাখ্যা করে জানায়, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১১ জন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বিস্ফোরণের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে তাঁদের ভূমিকা মৃত্যুদণ্ডযোগ্য পর্যায়ের নয়। সেই কারণেই তাঁদের ক্ষেত্রে পৃথক শাস্তি নির্ধারণ করা হয়। তবে এবার সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে এক অভিযুক্তের মৃত্যুদণ্ডের সাজা সাময়িকভাবে স্থগিত রইল।
E-Paper

