৭ কেজি সোনা-২.৯২ কোটি! ডেডলাইন পেরোতেই বড় সাফল্য, বিজাপুরে মাওবাদী সমস্যায় নয়া মোড়

আত্মসমর্পণ করা মাওবাদী সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে বিজাপুর এবং আশেপাশের গ্রামীণ এলাকায় সক্রিয় ছিল। তারা স্থানীয় মানুষদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করত এবং সরকারি প্রকল্প ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে বাধা দিত।

Published on: Apr 1, 2026, 21:32:41 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

মার্চ ৩১, ২০২৬- এই তারিখকে লক্ষ্য করেই মাওবাদী কার্যকলাপ পুরোপুরি নির্মূল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই সময়সীমা শেষ হতেই বড় সাফল্য পেল কেন্দ্র। বুধবার ছত্তিশগড়ের বিজাপুরে যৌথ বাহিনীর একটি সফল অভিযানের মাধ্যমে মহিলা-সহ ২৫ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছে। তাদের কাছ থেকে প্রচুর অস্ত্র, নগদ অর্থ এবং স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে, যা এই অঞ্চলে নকশাল আন্দোলনের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

বিজাপুরে মাওবাদী সমস্যায় নয়া মোড়
বিজাপুরে মাওবাদী সমস্যায় নয়া মোড়

নিরাপত্তা সূত্রে জানা গিয়েছে, আত্মসমর্পণ করা মাওবাদী সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে বিজাপুর এবং আশেপাশের গ্রামীণ এলাকায় সক্রিয় ছিল। তারা স্থানীয় মানুষদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করত এবং সরকারি প্রকল্প ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে বাধা দিত। তবে, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারের এক যৌথ উদ্যোগ এবং যৌথ বাহিনীর ক্রমাগত তৎপরতার ফলে মাওবাদীদের দমন ও আত্মসমর্পণের সুযোগ তৈরি হয়। বস্তার রেঞ্জের আইজি পি সুন্দররাজ এটিকে নকশালবাদের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, বস্তার বিভাগে নকশাল কার্যকলাপ প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছে। তাঁর কথায়, 'আজ, ৩১ মার্চ, ২০২৬, আমরা এই মুহূর্তের সাক্ষী হতে বস্তার বিভাগের বিজাপুর জেলায় সমবেত হয়েছি। আজ বস্তার বিভাগে নকশাল কার্যকলাপ সম্পূর্ণরূপে শেষ হয়ে গিয়েছে। আমরা আমাদের লক্ষ্য প্রায় পুরোপুরি অর্জন করেছি। বাকি থাকা নকশালদের সময় ফুরিয়ে আসছে। আমাদের অভিযান কোনও বাধা ছাড়াই অব্যাহত রয়েছে।'

কী কী উদ্ধার হয়েছে?

আত্মসমর্পণ প্রসঙ্গে আইজি পি সুন্দররাজ বলেন, এদিন মোট ২৫ জন মাওবাদী সদস্য আত্মসমর্পণ করেছে। তিনি আরও জানান, আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে ১২ জন মহিলাও রয়েছেন। তাঁরা সকলেই সহিংসতা ত্যাগ করে মূলধারায় যোগ দিয়েছেন। পি সুন্দররাজ বলেন, 'পূর্ববর্তী গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মাওবাদীদের কাছ থেকে ৭ কেজি সোনা, নগদ ২.৯২ কোটি টাকা এবং ৯৩টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে... আমরা এই দিনটিকে সমগ্র নকশাল- বিরোধী অভিযানের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছি।' এই প্রসঙ্গে পি সুন্দররাজ বলেন যে, ২৫ জন মাওবাদীরা আত্মসমর্পণ 'মিশন ২০২৬'-এর পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিনি আরও বলেন যে, বাকি ক্যাডাররাও একই পথ অনুসরণ করে মূলধারায় যোগ দেবে। একই সঙ্গে তিনি যৌথ বাহিনী, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় জনগণকেও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

এদিন আত্মসমর্পণের সময় বিভিন্ন ধরনের হ্যান্ডগান, রাইফেল, লোডার, এবং অন্যান্য যেসব আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হত, তা উদ্ধার করা হয়েছে। যৌথ বাহিনী জানিয়েছে, এই অস্ত্র নকশাল কার্যক্রমকে চালু রাখতে ব্যবহার করা হত। এগুলো উদ্ধার হওয়ার ফলে কেবল অস্ত্রের যোগান বন্ধ হয়নি, বরং অর্থনৈতিক দিক থেকেও মাওবাদীদের কর্মকাণ্ডে বড় ধাক্কা পড়েছে। এটি স্থানীয় জনগণের জন্য শান্তি এবং নিরাপত্তার আশ্বাস বহন করছে।