Nepal Flash Flood: চা বাঁচাল জীবন! নেপালের বিপর্যয়ে অলৌকিকভাবে বাঁচলেন ৩ রাজ্যের ২৮ পর্যটক

Nepal Flash Flood: গত বুধবার সকালে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বিপর্যয় নেমে আসে। নেপাল সরকারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন এই বন্যায় মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৭৩৪ ছাড়িয়ে গেছে। এখনও অন্তত ১,৫০০ মানুষ কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে বা জলের তোড়ে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ রয়েছেন।

Updated on: Aug 30, 2026, 22:02:51 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Nepal Flash Flood: যাত্রা পথে এক কাপ ধোঁয়া ওঠা গরম চা। চায়ের কাপে চেনা সে সুবাস। ছোট্ট বিরতি যেন হঠাৎ থমকে পড়া সময়ের এক অমূল্য উপহার। গরম কাপে চুমুক দিতেই শরীর আর মন এক নিমিষেই চাঙ্গা। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতেই শোনা গেলো যাত্রাপথে থাকা সামনের নদীতে ভয়াবহ বন্যায় ভেসে গেছে সব। ঘড়ির কাঁটার হিসেব কষে জানা গেল, রাস্তার পাশের চায়ের দোকানে সামান্য বিরতিটা না নিলে হয়তো সেই দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকতেন তাঁরা।

নেপালের বিপর্যয়ে অলৌকিকভাবে বাঁচলেন ৩ রাজ্যের ২৮ পর্যটক (AFP)
নেপালের বিপর্যয়ে অলৌকিকভাবে বাঁচলেন ৩ রাজ্যের ২৮ পর্যটক (AFP)

মৃত্যু ও ধ্বংসের কিনারায় দাঁড়িয়ে জীবন কতটা অলৌকিক হতে পারে, তার প্রমাণ দিলেন ভারত থেকে যাওয়া ২৮ জনের এক পুণ্যার্থীর দল। নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসে (Nepal Flash Flood) যখন বন্যা নেমেছে যখন ৭৩৪ জনের বেশি মানুষের প্রাণ গেছে এবং দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ, ঠিক তখনই সাক্ষাৎ মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে বাড়ি ফিরলেন কর্ণাটক, তামিলনাড়ু ও অন্ধ্রপ্রদেশের ২৮ জন কৈলাস-মানসরোবর যাত্রী। শনিবার নিজ নিজ শহরে ফিরে তাঁরা বেঁচে ফেরার অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে বলেন, তাঁদের জীবন বাঁচিয়েছে মাত্র একটি সিদ্ধান্ত। টাইমস অফ ইন্ডিয়া-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিরুপতির একটি ভ্রমণসংস্থার সঙ্গে নেপাল ভ্রমণে গিয়েছিলেন ওই ২৮ জন। ভ্রমণসংস্থার ম্যানেজার পেমেমাসিনি বেঙ্কটরমণ বলেন, 'নেপাল-তিব্বত সীমান্তের স্যাব্রুবেসীতে (Syabrubesi) সকাল সকাল পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল আমাদের। কিন্তু রাস্তায় গাড়ি থামানো হয় চা খাওয়ার জন্য। সেখানে ১০ মিনিট দেরিও হয়। চা খাওয়ার সময়েই আমাদের গাড়ির চালক খবর পান হড়পা বানের। সঙ্গে সঙ্গে তিনি গাড়িতে উঠতে বলেন আমাদের। এক মুহূর্ত বিলম্ব না করেই গাড়িতে উঠে বসি। তার পর দ্রুতগতিতে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান আমাদের।’

দলের আরও এক পুণ্যার্থী, তিরুপতির বাসিন্দা কল্পনা জানিয়েছেন, বুধবার সকাল সাড়ে ৬টায় হোটেল থেকে বার হন। ৮০ কিলোমিটার যাওয়ার পর সকলের চা খেতে ইচ্ছা করে। চালককে বলে গাড়ি থামানো হয়। কল্পনার কথায়, ‘আমরা যখন চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছি, তখনই চালক আমাদের জানালেন যে, হড়পা বান ধেয়ে আসছে। এখনই এই জায়গা ছাড়তে হবে। ভয়ে হাত-পা কাঁপছিল আমাদের।’' চোখের সামনে কী ভাবে একের পর এক বাড়ি, গাড়ি এবং মানুষ ভেসে যেতে দেখেছেন, সেই ভয়ঙ্কর দৃশ্যও বর্ণনা করেছেন তিনি। তবে চালকের তৎপরতায় তাঁরা এ যাত্রায় বেঁচে গিয়েছেন। নিরাপদে তাঁদের কাঠমান্ডুর হোটেলে আবার ফিরিয়ে আনেন চালক। ১ সেপ্টেম্বর তাঁদের ফেরার কথা ছিল নিজ নিজ রাজ্যে। কিন্তু বিপর্যয়ের কারণে শনিবারই ফিরে আসেন তাঁরা।

গত বুধবার সকালে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বিপর্যয় নেমে আসে। নেপাল সরকারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন এই বন্যায় মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৭৩৪ ছাড়িয়ে গেছে। এখনও অন্তত ১,৫০০ মানুষ কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে বা জলের তোড়ে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ রয়েছেন। হিমালয়ের উচ্চভাগে বিশাল হিমবাহ ও শিলাখণ্ড ভেঙে পড়ার (Glacial Collapse) ফলেই পার্বত্য নদীতে বিশাল জলস্ফীতি ঘটে। এই তীব্র কাদাস্রোত ও জলের তোড় মুহূর্তের মধ্যে তিব্বত-নেপাল সীমান্তের একাধিক গ্রামকে মানচিত্র থেকে মুছে দেয়। এই চরম বিপদের দিনে নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। জরুরি উদ্ধারকাজের পাশাপাশি পাঠানো হয়েছে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী (Disaster Relief)। ভারত ইতিমধ্যেই কাঠমান্ডুতে ত্রাণ সামগ্রী বোঝাই একাধিক বিশেষ বিমান পাঠিয়েছে। শুক্রবার পৌঁছানো তৃতীয় কিস্তির ত্রাণ সামগ্রী নেপালের মন্ত্রী মহাবীর পুনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ত্রাণ উপকরণের পাশাপাশি ভারত থেকে পাঠানো হয়েছে ১১ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল এবং উদ্ধারকারী দল। উদ্ধারকার্যে সাফল্য মিলেছে ভারতীয় নাগরিকদের ফিরিয়ে আনাতেও।