Pakistan Airstrike on Afghanistan: করাচি হামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা, নিহত ২৯
পাকিস্তান সরকারের দাবি, নিহত প্রত্যেকেই তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-র জঙ্গি। এই ঘটনাকে ঘিরে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের একাংশ।
করাচিতে সিন্ধ রেঞ্জার্সের সদর দপ্তরে জঙ্গি হামলায় চার পাকিস্তানি সেনা নিহত হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়েছে পাকিস্তান। রবিবার গভীর রাতে পাকিস্তান সেনার বিমান হামলায় অন্তত ২৯ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হওয়ার খবর মিলেছে। তবে পাকিস্তান সরকারের দাবি, নিহত প্রত্যেকেই তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-র জঙ্গি। এই ঘটনাকে ঘিরে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের একাংশ।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লা তারার জানান, প্রথমে আফগান সীমান্ত সংলগ্ন খাইবার পাখতুনখোয়ার বাজাউর জেলায় স্থলপথে অভিযান চালায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। সেই অভিযানে টিটিপির অন্যতম শীর্ষ কমান্ডার খান ফরোশ-সহ চার জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে তাঁর দাবি। এরপর আফগানিস্তানের পাকতিয়া, পাকতিকা এবং কুনার প্রদেশে একাধিক কথিত জঙ্গি ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়। পাকিস্তানের দাবি, ওই হামলায় আরও ২৫ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে।
আতাউল্লা তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক বার্তায় বলেন, অভিযানে একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি, অস্ত্রভাণ্ডার এবং বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ধ্বংস করা হয়েছে। তাঁর দাবি, পাকিস্তান সবসময় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাসী হলেও দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস করবে না। তিনি আরও বলেন, এই বিমান হামলায় শুধুমাত্র তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের ঘাঁটিগুলোকেই নিশানা করা হয়েছে।
তবে পাকিস্তানের এই দাবির বিষয়ে এখনও পর্যন্ত আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। অতীতে পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী অভিযানের ক্ষেত্রে কাবুল বহুবার বেসামরিক নাগরিক হতাহতের অভিযোগ তুলেছে। তবে এবারের ঘটনায় তারা এখনও কোনও বিবৃতি দেয়নি।
গত কয়েক মাস ধরে পাকিস্তানে সেনাবাহিনী ও পুলিশের ওপর একাধিক জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইসলামাবাদের অভিযোগ, এসব হামলার পেছনে টিটিপির ভূমিকা রয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালিবান ক্ষমতায় ফেরার পর সীমান্তবর্তী এলাকায় টিটিপির কার্যকলাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এছাড়া আফগান তালিবান সরকার টিটিপিকে নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে বলেও পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে। যদিও কাবুল সরকার বরাবরই সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এরই মধ্যে শনিবার করাচির গুলিস্তান-ই-জওহর এলাকায় সিন্ধ রেঞ্জার্সের ভিট্টাই উইং সদর দপ্তরে জঙ্গি হামলায় চার পাকিস্তানি সেনা নিহত হন। বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিরাপত্তা বলয় ভাঙার পর হামলাকারীরা এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণ করে বলে পাকিস্তানের দাবি। ওই হামলার পেছনেও টিটিপির মদত রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে ইসলামাবাদ।
সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলা সীমান্ত পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিরোধ নতুন করে জটিল আকার ধারণ করতে পারে, যদি কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা না যায়।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


